সকল সামাজিক ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে জোরালো আহ্বান, প্রতিবন্ধী ভাতা ৫ হাজার টাকা করার দাবি
দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ভাতাভোগীদের জীবনযাপন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে বয়স্ক, বিধবা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী বর্তমানে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার পরিমাণ মাসিক ৬৫০ টাকা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ভাতা ৬৫০ টাকা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৮৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও আগের বছরের তুলনায় এসব ভাতায় কিছুটা বৃদ্ধি আনা হয়েছে, তবুও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই অর্থকে অনেকেই অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মতে, বর্তমান ভাতার অর্থ দিয়ে মাসের ন্যূনতম খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, চলাচল ও বিশেষ চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত ব্যয় হওয়ায় বর্তমান ৯০০ টাকার ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা মাসিক নির্ধারণের দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা নারী ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক ভাতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
দাবিদারদের মতে, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সামাজিক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে লাখো নিম্নআয়ের পরিবার আর্থিক স্বস্তি পাবে এবং সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এককালীন ভাতা বৃদ্ধি নয়, প্রতিবছর দেশের মূল্যস্ফীতির হার ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাতার পরিমাণ পুনর্নির্ধারণের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা চালু করা উচিত। এর ফলে ভাতাভোগীরা বাস্তব সুবিধা পাবেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।
প্রস্তাবিত দাবিসমূহ
- অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কমপক্ষে ৫,০০০ টাকা করা।
- বয়স্ক ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।
- বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা নারী ভাতা বৃদ্ধি করা।
- মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতা বাড়ানো।
- অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা বৃদ্ধি করা।
- মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবছর ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করা।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দেশের লাখো মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে সামাজিক ভাতাগুলোকে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী করার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। “মানুষের কল্যাণেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন”— এই নীতিকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মহল সরকারের দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।

