সিগারেটের দাম বাড়িয়ে এসআরও জারি, নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্যাকেট ৬৫ টাকা
দেশে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ ও প্যাকেটজাতকরণসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করে এ বিষয়ে নতুন এসআরও জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৫ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এ স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ছিল ৬২ টাকা।
এনবিআরের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, এসআরও নং ৩৪০-আইন/২০২৬/৩৭১-মূসক জারির মাধ্যমে ‘তামাকজাত সিগারেটের মূল্য নির্ধারণসহ উহার প্যাকেটে স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহার পদ্ধতি বিধিমালা, ২০১৯’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এবং এতে সংশোধিত মূল্য ও প্যাকেটের ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে।
চার স্তরের সিগারেটের মূল্য
নতুন এসআরওতে সিগারেটের চারটি মূল্যস্তরের মধ্যে নিম্নস্তরের দামই বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী—
| সিগারেটের স্তর | ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য |
|---|---|
| নিম্নস্তর | ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব |
| মধ্যম স্তর | ৯২ টাকা ও তদূর্ধ্ব |
| উচ্চ স্তর | ১৬০ টাকা ও তদূর্ধ্ব |
| অতি উচ্চ স্তর | ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব |
অর্থাৎ, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ স্তরের ক্ষেত্রে নতুন এসআরওতে আগের নির্ধারিত মূল্য যথাক্রমে ৯২, ১৬০ ও ২১০ টাকা বা তার বেশি বহাল রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এনবিআরের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতেও নিম্নস্তরের দাম ৬২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিম্নস্তরের সিগারেটে ৩ টাকা বৃদ্ধি
নতুন সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নিম্নস্তরের সিগারেটে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। এবার সেই মূল্য আরও ৩ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হলো।
ফলে ১০ শলাকার একটি নিম্নস্তরের প্যাকেটের নির্ধারিত মূল্য ৬৫ টাকা হলে প্রতি শলাকার হিসাব দাঁড়ায় ৬ টাকা ৫০ পয়সা। তবে এসআরওতে ‘৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব’ বলা হয়েছে, অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট স্তরের পণ্যের ক্ষেত্রে ৬৫ টাকা ন্যূনতম নির্ধারিত খুচরা মূল্য হিসেবে কার্যকর হবে।
প্যাকেটের ধরন ও ডিজাইনেও নির্দিষ্টতা
শুধু মূল্য নয়, নতুন এসআরওতে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের প্যাকেটের শলাকা সংখ্যা, মোড়কের প্রকৃতি, ডিজাইন এবং প্যাকেটে স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহারের বিষয়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
নিম্নস্তরের ৬৫ টাকা বা তদূর্ধ্ব মূল্যের ক্ষেত্রে ১০ ও ২০ শলাকার প্যাকেটের বিভিন্ন ধরন এবং সংশ্লিষ্ট ডিজাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্যাকেটে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহার করতে হবে।
একইভাবে ৯২ টাকা, ১৬০ টাকা এবং ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব মূল্যস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও শলাকার সংখ্যা, মোড়কের ধরন, ডিজাইন এবং স্ট্যাম্প ব্যবহারের নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কার্যকর হবে অবিলম্বে
প্রজ্ঞাপনের শেষাংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে। অর্থাৎ সংশোধিত মূল্য ও সংশ্লিষ্ট প্যাকেটজাতকরণবিষয়ক বিধান কার্যকর হওয়ার জন্য আলাদা কোনো অপেক্ষার সময় রাখা হয়নি।
এনবিআরের নথিতে চলতি বছর তামাকজাত পণ্যের মূল্য ও সম্পূরক শুল্কসংক্রান্ত একাধিক প্রজ্ঞাপন জারির তথ্যও রয়েছে। জুন মাসে সিগারেটসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্কের হারসংক্রান্ত নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।
কেন আবার দাম বাড়ল
সিগারেটের দাম ও কর কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও সামনে আসে। বাজেট ঘোষণায় বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তবে সর্বশেষ এসআরওতে নিম্নস্তরের সিগারেটের নির্ধারিত মূল্য ৬২ টাকা থেকে ৬৫ টাকা করা হয়েছে, আর বাকি তিনটি স্তরের মূল্য ৯২, ১৬০ এবং ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন এসআরওর ফলে বাজারে কমদামি সিগারেটের ক্ষেত্রে ১০ শলাকার প্যাকেটের নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্য ৩ টাকা বেড়ে ৬৫ টাকা হলো। পাশাপাশি প্যাকেটের শলাকা সংখ্যা, মোড়ক, ডিজাইন এবং স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহারের নিয়মও সংশোধিত বিধান অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে নতুন মূল্য ও প্যাকেটসংক্রান্ত বিধান প্রয়োগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

