BRTA Information

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার নিয়ম ২০২৬: আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে, ধাপে ধাপে জানুন

বাংলাদেশে বৈধভাবে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্যান্য মোটরযান চালাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালে নতুন লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়ার বড় অংশ অনলাইনে সম্পন্ন করা যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BRTA) Service Portal—BSP-এর মাধ্যমে। এই পোর্টালে শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স, নবায়ন, ডুপ্লিকেটসহ বিভিন্ন সেবার আবেদন ও ফি পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে শুধু অনলাইনে আবেদন করলেই লাইসেন্স পাওয়া যায় না। নতুন আবেদনকারীকে প্রথমে শিক্ষানবিশ বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হয়, এরপর নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

২০২৬ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন?

BRTA-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি পাস হতে হবে।

বয়সের ক্ষেত্রে—

  • অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: কমপক্ষে ১৮ বছর
  • পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স: কমপক্ষে ২১ বছর

এ ছাড়া আবেদনকারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে গাড়ি চালানোর উপযুক্ত হতে হবে।

প্রথম ধাপ: লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স

নতুন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স। BRTA-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী এ পর্যায়ে নির্ধারিত ফরমে আবেদন, মেডিকেল সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র এবং ফি জমার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হয়।

লার্নার লাইসেন্সের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে

BRTA-এর তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলো—

১. নির্ধারিত আবেদন ফরম
BRTA-এর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় ফরম BRTA-এর ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়।

২. মেডিকেল সার্টিফিকেট
নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া নির্ধারিত মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। BRTA আলাদাভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেডিকেল সার্টিফিকেটের ফরম প্রকাশ করেছে।

৩. পরিচয়পত্রের কপি
নিম্নের যেকোনো প্রযোজ্য পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি প্রয়োজন—

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • জন্মনিবন্ধন সনদ
  • পাসপোর্ট

BRTA-এর প্রকাশিত নির্দেশনায় এসব নথির কথা উল্লেখ রয়েছে।

৪. লাইসেন্স ফি জমার রশিদ
লার্নার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে BRTA-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এক ক্যাটাগরির জন্য ৩৪৫ টাকা এবং দুই ক্যাটাগরির জন্য ৫১৮ টাকা ফি উল্লেখ আছে। তবে আবেদন করার আগে BSP-এর বর্তমান Fee Calculator-এ প্রযোজ্য ফি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফি ও প্রক্রিয়াগত তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।

৫. ছবি
BRTA-এর প্রকাশিত তালিকায় সদ্য তোলা ৩ কপি স্ট্যাম্প সাইজ ও ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি উল্লেখ রয়েছে।

অনলাইনে আবেদন কীভাবে করবেন?

২০২৬ সালে আবেদনকারী প্রথমে BRTA Service Portal (BSP)-এ অ্যাকাউন্ট খুলে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য আবেদন করতে পারেন। BSP-তে ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এবং ফি ক্যালকুলেটরের সুবিধা রয়েছে।

প্রক্রিয়াটি সহজভাবে এমন—

BSP-তে নিবন্ধন → লার্নার লাইসেন্সের আবেদন → প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র → ফি পরিশোধ → লার্নার লাইসেন্স → নির্ধারিত পরীক্ষা → উত্তীর্ণ → স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের আবেদন → বায়োমেট্রিক → লাইসেন্স ইস্যু।

BSP-তে নিবন্ধনের সময় NID-সংক্রান্ত তথ্য ও মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়।

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর কী করতে হবে?

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আবেদনকারীকে ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। BRTA-এর তথ্য অনুযায়ী পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে—

  • লিখিত পরীক্ষা
  • মৌখিক পরীক্ষা
  • ফিল্ড/ব্যবহারিক পরীক্ষা

এই পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরবর্তী আবেদন করা যায়। BSP-তে ড্রাইভিং পরীক্ষার ফলাফল দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

পরীক্ষায় পাস করার পর স্মার্টকার্ড লাইসেন্স

লার্নার পর্যায়ের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে আবেদনকারীকে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় ফরম, নথি ও ফি জমা দিতে হয়।

স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

BRTA-এর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী—

১. নির্ধারিত আবেদন ফরম
২. নিবন্ধিত চিকিৎসকের মেডিকেল সার্টিফিকেট
৩. NID/জন্মসনদ/পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি
৪. নির্ধারিত ফি জমার রশিদ
৫. পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন
৬. সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

স্মার্টকার্ড পেতে বায়োমেট্রিক দিতে হবে

স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা ও পরীক্ষা পাস করলেই প্রক্রিয়া শেষ নয়; বায়োমেট্রিক ধাপটিও সম্পন্ন করতে হবে।

স্মার্টকার্ড প্রিন্টিংয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে লাইসেন্স গ্রহণের বিষয়ে জানানো হয়—BRTA-এর প্রকাশিত নির্দেশনায় এমনটাই বলা হয়েছে।

২০২৬ সালে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সের সুবিধাও রয়েছে

বর্তমান BRTA Service Portal-এ ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত সুবিধাও রয়েছে। BRTA এ বিষয়ে আলাদা টিউটোরিয়াল প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে BSP-তে QR কোডের মাধ্যমে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নির্দিষ্ট ই-সনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

অর্থাৎ লাইসেন্স-সংক্রান্ত অনেক কাজ এখন আগের তুলনায় বেশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা সম্ভব।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে মোট কত টাকা লাগবে?

এখানে আবেদনকারীদের একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। লার্নার লাইসেন্সের ফি এবং স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি আলাদা। আবার অপেশাদার ও পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও ফি ভিন্ন হতে পারে।

BRTA-এর বর্তমান প্রকাশিত ড্রাইভিং লাইসেন্স তথ্যপেজে স্মার্টকার্ডের জন্য পেশাদার ১,৪৩৮ টাকা এবং অপেশাদার ২,৩০০ টাকা উল্লেখ রয়েছে। তবে BRTA নিজেই ফি-সংক্রান্ত তথ্য ও অনলাইন Fee Calculator ব্যবহার করার সুবিধা দিয়েছে; তাই আবেদন করার দিন BSP-তে প্রদর্শিত প্রযোজ্য ফি যাচাই করাই নিরাপদ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে

বিষয় প্রয়োজনীয় তথ্য
অপেশাদার লাইসেন্সের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর
পেশাদার লাইসেন্সের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর
ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণি পাস
প্রথম ধাপ লার্নার লাইসেন্স
মেডিকেল সার্টিফিকেট নিবন্ধিত চিকিৎসকের
পরিচয়পত্র NID/জন্মসনদ/পাসপোর্ট
পরীক্ষা লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট
পরীক্ষায় পাসের পর স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের আবেদন
বায়োমেট্রিক ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ
পেশাদার লাইসেন্স পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন
অনলাইন সেবা BRTA Service Portal (BSP)

আবেদন করার আগে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করতে গিয়ে অনেকেই শুধু ফি পরিশোধ করাকেই মূল বিষয় মনে করেন। বাস্তবে সঠিক NID তথ্য, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে অনলাইনে আবেদন করার আগে নিজের NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অনলাইনে আবেদন করলেও যেখানে BRTA সরাসরি উপস্থিতি বা বায়োমেট্রিক চায়, সেখানে আবেদনকারীকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

শেষ কথা

২০২৬ সালে বাংলাদেশে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত লার্নার লাইসেন্স → প্রশিক্ষণ/প্রস্তুতি → লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট → পরীক্ষায় উত্তীর্ণ → স্মার্টকার্ডের আবেদন → বায়োমেট্রিক → লাইসেন্স ইস্যু—এই ধারায় এগোয়। BRTA-এর BSP বর্তমানে লার্নার ও স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবার অনলাইন আবেদন ও ফি পরিশোধের সুযোগ দিচ্ছে।

অফিসিয়াল আবেদন ও ফি যাচাই: BRTA Service Portal (BSP)
ড্রাইভিং লাইসেন্সের অফিসিয়াল তথ্য: BRTA Driving License তথ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *