জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ল, ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সুযোগ
জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিলের সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে নির্ধারিত সময়ে জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের রিটার্ন দাখিল করতে না পারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলো।
এনবিআরের ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের আদেশে এ সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আদেশে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন বাড়ানো হলো সময়
এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্ন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধান কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগের বিষয়টি বিবেচনায় আসে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিল করেনি।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে এনবিআর নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
অর্থাৎ, এটি শুধু সাধারণ সময় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নয়; বরং ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সংশোধিত সময়সূচি নিয়ে তৈরি হওয়া বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
নতুন সময়সীমা কতদিন
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
- কর মেয়াদ: জুলাই ২০২৬
- কর মেয়াদ: আগস্ট ২০২৬
- রিটার্ন দাখিলের মাধ্যম: eVAT System
- নতুন শেষ সময়: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
- আদেশের তারিখ: ১ অক্টোবর ২০২৬
- আইনি ভিত্তি: মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪(৩)
ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে রিটার্ন দাখিলের জন্য আরও সময় থাকছে।
সেপ্টেম্বরের রিটার্নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
এনবিআরের আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শুধু জুলাই ও আগস্ট মাসের রিটার্নের সময়সীমা বাড়ানো হলেও জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন eVAT সিস্টেমে দাখিল করার বিষয়টি আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যক্তিদের জুলাই ও আগস্টের বকেয়া রিটার্নের পাশাপাশি সেপ্টেম্বর কর মেয়াদের রিটার্নের বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে।
কারা এই সুযোগ পাবেন
সময় বৃদ্ধির সুবিধাটি মূলত জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন নির্ধারিত সময়ে eVAT সিস্টেমে দাখিল করতে পারেনি—এমন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য।
অর্থাৎ, সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করতে পারবে।
তবে সময় বাড়ানো হয়েছে বলে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা বাতিল হয়নি। বরং নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।
eVAT ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আসছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিধানের পরিবর্তনের ফলে রিটার্ন দাখিলের সময়সূচি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক eVAT ব্যবস্থার মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলকে কেন্দ্র করে করদাতাদের নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ ও সময়মতো তথ্য প্রস্তুতের গুরুত্বও বাড়ছে।
এনবিআরের এই নতুন আদেশে মূলত একটি বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে—জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্ন দাখিল না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এখন করণীয়
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—
প্রথমত, জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের বিক্রয়, ক্রয়, ভ্যাট ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের তথ্য যাচাই করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, eVAT সিস্টেমে রিটার্ন দাখিলের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, জুলাই ও আগস্টের রিটার্ন ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দাখিল করতে হবে।
চতুর্থত, সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের রিটার্নের জন্যও আলাদাভাবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।
পঞ্চমত, রিটার্ন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট দাখিলের প্রমাণ, চালান বা সিস্টেম জেনারেটেড রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা উচিত।
শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমা না দেওয়াই নিরাপদ
বর্ধিত সময়সীমা পাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান শেষ দিনের জন্য রিটার্ন দাখিল পিছিয়ে দিতে পারে। তবে অনলাইন সিস্টেমে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে ব্যবহারকারীরা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ১৫ অক্টোবরকে চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়সীমা হিসেবে ধরে দ্রুত রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত হবে।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রিটার্ন | অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন |
| সিস্টেম | eVAT |
| কর মেয়াদ | জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ |
| বর্ধিত সময় | ১৫ অক্টোবর ২০২৬ |
| আদেশের তারিখ | ১ অক্টোবর ২০২৬ |
| কর্তৃপক্ষ | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) |
| আইনি ভিত্তি | ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪(৩) |
| সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংশ্লিষ্ট রিটার্নও eVAT সিস্টেমে দাখিলের নির্দেশনা রয়েছে |
শেষ কথা
এনবিআরের ১ অক্টোবরের সিদ্ধান্তে জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের জন্য ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত ভ্যাট রিটার্ন ব্যবস্থার কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করতে পারেনি, তাদের জন্য এটি অতিরিক্ত সুযোগ।
তবে এই সময়সীমাকে নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের সময়সূচি হিসেবে না দেখে বর্ধিত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত জুলাই-আগস্টের রিটার্ন দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেপ্টেম্বর কর মেয়াদের রিটার্নের প্রস্তুতিও সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়া।

