অনলাইনে আয়কর দেওয়ার নিয়ম ২০২৬ । কত টাকা আয় করলে রিটার্ন জমা দিতে হয়?
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬–২০২৭ অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকার বেশি হলে করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। তবে শুধু আয় ৪ লাখ টাকার বেশি হলেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়—কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও পেশার ক্ষেত্রে আয় কম হলেও আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।
কত টাকা আয় হলে রিটার্ন দিতে হবে?
| করদাতার ধরন | বার্ষিক আয় সীমা অতিক্রম করলে রিটার্ন |
|---|---|
| সাধারণ ব্যক্তি | ৪,০০,০০০ টাকার বেশি |
| নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব | ৪,৫০,০০০ টাকার বেশি |
| তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি | ৫,২৫,০০০ টাকার বেশি |
| গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা | ৫,৫০,০০০ টাকার বেশি |
গুরুত্বপূর্ণ: ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় সাধারণ ব্যক্তির জন্য করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও, এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক ব্যক্তিই রিটার্ন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি পাবেন। যেমন—নির্দিষ্ট সরকারি কর্মচারী, কোম্পানির পরিচালক/শেয়ারহোল্ডার, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পদে কর্মরত ব্যক্তি ইত্যাদির জন্য আলাদাভাবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।
২০২৬–২৭ করবর্ষে করের প্রথম ধাপ
নির্দেশিকা অনুযায়ী সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে—
- প্রথম ৪ লাখ টাকা — ০%
- পরবর্তী ৩ লাখ টাকা — ১০%
- পরবর্তী ৪ লাখ টাকা — ১৫%
- পরবর্তী ৫ লাখ টাকা — ২০%
- পরবর্তী ২০ লাখ টাকা — ২৫%
- অবশিষ্ট আয় — ৩০%
অর্থাৎ রিটার্ন দাখিল করা এবং আয়কর পরিশোধ করা একই বিষয় নয়। কারও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে, কিন্তু করমুক্ত সীমা ও অন্যান্য হিসাবের কারণে তার প্রদেয় আয়কর শূন্যও হতে পারে।
অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম
২০২৬–২৭ করবর্ষে অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে e-Return দাখিলের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। NBR-এর নির্দেশিকায় e-Return ব্যবস্থায় নিবন্ধনের জন্য TIN এবং নিজের NID-তে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন বলে উল্লেখ আছে।
ধাপে ধাপে
১. e-Return ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
NBR e-Return
২. প্রথমবার হলে Registration করুনI am not registered yet অপশনে গিয়ে TIN ও মোবাইল নম্বর দিন। এরপর OTP যাচাই করে পাসওয়ার্ড সেট করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
৩. Sign in করুন
TIN ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করে Return Submission নির্বাচন করতে হবে।
৪. আয় ও অন্যান্য তথ্য দিন
নির্দেশিকা অনুযায়ী আয়, বিনিয়োগ, পারিবারিক ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং পরিশোধিত করের তথ্য ধাপে ধাপে দিতে হয়।
৫. Tax & Payment অংশে যান
প্রযোজ্য কর থাকলে অনলাইনে কর পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইন ব্যবস্থায় ব্যাংক ট্রান্সফার, কার্ড এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধের সুবিধার কথাও জানানো হয়েছে।
৬. Return Submit করুন
সব তথ্য যাচাই করে রিটার্ন সাবমিট করলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ/স্বীকৃতিপত্র সংগ্রহ করা যায়। নির্দেশিকাতেও e-Return ব্যবস্থায় রিটার্ন দাখিলের পর acknowledgement ও tax certificate পাওয়ার সুবিধা উল্লেখ আছে।
অনলাইনে রিটার্ন বাধ্যতামূলক কার জন্য?
NBR ২০২৬–২৭ করবর্ষে ব্যক্তিশ্রেণির অধিকাংশ স্বাভাবিক করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্নকে বাধ্যতামূলক করেছে। NBR-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী কিছু ব্যতিক্রমের মধ্যে রয়েছে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, সনদপত্রসহ শারীরিকভাবে অসমর্থ/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।
সারকথা: ২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত সীমায়, আর ৪ লাখ টাকার বেশি আয় হলে করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিলের প্রশ্ন আসে। তবে আয় কম হলেও আইনগতভাবে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক এমন শ্রেণিতে পড়লে রিটার্ন দিতে হবে। NBR-এর ২০২৬–২৭ আয়কর নির্দেশিকাটি ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে।

