পল্লী বিদ্যুৎ বিল হিসাব ২০২৬ । কিভাবে বিদ্যুৎ বিল হিসাব করতে হয়?
২০২৬ সালে পল্লী বিদ্যুতের আবাসিক বিল হিসাব করতে শুধু মোট ইউনিট × একটি নির্দিষ্ট ইউনিট মূল্য করলেই হবে না। ব্যবহার যত বাড়বে, নির্দিষ্ট সীমা পার হওয়ার পর পরবর্তী ইউনিটগুলো উচ্চতর স্ল্যাবের দরে হিসাব হবে। এর সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ, মিটার/অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ এবং ভ্যাট যুক্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ৪ জুন ২০২৬-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুন ২০২৬ বিল মাস থেকে আবাসিক লাইফলাইন ০–৫০ ইউনিটে ৪.৬৩ টাকা এবং ০–৭৫ ইউনিটের প্রথম ধাপে ৫.২৬ টাকা/ইউনিট বহাল রাখা হয়েছে।
২০২৬ সালের আবাসিক ইউনিটের হার
| ব্যবহারের পরিমাণ | প্রতি ইউনিটের হার |
|---|---|
| ০–৫০ ইউনিট (লাইফলাইন) | ৪. |
| ৬৩ টাকা | ০–৭৫ ইউনিট | ৫. |
| ২৬ টাকা | ৭৬–২০০ ইউনিট | ৮. |
| ৫০ টাকা | ২০১–৩০০ ইউনিট | ৯. |
| ১০ টাকা | ৩০১–৪০০ ইউনিট | ৯. |
| ৬২ টাকা | ৪০১–৬০০ ইউনিট | ১৫. |
| ০১ টাকা | ৬০০ ইউনিটের বেশি | ১৭. |
| ৩৫ টাকা | |
উপরের স্ল্যাবভিত্তিক হিসাবটি জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর আবাসিক ট্যারিফের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েবসাইটেও ২০২৬ সালের খুচরা মূল্যহার সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
৫০ ইউনিট ব্যবহার করলে
৫০ ইউনিট × ৪.৬৩ টাকা = ২৩১.৫০ টাকা
এটি শুধু এনার্জি চার্জ। চূড়ান্ত বিলের সঙ্গে অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ ও ভ্যাট যোগ হতে পারে।
৭৫ ইউনিট ব্যবহার করলে
৭৫ × ৫.২৬ = ৩৯৪.৫০ টাকা
অর্থাৎ ৭৫ ইউনিটের এনার্জি চার্জ হবে ৩৯৪ টাকা ৫০ পয়সা।
১০০ ইউনিট ব্যবহার করলে
এখানে পুরো ১০০ ইউনিটকে ৫.২৬ টাকা দিয়ে গুণ করা যাবে না। প্রথম ৭৫ ইউনিট এবং পরবর্তী ২৫ ইউনিট আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।
প্রথম ৭৫ ইউনিট:
৭৫ × ৫.২৬ = ৩৯৪.৫০ টাকা
পরের ২৫ ইউনিট:
২৫ × ৮.৫০ = ২১২.৫০ টাকা
মোট এনার্জি চার্জ:
৩৯৪.৫০ + ২১২.৫০ = ৬০৭ টাকা
এর সঙ্গে প্রযোজ্য ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জ যোগ হলে চূড়ান্ত বিল আরও বেশি হবে।
২০০ ইউনিটের বিল কীভাবে হিসাব করবেন?
২০০ ইউনিট হলে—
৭৫ × ৫.২৬ = ৩৯৪.৫০ টাকা
পরবর্তী ১২৫ ইউনিট:
১২৫ × ৮.৫০ = ১,০৬২.৫০ টাকা
সুতরাং এনার্জি চার্জ:
৩৯৪.৫০ + ১,০৬২.৫০ = ১,৪৫৭ টাকা।
এরপর বিলের অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ যোগ করতে হবে।
৩০০ ইউনিটের উদাহরণ
৩০০ ইউনিট ব্যবহারে—
- প্রথম ৭৫ ইউনিট = ৭৫ × ৫.২৬ = ৩৯৪.৫০ টাকা
- ৭৬–২০০ = ১২৫ × ৮.৫০ = ১,০৬২.৫০ টাকা
- ২০১–৩০০ = ১০০ × ৯.১০ = ৯১০ টাকা
অর্থাৎ মোট এনার্জি চার্জ:
৩৯৪.৫০ + ১,০৬২.৫০ + ৯১০ = ২,৩৬৭ টাকা।
এটি এখনো চূড়ান্ত বিল নয়; অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ ও ভ্যাট যোগ হতে পারে।
বিলের চূড়ান্ত হিসাবের সূত্র
সহজভাবে বলা যায়—
মোট বিল = এনার্জি চার্জ + ডিমান্ড চার্জ + মিটার/অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ + VAT − প্রযোজ্য সমন্বয়/রিবেট
তাই একই পরিমাণ ইউনিট ব্যবহার করলেও মিটার ও সংযোগের ধরন, অনুমোদিত লোড এবং প্রযোজ্য অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী চূড়ান্ত বিলের অঙ্ক ভিন্ন হতে পারে।
কেন হঠাৎ বিদ্যুৎ বিল বেশি আসতে পারে?
২০২৬ সালে বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তির বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ট্যারিফ পরিবর্তন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উচ্চতর স্ল্যাবে চলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে ২০০, ৩০০, ৪০০, ৬০০ ইউনিটের সীমা অতিক্রম করলে পরবর্তী ইউনিটগুলো উচ্চতর দরে হিসাব হওয়ায় মোট বিল দ্রুত বাড়তে পারে।
পল্লী বিদ্যুতের বিল অনলাইনে দেওয়া যায়
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন গ্রাহকদের জন্য অনলাইনে বিল পরিশোধের ব্যবস্থাও রয়েছে।
কোনো বিল নিয়ে সমস্যা হলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কল সেন্টার ১৬৮৯৯-এ যোগাযোগ করা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
উপরের হিসাবগুলো আবাসিক সংযোগের উদাহরণ। বাণিজ্যিক, শিল্প বা অন্যান্য শ্রেণির সংযোগের ট্যারিফ আলাদা হতে পারে। আবার প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারের বিলিং পদ্ধতিতেও পার্থক্য থাকতে পারে। তাই আপনার হাতে থাকা প্রকৃত বিলের ইউনিট, অনুমোদিত লোড ও চার্জের ঘরগুলো দেখে চূড়ান্ত হিসাব করতে হবে।

