পে ফিক্সেশন হচ্ছে না কেন? ৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিভাগের জন্য নতুন ধাপ, জানুন পুরো প্রক্রিয়া
সাভারে পে ফিক্সেশন হচ্ছে না কেন? ৮ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিভাগের জন্য নতুন ধাপ, জানুন পুরো প্রক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন পে ফিক্সেশন। ৫ অক্টোবর থেকে এ কার্যক্রম শুরু হলেও দেশের সব সরকারি অফিসে একই দিনে পে ফিক্সেশন চালু হয়নি। iBAS++-এর Pay Fixation-2026 মডিউল ধাপে ধাপে বিভিন্ন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে অনেক সরকারি কর্মচারী iBAS++-এ প্রবেশ করে পে ফিক্সেশন করতে গিয়ে একটি বিশেষ বার্তা দেখতে পাচ্ছেন—
“Sorry, this feature is not currently released for your office. Please follow the notice.”
ফলে প্রশ্ন উঠেছে—পে ফিক্সেশন বন্ধ হয়ে গেছে, নাকি সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য এখনো মডিউল চালু হয়নি?
বিশেষ করে সাভার, ঢাকা এলাকার সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে স্ক্রিনে উল্লিখিত বার্তার অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি ব্যক্তিগতভাবে পে ফিক্সেশন বাতিল হওয়ার বার্তা নয়; বরং সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য ফিচারটি এখনো সক্রিয় না হওয়ার নির্দেশনা।
৫ অক্টোবর শুরু হলেও সবার জন্য একসঙ্গে নয়
অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোর পে ফিক্সেশন iBAS++-এর মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ৫ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—৫ অক্টোবর মানেই দেশের প্রত্যেক সরকারি কর্মচারীর জন্য পে ফিক্সেশন অপশন খুলে যাওয়া নয়।
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী হিসাবরক্ষণ কার্যালয় ও অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে মডিউল চালু করা হচ্ছে। Bangladesh Service Rules
পে ফিক্সেশনের ধাপভিত্তিক সময়সূচি
| তারিখ | সংশ্লিষ্ট এলাকা/কার্যালয় |
|---|---|
| ১ অক্টোবর ২০২৬ | নির্ধারিত কেন্দ্রীয়/বিশেষ হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ৫ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকার সংশ্লিষ্ট CAO/হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ৮ অক্টোবর ২০২৬ | ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট DAO/UAO |
| ১২ অক্টোবর ২০২৬ | চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় |
| ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় |
| ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | খুলনা ও বরিশালের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় |
এই সময়সূচি অনুযায়ী ৮ অক্টোবর ঢাকা বিভাগের সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের হিসাবরক্ষণ কার্যালয়গুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে ৮ অক্টোবরেই পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হবে—এমন নিশ্চয়তা এই সূচি দেয় না। কারণ সংশ্লিষ্ট অফিসের মডিউল সক্রিয় হওয়া এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত। Bangladesh Service Rules
সাভারে কেন এখনো ‘Feature Not Released’ দেখাচ্ছে?
সাভার ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। তাই সাভারের কোনো অফিসে ৭ অক্টোবর iBAS++-এ প্রবেশ করে যদি দেখা যায়—
“This feature is not currently released for your office”
তাহলে এর সরাসরি অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য Pay Fixation ফিচারটি সিস্টেমে এখনো সক্রিয় করা হয়নি।
এটিকে—
- NID ভুল,
- জন্মতারিখ ভুল,
- চাকরির তথ্য বাতিল,
- পে ফিক্সেশন বাতিল,
- নতুন পে স্কেল থেকে বাদ পড়া
—এর কোনোটি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
বরং বার্তাটিই নির্দেশ করছে যে ব্যবহারকারীর অফিসের জন্য ফিচারটি এখনো রিলিজ হয়নি।
৮ অক্টোবর কি সাভারে পে ফিক্সেশন চালু হবে?
প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী ৮ অক্টোবর ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট DAO/UAO পর্যায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। Bangladesh Service Rules
তাই সাভারের কর্মচারীদের জন্য ৮ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। তবে এখানে একটি সতর্কতা রয়েছে।
ঢাকা বিভাগ ৮ অক্টোবরের আওতায় আসবে—এর অর্থ এই নয় যে ঢাকা বিভাগের প্রতিটি অফিসে রাত ১২টা বা সকাল নির্দিষ্ট সময়ে একই সঙ্গে ফিচারটি চালু হয়ে যাবে।
কোন অফিস কোন হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের আওতায়, সংশ্লিষ্ট অফিসের তথ্য প্রস্তুতির অবস্থা এবং iBAS++-এ রিলিজ কার্যক্রম—এসবের ওপর বাস্তব চালুর সময় নির্ভর করতে পারে।
অর্থাৎ, ৮ অক্টোবর মডিউল চালু হওয়ার পরও কোনো নির্দিষ্ট অফিসে সাময়িকভাবে আগের বার্তাটি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করাই যুক্তিযুক্ত।
পে ফিক্সেশন করতে কী কী তথ্য লাগবে?
পে ফিক্সেশন চালু হওয়ার আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে—
- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য;
- জন্মতারিখ;
- বর্তমান পদ;
- বর্তমান গ্রেড;
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ;
- বর্তমান মূল বেতন;
- পূর্বের পে ফিক্সেশনের তথ্য;
- পদোন্নতির তথ্য;
- বদলির তথ্য;
- টাইম স্কেল;
- সিলেকশন গ্রেড;
- উচ্চতর গ্রেড;
- সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও প্রমাণপত্র।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রস্তুত রাখার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে পূর্বের পে ফিক্সেশন, পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ
পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় নন-গেজেটেড কর্মচারীদের তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান মূল বেতন দেখলেই হবে না। চাকরিজীবনে এর আগে কীভাবে বেতন নির্ধারণ হয়েছে, পদোন্নতি হয়েছে কি না, উচ্চতর গ্রেড পাওয়া হয়েছে কি না—এসব তথ্যও বিবেচনায় আসতে পারে।
তাই আগের বেতন নির্ধারণের কাগজপত্র বা অফিস আদেশে কোনো অসঙ্গতি থাকলে সেটি আগে থেকেই যাচাই করে রাখা ভালো।
পে ফিক্সেশন শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই শেষ নয়
অনেকে মনে করছেন iBAS++-এ তথ্য দিয়ে সাবমিট করলেই পে ফিক্সেশন শেষ। বাস্তবে প্রক্রিয়াটি আরও কয়েকটি ধাপের।
প্রথমে কর্মচারী প্রয়োজনীয় তথ্য দেবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করবে। পরবর্তী পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করবে।
অনুমোদনের পর সিস্টেম থেকে বিশেষ যাচাই নম্বর তৈরি হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থাৎ, কর্মচারীর দায়িত্ব শুধু তথ্য দেওয়া নয়; সঠিক তথ্য দেওয়া এবং পরবর্তী যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল তথ্য দিলে কী হতে পারে?
পে ফিক্সেশনের সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে আগের বেতন ও চাকরির ইতিহাসের ক্ষেত্রে।
বিশেষ করে—
৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন → পূর্বের পে ফিক্সেশন → পদোন্নতি → উচ্চতর গ্রেড → বর্তমান গ্রেড
—এসব তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন, বকেয়া এবং পরবর্তী বেতন-সংক্রান্ত হিসাবও পে ফিক্সেশনের তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। তাই তাড়াহুড়ো করে ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করার চেয়ে সঠিক কাগজপত্র দেখে তথ্য দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অক্টোবরের বেতন ও বকেয়া নিয়ে কী হবে?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। তবে প্রত্যেক কর্মচারীর বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। নতুন নির্ধারিত মূল বেতন, পুরোনো মূল বেতন, গ্রেড এবং কার্যকর তারিখ অনুযায়ী বকেয়া হিসাব হবে।
The Daily Star-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নতুন কাঠামোর বেতন এবং প্রায় তিন মাসের বকেয়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফলে পে ফিক্সেশন দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন করা এখন সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
iBAS++-এর বর্তমান পোর্টালেও Pay Fixation-2026 রয়েছে
সরকারি iBAS++ পোর্টালে বর্তমানে “Pay Fixation-2026 GoB Staff – Running (Without User ID)” এবং “Pay Fixation-2026 New Recruitment (All Grades)” অপশন দেখা যাচ্ছে। IBAS
তবে পোর্টালে অপশন থাকা আর নির্দিষ্ট অফিসের জন্য ফিচার সক্রিয় থাকা এক বিষয় নয়। কোনো কর্মচারীর স্ক্রিনে যদি “feature is not currently released for your office” দেখায়, তাহলে সেটি সংশ্লিষ্ট অফিসের জন্য মডিউল সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে।
সাভারের কর্মচারীদের এখন কী করা উচিত?
সাভার, ঢাকা এলাকার যেসব কর্মচারী এখনো পে ফিক্সেশন করতে পারছেন না, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অযথা আতঙ্কিত না হওয়া এবং অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা।
করণীয়
১. iBAS++-এ নিয়মিতভাবে স্ট্যাটাস যাচাই করুন।
২. অফিসের DDO/প্রশাসন শাখার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
৩. সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নোটিশ অনুসরণ করুন।
৪. NID, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর প্রস্তুত রাখুন।
৫. ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন ও আগের পে ফিক্সেশনের তথ্য মিলিয়ে নিন।
৬. পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ প্রস্তুত রাখুন।
৭. মডিউল সক্রিয় হওয়ার আগে বারবার ভুল তথ্য দিয়ে চেষ্টা করবেন না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বর্তমানে যে বার্তাটি অনেকের স্ক্রিনে আসছে—
“Sorry, this feature is not currently released for your office. Please follow the notice.”
—এটি মূলত অফিসভিত্তিক মডিউল রিলিজের বার্তা।
অর্থাৎ, পে ফিক্সেশন করার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কর্মচারী তার অফিসের জন্য মডিউল চালু না হওয়া পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না।
অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী পে ফিক্সেশন ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের পে ফিক্সেশন। তবে সারা দেশে একই দিনে সবার জন্য এটি চালু হচ্ছে না। হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ভিত্তিক ধাপে ধাপে iBAS++-এর মডিউল চালু করা হচ্ছে। Bangladesh Service Rules
তাই সাভারে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পে ফিক্সেশন করতে না পারা মানেই কোনো সমস্যা হয়েছে—এমন নয়। বরং প্রকাশিত ধাপ অনুযায়ী ৮ অক্টোবর ঢাকা বিভাগের সংশ্লিষ্ট DAO/UAO পর্যায়ের কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ার কথা। এরপর সংশ্লিষ্ট অফিসের মডিউল সক্রিয় হলে কর্মচারীরা পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। Bangladesh Service Rules
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—মডিউল চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা এবং সাবমিট করার আগে পুরোনো বেতন ও চাকরির ইতিহাস ভালোভাবে যাচাই করা। কারণ এই একটি অনলাইন ফিক্সেশনের ওপর নতুন বেতন, বকেয়া এবং পরবর্তী বেতন-সংক্রান্ত হিসাবের বড় একটি অংশ নির্ভর করবে।

