Latest News

পেনশনারদের জন্য নতুন সুবিধা: মোবাইল অ্যাপেই দেখুন পে-ফিক্সেশনের তথ্য, মানতে হবে যেসব শর্ত

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী পেনশন ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা রয়েছে Pensioner Verification অ্যাপে। এই অ্যাপের মাধ্যমে পেনশনাররা নিজেদের পেনশনসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি ফিক্সেশন ট্যাবে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট বিবরণ যাচাই করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা পেতে লাইফ ভেরিফিকেশন হালনাগাদ থাকা এবং পেনশনের অবস্থা সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি প্রকাশিত অ্যাপের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, মূল পৃষ্ঠায় ‘পেনশন তথ্য’ নামে একটি অপশন রয়েছে। সেখানে প্রবেশ করলে ‘পেনশন তথ্য’, ‘ফিক্সেশন’, ‘ইপিপিও’ ও ‘ট্যাক্স রিপোর্ট’ নামে একাধিক ট্যাব পাওয়া যায়। এর মধ্যে ফিক্সেশন ট্যাব নির্বাচন করে অর্থবছর নির্ধারণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ার প্রেক্ষাপটে অ্যাপের এই সুবিধা তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সবার ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়েছে কিংবা সংশোধিত পেনশনের অর্থ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত শুধু অ্যাপের ট্যাব দেখে নেওয়া যাবে না।

যেভাবে Pensioner Verification অ্যাপে প্রবেশ করবেন

পেনশন ফিক্সেশনের তথ্য যাচাই করতে প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের Google Play Store থেকে Pensioner Verification অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপটি ব্যবহারের আগে সেটির সরকারি পরিচয় ও প্রকাশক যাচাই করে নেওয়া উচিত।

অ্যাপে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত স্থানে পেনশনারের ১০ বা ১৭ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং ১০ ডিজিটের ই-পিপিও (ePPO) নম্বর দিতে হবে। অ্যাপে এনআইডি স্ক্যান করে প্রবেশের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

সঠিক তথ্য দিয়ে প্রবেশ করার পর মূল পৃষ্ঠায় থাকা ‘পেনশন তথ্য’ আইকনে ক্লিক করতে হবে। এরপর পরবর্তী পৃষ্ঠায় ‘ফিক্সেশন’ ট্যাব নির্বাচন করতে হবে। সেখানে অর্থবছর নির্বাচনের অপশন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অর্থবছর নির্বাচন করে ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যাবে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী ফিক্সেশনের তথ্য দেখতে চাইলে ২০২৬–২০২৭ অর্থবছর নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট বিবরণ প্রদর্শিত হচ্ছে কি না পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে ওই অর্থবছরের সব পেনশনারের তথ্য সিস্টেমে হালনাগাদ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

লাইফ ভেরিফিকেশন হালনাগাদ না থাকলে সমস্যা হতে পারে

পেনশনভোগীদের জন্য লাইফ ভেরিফিকেশন বা জীবন প্রত্যয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত নিয়মে পেনশনভোগীর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার এই প্রক্রিয়া পেনশন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পেনশনারের লাইফ ভেরিফিকেশন হালনাগাদ না থাকলে অথবা পেনশন হিসাবের অবস্থা সক্রিয় না থাকলে অ্যাপে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে সমস্যা হতে পারে। তাই ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য খোঁজার আগে জীবন প্রত্যয়নের অবস্থা এবং পেনশন হিসাবের সক্রিয়তা যাচাই করা উচিত।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, অ্যাপে তথ্য প্রদর্শিত না হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট পেনশনার নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন না। তথ্য হালনাগাদে বিলম্ব, রেকর্ডের অসংগতি কিংবা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী পেনশন ফিক্সেশন কীভাবে প্রভাবিত হবে?

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হলে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন নির্ধারণ এবং অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আলাদা প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হয়। কর্মরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে পেনশনারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধি ও আদেশ অনুসারে পেনশনসংক্রান্ত হিসাব পুনর্নির্ধারণ করতে হয়।

এ কারণে চাকরিরত কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন এবং অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ফিক্সেশনকে একই প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। পেনশনারের অবসর গ্রহণের তারিখ, পূর্ববর্তী পেনশন রেকর্ড, প্রযোজ্য বিধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অনুযায়ী চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারিত হতে পারে।

অ্যাপের ফিক্সেশন ট্যাব থেকে তথ্য দেখা গেলেও সংশোধিত পেনশন, বকেয়া অর্থ বা নতুন হারে অর্থপ্রদানের তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও অনুমোদিত পেনশন বিবরণী যাচাই করতে হবে।

ফিক্সেশনের তথ্য না পেলে করণীয়

কোনো পেনশনার অ্যাপে প্রবেশের পর ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য দেখতে না পেলে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করতে পারেন।

প্রথমত, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ই-পিপিও নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে হবে। দ্বিতীয়ত, লাইফ ভেরিফিকেশন হালনাগাদ আছে কি না এবং পেনশন হিসাব সক্রিয় রয়েছে কি না দেখতে হবে। তৃতীয়ত, সঠিক অর্থবছর নির্বাচন করা হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।

এসব ঠিক থাকার পরও তথ্য পাওয়া না গেলে অ্যাপের হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করে আবার চেষ্টা করা যেতে পারে। তারপরও সমস্যার সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় অথবা পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়ের সহায়তা নেওয়া উচিত।

পেনশন রেকর্ডে নাম, এনআইডি নম্বর, ই-পিপিও নম্বর কিংবা অন্যান্য তথ্যের অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই করানো প্রয়োজন।

পেনশনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে সতর্কতা

পেনশন ফিক্সেশনের তথ্য দেখার সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-পিপিও নম্বর কিংবা পেনশনসংক্রান্ত নথি অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটে দেওয়া উচিত নয়।

একই সঙ্গে অ্যাপে প্রদর্শিত কোনো তথ্যকে চূড়ান্ত আর্থিক অনুমোদন হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে তার যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন। নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী পেনশন কত হবে, বকেয়া পাওয়া যাবে কি না এবং কখন থেকে সংশোধিত অর্থ কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে সরকারি আদেশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিশ্চিত তথ্য অনুসরণ করতে হবে।

সরকারি সহায়তা কোথায় পাবেন?

পেনশনসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে পেনশন ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট ভিজিট করা যেতে পারে:

ওয়েবসাইট: https://pension.gov.bd/bn/

অ্যাপে প্রবেশ, লাইফ ভেরিফিকেশন অথবা ফিক্সেশনসংক্রান্ত সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার প্রকৃতি জানানো যেতে পারে।

শেষ কথা

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী পেনশন ফিক্সেশনসংক্রান্ত তথ্য মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করার সুবিধা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে তাঁদের সময় ও ভোগান্তি কমতে পারে।

পেনশনারদের উচিত Pensioner Verification অ্যাপে প্রবেশ করে ‘পেনশন তথ্য’ বিভাগের ‘ফিক্সেশন’ ট্যাব পরীক্ষা করা, লাইফ ভেরিফিকেশন হালনাগাদ রাখা এবং পেনশন হিসাব সক্রিয় আছে কি না নিশ্চিত হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *