অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় প্রজ্ঞাপন ২০২৬ । নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ এক নতুন যুগের সূচনা?
দীর্ঘ ২০ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবসান ঘটল।
শপথ গ্রহণ ও মন্ত্রিসভা গঠন
বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর তার নেতৃত্বে গঠিত ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। উল্লেখ্য, গত ৩৫ বছরের মধ্যে তারেক রহমানই বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনের ফলাফল ও গেজেট প্রকাশ
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ৩৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি (দুই-তৃতীয়াংশ) আসনে জয়লাভ করেছে।
-
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ প্রদান করেছেন।
-
নতুন সরকার গঠনের সাথে সাথেই আগের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিও ও নিয়োগ
নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদের তথ্য ইতোমধ্যেই জানা গেছে:
-
অর্থ মন্ত্রণালয়: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
-
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: ড. খলিলুর রহমান (যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন)।
-
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১: মো. উজ্জ্বল হোসেন।
কূটনৈতিক ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়া সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স উংও অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
শপথ গ্রহণের পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। তিনি প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে তার প্রথম কর্মদিবস শুরু করার কথা রয়েছে।


