অন্যের হয়ে প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা: পিএসসি কর্মচারীর চাকরিচ্যুতি ও কারাদণ্ড?
অন্যের হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি (ছদ্মবেশে পরীক্ষা) দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) সচিবালয়ের এক কর্মচারী। এই গুরুতর অপরাধের দায়ে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার পাশাপাশি ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে মোবাইল কোর্ট।
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারিকৃত একটি অফিস আদেশের (নম্বর: ৮০.০০.০০০০.৪০২.১৯.০৫৬.২৪-২২৪) মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে পিএসসি সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এই আদেশটি অপরাধ সংঘটনের দিন অর্থাৎ গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও মোবাইল কোর্টের সাজা
প্রকাশিত অফিস আদেশ (যার কপি 1000049483.jpg ফাইলে সংযুক্ত রয়েছে) থেকে জানা যায়, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ ঘটিকায় ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদের ব্যবহারিক পরীক্ষা চলছিল। উক্ত পরীক্ষায় অন্য এক পরীক্ষার্থীর পক্ষে অবৈধভাবে প্রক্সি দিতে যান পিএসসি সচিবালয়ের কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক জনাব মো. লিমন। পরীক্ষা চলাকালীন জালিয়াতির বিষয়টি কর্তব্যরত কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটক করার পর ঘটনাস্থলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আদালতের সম্মুখে অপরাধের বিবরণ, অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ স্বীকারোক্তি এবং উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’-এর ৬(১) ও ৭(২) ধারা মোতাবেক এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মো. লিমনকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয় (মোবাইল কোর্ট মামলা নং-৩৫/২৬)।
শিক্ষানবিশকালেই চাকরি হারালেন লিমন
পিএসসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মো. লিমন গত ০৪ জুন ২০২৪ তারিখে কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পিএসসি সচিবালয়ে যোগদান করেছিলেন। অপরাধ সংঘটনের সময় পর্যন্ত তার শিক্ষানবিশকাল (Probation Period) সম্পন্ন হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে, “বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয় (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০০৮”-এর ৬(১)(ক) ও ৬(২)(ক) বিধি এবং নিয়োগপত্রের শর্তাবলী অনুযায়ী ১১ জুন ২০২৬ তারিখ হতে তার সরকারি চাকরির স্থায়ী অবসান ঘটানো হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশটি ওই দিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
অভিযুক্তের পরিচয়
চাকরিচ্যুত মো. লিমন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দারুন বাজার (পোস্ট কোড-৮৩২০) এলাকার রামকেশব গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন হাওলাদারের পুত্র। তিনি ঢাকার মিরপুর সেকশন-১৩, ব্লক-বি, রোড-১ এর ৩৯ নম্বর বাসায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
এই আদেশটির অনুলিপি পিএসসি সচিবালয়ের উপসচিব (প্রশাসন) মো. ওয়াশিমুল বারীর স্বাক্ষরসহ পিএসসির প্রশাসন, অর্থ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার/নন-ক্যাডার), ওয়েবসাইট প্রকাশের জন্য সিস্টেম অ্যানালিস্ট এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের সর্বোচ্চ ও অন্যতম বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান পিএসসির নিজস্ব কর্মচারীর এমন জালিয়াতি ও প্রক্সি কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার সাথে সাথেই কমিশনের এই দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

