দুপুরের তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন সময়সূচিকে স্থায়ী করার দাবি
সারাদেশে চলমান তীব্র ও অসহনীয় তাপপ্রবাহের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সকল স্কুল ও মাদ্রাসার পাঠদান সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন সূচি অনুযায়ী, শিক্ষা কার্যক্রম সকাল ৮:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী করতে এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে এই সময়সূচিটি স্থায়ীভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন।
নতুন সময়সূচির বিস্তারিত
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশনায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মতিতে নির্ধারিত ৭টি পিরিয়ড ঠিক রেখেই পিরিয়ডের ব্যাপ্তি কিছুটা কমিয়ে এই নতুন রুটিন সাজানো হয়েছে। রুটিনটি নিম্নরূপ:
-
সমাবেশ (পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত): ৭:৪৫ – ৮:০০
-
১ম থেকে ৪র্থ পিরিয়ড: সকাল ৮:০০ – ১০:০০
-
টিফিন বিরতি: ১০:০০ – ১০:২০
-
৫ম থেকে ৭ম পিরিয়ড: ১০:২০ – ১১:৫০
-
ছুটি প্রস্তুতি ও প্রস্থান: ১১:৫০ – ১২:০০
কেন এই সময়সূচি স্থায়ী করা প্রয়োজন?
তথ্যাদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুপুর ১:৩০ বা ২:০০ টার পর শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:
১. মনোযোগের ঘাটতি: বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ গরমের মধ্যে থাকার পর দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীদের মনোযোগের হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। শরীরের ওপর বাড়তি তাপের চাপের ফলে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং পাঠ্যবইয়ের চেয়ে ঘরে ফেরার চিন্তাই তাদের প্রধান হয়ে ওঠে।
২. স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস: দুপুরের প্রখর রোদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি হলে হিটস্ট্রোক বা ডিহাইড্রেশনের (পানিশূন্যতা) ঝুঁকি বেড়ে যায়। সকালের শীতল পরিবেশে পাঠদান শেষ করে দুপুর ১২টার মধ্যে ঘরে ফিরতে পারলে শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পায়।
৩. পাঠদানের গুণগত মান: শিক্ষকরাও জানিয়েছেন যে, দুপুরের তীব্র গরমে সজাগ থাকা এবং প্রাণবন্তভাবে পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়ে। সকালের সতেজ সময়ে ক্লাসগুলো সম্পন্ন হলে পাঠদানের গুণগত মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় অভিভাবকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, “দুপুর ১টার পর বাচ্চারা আর স্কুলে থাকতে চায় না। যদি স্থায়ীভাবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্কুল চলত, তবে তাদের পড়াশোনার মান যেমন ভালো হতো, তেমনি তাদের স্বাস্থ্যের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ত না।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচি কার্যকর থাকবে। তবে শিক্ষা সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে সারা বছরই যদি এই ‘আর্লি শিফট’ বা সকালের সূচি অনুসরণ করা হয়, তবে তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

