মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র ২০২৬ । গরুর মাংস ৬৫০ টাকা/কেজি এবং ডিম ৮ টাকা পিস পাওয়া যাচ্ছে? - Technical Alamin
Latest News

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র ২০২৬ । গরুর মাংস ৬৫০ টাকা/কেজি এবং ডিম ৮ টাকা পিস পাওয়া যাচ্ছে?

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে আমিষের জোগান নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ বাজারে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মহাখালীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন:

“পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা চাই প্রতিটি পরিবার যেন সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত প্রোটিন পায়।”

কর্মসূচির বিস্তারিত

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু সুফিয়ান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয় যে, রমজান মাসজুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে তরল দুধ, মুরগির ডিম, গরুর মাংস ও খাসির মাংস সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথিদের আশাবাদ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বাজারে পণ্য সরবরাহের একটি ভারসাম্য তৈরি হবে।

এছাড়াও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উপস্থিত ছিলেন:

  • জনাব মশিউর রহমান, সভাপতি, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)।

  • জনাব মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, সভাপতি, বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফারমার্স এসোসিয়েশন (বিডিএফএ)।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আশ্বস্ত করেন যে, খামারি পর্যায় থেকে সরাসরি পণ্য সরবরাহ করার ফলে সাধারণ মানুষ বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে মানসম্মত পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

বিক্রয় কেন্দ্র ও সময়সীমা

প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্পটে এই ভ্রাম্যমাণ ট্রাকগুলো অবস্থান করবে। প্রতিদিন সকাল থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য স্টক থাকা সাপেক্ষে সাধারণ ক্রেতারা লাইনে দাঁড়িয়ে এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

দুধ, ডিম ও মাংস কি মূল্যে দেয়া হচ্ছে?

হ্যাঁ, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কর্মসূচিটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশেই পরিচালিত হবে। তবে কার্যক্রমের ধরণ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে কিছুটা ভিন্ন। আপনার তথ্যের ভিত্তিতে এবং সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী বিষয়টি নিচে পরিষ্কার করা হলো:

১. ঢাকার বাইরে জেলা ও বিভাগীয় শহর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনের (জেলা প্রশাসক) সাথে সমন্বয় করে ঢাকার বাইরেও এই সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ইতিমধ্যে পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

২. কর্মসূচির ব্যপ্তি ও লক্ষ্য

  • পরিবার সংখ্যা: সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে এই সুলভ মূল্যের প্রোটিন সরবরাহের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সময়সীমা: এটি রমজানের আগের দিন থেকে শুরু হয়ে ২৫শে রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন চলবে।

  • পণ্য তালিকা: দুধ, ডিম ও মাংসের পাশাপাশি কিছু এলাকায় মাছও সুলভ মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে।

৩. বিক্রয় কেন্দ্র বৃদ্ধি

শুরুতে ঢাকার ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে শুরু হলেও, জনচাহিদা বিবেচনা করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা এই কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করছেন।

সংক্ষেপে: এটি কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক নয়, বরং সারা দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি দেশব্যাপী খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। তবে বিক্রয় কেন্দ্রের সঠিক অবস্থান জানতে আপনি আপনার এলাকার উপজেলা বা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে তথ্য নিতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *