সংশোধিত বাজেট ২০২৫-২৬: অর্থ ছাড়ের ক্ষমতা পেলেন প্রকল্প পরিচালকরা, অতিরিক্ত ব্যয়ে কঠোর অর্থ বিভাগ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের বিস্তারিত বিভাজন ও কর্তৃত্ব জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি (জিওবি) অংশের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে এখন থেকে অর্থ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো বাড়তি সম্মতির প্রয়োজন হবে না। প্রকল্প পরিচালকরা এই অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন।
স্বয়ংক্রিয় অর্থ ছাড়ের সুবিধা অর্থ বিভাগের বাজেট অনুবিভাগ থেকে জারিকৃত পরিপত্রে জানানো হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন অনুমোদিত প্রকল্পের জিওবি অংশের বরাদ্দ এখন থেকে ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ ছাড় হয়েছে বলে গণ্য হবে। উন্নয়ন কাজে গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অননুমোদিত প্রকল্প বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ক্ষেত্রে অর্থ অবমুক্তির জন্য পূর্বের নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।
অতিরিক্ত ব্যয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা সংশোধিত বাজেটে প্রতিটি খাতের জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত কোনো ব্যয় বিল গ্রহণ না করার জন্য হিসাব মহা-নিয়ন্ত্রককে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কর্তৃত্ব জারির পর যদি অর্থ বিভাগ বিশেষ প্রয়োজনে কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রদান করে, তবেই তা বৈধ বলে বিবেচিত হবে। এই অতিরিক্ত অর্থ পরবর্তীতে সম্পূরক বা অতিরিক্ত আর্থিক বিবৃতির মাধ্যমে নিয়মিত করা হবে।
উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরতের নির্দেশ যেসব ক্ষেত্রে মূল বরাদ্দের পরিমাণ সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে বেশি ছিল এবং ইতোমধ্যে বেশি অর্থ খরচ হয়ে গেছে, সেই অতিরিক্ত অর্থ অবিলম্বে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই অর্থ সমর্পণের প্রমাণপত্র বা চালানের কপি আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক ও বিশেষ প্রশাসনিক নির্দেশনা পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ব্যতিরেকে কোনো অধিদপ্তর বা পরিদপ্তরের সরাসরি পাঠানো অর্থ প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চিঠি অর্থ বিভাগ গ্রহণ করবে না। এছাড়া, সংশোধিত বাজেট প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশ খাতের প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সতর্ক বার্তা অর্থ বিভাগ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংশোধিত বরাদ্দের সীমার মধ্যে থেকেই সব খরচ পরিচালনা করতে হবে। ২০২৬ সালের জুন মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ সমর্পণ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় (স্মারক নং-০৭.১০১.০২০.০০.০০.০০১.২০২৬-৪৪৬, তারিখ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬)


