৫০ লাখ নারী পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬ । মাসে ২,৫০০ টাকা সহায়তার পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে?
দেশের হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে সরকার চালু করেছে বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। গত ১০ই মার্চ এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার নির্দিষ্ট একটি করে ওয়ার্ডে এই পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রকল্পের পরিধি ও সুবিধা
এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের ৫০ লাখ নারী পরিবার প্রধান এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এই বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কেবল নগদ অর্থই নয়, বরং ভবিষ্যতে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করা হতে পারে।
কারা পাবেন এই কার্ড?
ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে:
-
নারী প্রধান পরিবার: এই কার্ড মূলত নারীদের নামে ইস্যু করা হবে।
-
দারিদ্র্যের মানদণ্ড: হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
-
একটি পরিবার, একটি কার্ড: প্রতি পরিবারের জন্য শুধুমাত্র একটি কার্ড বরাদ্দ করা হবে।
আবেদন করার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আগ্রহী যোগ্য ব্যক্তিরা দুটি পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন:
১. সরাসরি আবেদন: আবেদনকারীকে তার নিকটস্থ পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিসহ সেখানেই জমা দিতে হবে।
২. অনলাইন আবেদন: যাঁরা ঘরে বসে আবেদন করতে চান, তারা সরকারি সেবা পোর্টাল ‘MY GOV’ (মাই গভ) এর মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
আবেদনের জন্য যা যা লাগবে:
-
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
-
পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
-
সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
সার্বিক প্রভাব
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এবং সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তার ফলে দরিদ্র পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। পাইলট প্রকল্পের সফলতা যাচাই করে দ্রুতই এটি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মাই গভঃ ওয়েবসাইট হতে কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, মাই গভ (myGov) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব। তবে বর্তমান পাইলট প্রকল্পের প্রেক্ষাপটে আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনার জেনে রাখা ভালো:
অনলাইনে আবেদনের ধাপসমূহ:
১. পোর্টালে প্রবেশ: প্রথমে আপনাকে mygov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে অথবা আপনার স্মার্টফোনে ‘myGov’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। ২. রেজিস্ট্রেশন: আপনার মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি বা রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। ৩. সেবা অনুসন্ধান: সার্চ বক্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা ‘পারিবারিক কার্ড’ লিখে সার্চ করতে হবে। ৪. ফরম পূরণ: অনলাইনে নির্ধারিত আবেদন ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এখানে আপনার পরিবারের প্রধানের তথ্য এবং এনআইডি নম্বর প্রয়োজন হবে। ৫. ডকুমেন্ট আপলোড: পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং এনআইডি কার্ডের স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ছবি আপলোড করতে হবে। ৬. দাখিল: সব তথ্য ঠিক থাকলে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। আবেদনের পর একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন, যা দিয়ে পরে আবেদনের অবস্থা যাচাই করা যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
-
স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড পোর্টাল: টিসিবি’র (TCB) পক্ষ থেকে অনেক সময় সরাসরি tcbsheba.com বা familycard.gov.bd পোর্টালেও আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। মাই গভ ওয়েবসাইট থেকেও এই সার্ভিসগুলোতে রি-ডাইরেক্ট করা হতে পারে।
-
পাইলট প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা: যেহেতু বর্তমানে প্রাথমিকভাবে ১৩টি জেলার নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম চলছে, তাই সব এলাকার বাসিন্দারা এখনই অনলাইনে আবেদনের অপশনটি নাও পেতে পারেন। আপনার এলাকা প্রকল্পের আওতাভুক্ত হলেই কেবল আবেদনটি সফলভাবে গ্রহণ করা হবে।
-
অফলাইন বিকল্প: যদি অনলাইনে সমস্যা হয়, তবে আপনার স্থানীয় পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করে সরাসরি জমা দেওয়ার পদ্ধতিটি বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর।

