এনআইডিতে পিতা-মাতার নামের বানান সংশোধন: জেনে নিন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস - Technical Alamin
NID CARD INFO

এনআইডিতে পিতা-মাতার নামের বানান সংশোধন: জেনে নিন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নিজের অজান্তেই অনেক সময় পিতা বা মাতার নামের বানান ভুল চলে আসে। মুদ্রণজনিত এই ছোট ভুলের কারণে অনেক সময় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সাধারণ মানুষের এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি সহজ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে কি নেই, তার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের তালিকা ভিন্ন হতে পারে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে যা লাগবে

যাদের নূন্যতম প্রাথমিক সমাপনী (PEC) বা তার ওপরের কোনো পাবলিক পরীক্ষার সনদ আছে, তাদের ক্ষেত্রে নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: পি.ই.সি/ জে.এস.সি/ এস.এস.সি/ এইচ.এস.সি/ অনার্স/ মাস্টার্স বা সমমান পরীক্ষার মূল সনদ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড, অ্যাডমিট কার্ড বা মার্কশিটও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা যাবে।

  • পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর পিতা বা মাতার এনআইডি কার্ডের কপি।

  • বিকল্প নথি: যদি পিতা-মাতার এনআইডি না থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে।

  • পারিবারিক প্রমাণ: ভাই বা বোনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, জন্ম সনদ অথবা তাদের শিক্ষা সনদও সহায়ক দলিল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে যা লাগবে

যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সনদ নেই, তাদের ক্ষেত্রে সংশোধন প্রক্রিয়াটি মূলত পারিবারিক দলিলের ওপর নির্ভরশীল:

  • অনলাইন জন্ম সনদ: আবেদনকারীর নিজস্ব ১৭ ডিজিটের অনলাইন ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন সনদ।

  • পিতা-মাতার পরিচয়পত্র: পিতা বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।

  • বিকল্প প্রমাণ: পিতা বা মাতার এনআইডি না থাকলে তাদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্ট।

  • ভ্রাতৃত্বের প্রমাণ: ভাই-বোনের এনআইডি, জন্ম সনদ বা শিক্ষা সনদের কপি।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

১. অনলাইন আবেদন: এনআইডি সংক্রান্ত যেকোনো সংশোধনীর জন্য নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট services.nidw.gov.bd এ গিয়ে আবেদন করা যাবে। ২. হেল্পলাইন: আবেদন সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা তথ্যের জন্য সরাসরি ১০৫ নম্বরে কল করে সহায়তা নেয়া সম্ভব। ৩. সতর্কতা: সকল তথ্য ও ছবি অবশ্যই স্পষ্ট হতে হবে এবং অনলাইন ডাটাবেজে সংরক্ষিত তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র একটি স্পর্শকাতর দলিল, তাই তথ্য সংশোধনের সময় সঠিক প্রমাণপত্র দাখিল করা জরুরি। সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করলে খুব দ্রুতই ডিজিটাল এনআইডি ডাউনলোড বা সংগ্রহ করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *