Latest News

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮% বৃদ্ধি, লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্যও বাড়লো খরচ

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে। নতুন ঘোষিত ট্যারিফ অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, নির্মাণ, কৃষি সেচসহ প্রায় সব ধরনের গ্রাহককেই আগের তুলনায় বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

বিইআরসির জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন মূল্যহার ২০২৬ সালের জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্যও মূল্য বৃদ্ধি

সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি। ০ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য ইউনিটপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ টাকা ৩৬ পয়সা, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি

অন্যদিকে আবাসিক গ্রাহকদের বিভিন্ন ধাপে ইউনিটপ্রতি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোচ্চ স্তরের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা নতুন ট্যারিফে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আবাসিক গ্রাহকদের নতুন ইউনিটভিত্তিক মূল্য

নতুন নির্ধারিত হারে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য হবে—

  • ০–৫০ ইউনিট (লাইফলাইন): ৫.৩৬ টাকা
  • ০–৭৫ ইউনিট: ৬.১৮ টাকা
  • ৭৬–২০০ ইউনিট: ৮.৫০ টাকা
  • ২০১–৩০০ ইউনিট: ৯.৯০ টাকা
  • ৩০১–৪০০ ইউনিট: ৯.৬২ টাকা
  • ৪০১–৬০০ ইউনিট: ১৫.০১ টাকা
  • ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে: ১৭.৩৫ টাকা

এছাড়া আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি কিলোওয়াট অনুমোদিত লোডের বিপরীতে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা বহাল রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যিক, শিল্প ও অন্যান্য খাতে বৃদ্ধি

নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী—

  • বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের জন্য ফ্ল্যাট রেট ১৫.৩৬ টাকা প্রতি ইউনিট।
  • ক্ষুদ্র শিল্পে ১১.৪৫ থেকে ১৫.২৭ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
  • নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য ১৮.০৯ টাকা।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের জন্য ৯.০৫ টাকা।
  • রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের জন্য ১১.৪৬ টাকা।
  • ইলেকট্রিক যানবাহন ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের জন্য ৯.০৯ থেকে ১৪.২০ টাকা পর্যন্ত হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি সেচে তুলনামূলক কম চাপ

কৃষি সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.০৪ টাকা, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে। সরকারের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিবেচনায় এই খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।

উচ্চ ও মধ্যম ভোল্টেজ গ্রাহকদের জন্যও নতুন হার

১১ কেভি, ৩৩ কেভি, ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি সংযোগভুক্ত শিল্প ও বৃহৎ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়ভিত্তিক (অফ-পিক ও পিক আওয়ার) ব্যবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য পৃথক ইউনিট মূল্য প্রযোজ্য হবে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুতের গড় মূল্য ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালি ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মাসিক বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চাপ অনুভব করবে। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পণ্য ও সেবার বাজারমূল্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আমদানি জ্বালানি ব্যয় এবং বিতরণ খাতের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই মূল্য সমন্বয় প্রয়োজনীয় ছিল।

নতুন ঘোষিত ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আগামী মাস থেকেই বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন করে ব্যয়চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

Source

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *