দেশের অতন্দ্র প্রহরী, অথচ নিজের ঘরেই টানাপোড়েন: একজন সৈনিকের কান্নার হিসাব - Technical Alamin
Latest News

দেশের অতন্দ্র প্রহরী, অথচ নিজের ঘরেই টানাপোড়েন: একজন সৈনিকের কান্নার হিসাব

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা দিনরাত সীমান্ত কিংবা ব্যারাকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকেন, সেই সৈনিকদের জীবনের পর্দার পেছনের গল্পটা সব সময় বীরত্বগাথার হয় না। মাঝে মাঝে তা হয় চরম দারিদ্র্য আর ঋণের লড়াইয়ের। সম্প্রতি একজন সেনাসদস্যের দেওয়া বার্ষিক খরচের খতিয়ান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমান বাজারদরে একজন সাধারণ সৈনিকের পক্ষে তার পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আয় ও ব্যয়ের অসম লড়াই

একজন সৈনিকের মাসিক মূল বেতন ৯ হাজার টাকা এবং সব মিলিয়ে মোট বেতন ১৪ হাজার টাকা। বছরে তার মোট আয় ১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। শুনতে এই অংকটি নির্দিষ্ট মনে হলেও, জীবনযাত্রার ব্যয়ের কাছে এটি অত্যন্ত নগণ্য।

সৈনিকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তার বছরে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয় ২ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রতি বছর একজন সৈনিককে নিজের এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে ৪৩ হাজার টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হচ্ছে।

ব্যয়ের খতিয়ান: যেখানে কাটছাঁটের সুযোগ নেই

একজন সৈনিকের দেওয়া খরচের তালিকায় দেখা যায় এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা পেশাগত কারণেই তাকে বহন করতে হচ্ছে:

  • পেশাগত পোশাক ও প্রশিক্ষণ: সরকার থেকে প্রদত্ত পোশাক পর্যাপ্ত না হওয়ায় তাকে বছরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণের সাজসরঞ্জাম বাবদ আরও ৫ হাজার টাকা তার পকেট থেকে যায়।

  • বাধ্যতামূলক ফরমাল ড্রেস: সামরিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে জুতা, গেঞ্জি ও শীতকালীন পোশাক বাবদ বছরে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

  • যাতায়াত ও যোগাযোগ: ছুটিতে বাড়ি যাওয়া এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাধ্যতামূলক ইন্টারনেট (MB) খরচ মেটাতেই বছরে তার ৩০ হাজার টাকা চলে যায়।

পরিবারের করুণ চিত্র

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো পারিবারিক ভরণপোষণ। বাবা, মা এবং দুই ভাই-বোনসহ ৪ জনের খাবারের জন্য মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা (জনপ্রতি ২ হাজার টাকা) বরাদ্দ করেও বছরে খরচ হয় ৯৬ হাজার টাকা। এই খরচে বর্তমান বাজারে পুষ্টিকর খাবার পাওয়া প্রায় অসম্ভব। এর সাথে যুক্ত হয় বিদ্যুৎ বিল, চিকিৎসা ব্যয় এবং বছরে একবার ঈদের পোশাক।

সৈনিকের ভাষ্যে: > “আমি আমার হিসাবে মাত্র ৪ জন সদস্যের খরচ ধরেছি এবং কোরবানি বা বড় কোনো উৎসবের খরচ বাদ দিয়েছি। তারপরেও আমি বছরের শেষে দেনাদার। দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত আছি, কিন্তু পরিবারের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দিতে না পারার এই যন্ত্রণা সহ্য করা কঠিন।”

বিশ্লেষণ: কেন এই সংকট?

অর্থনীতিবিদদের মতে, গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় যে হারে বেড়েছে, সেই তুলনায় নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়েনি। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন যাপন করতে হয় বলে তাদের খরচ কমানোর সুযোগ সাধারণ মানুষের চেয়েও কম।

উপসংহার

একজন সৈনিক যখন ঋণগ্রস্ত হয়ে দেশের সেবা করেন, তখন তার মানসিক অবস্থা কতটা স্থিতিশীল থাকে তা ভাববার বিষয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী এই মানুষগুলোর নিজের এবং তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। না হলে, এই ‘অদৃশ্য নীরব কান্না’ একদিন পেশাদারিত্বের ওপর ছায়া ফেলতে পারে।


সহকর্মী হিসেবে আমার ছোট একটি পরামর্শ: আপনার এই পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টের, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আপনি যে হিসাবটি দিয়েছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং এখানে অতিরিক্ত কোনো খরচ নেই বললেই চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *