পুকুর খনন নিয়ে আইনি নির্দেশনা ২০২৬ । গ্রামীণ রাস্তার পাশে পুকুর বা সেচ নালা খনন দণ্ডনীয় অপরাধ?
দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রামীণ সড়কের ধার ঘেঁষে পুকুর, কূপ বা সেচ নালা তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে এই সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
উপসচিব জেসমিন পারভীন স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত সড়কের পাশ ঘেঁষে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুকুর ও নালা খনন করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে সড়কের পার্শ্ব-ঢাল এবং আড়-ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিদ্যমান আইন ও শাস্তির বিধানসমূহ: সরকারি এই নির্দেশনায় বেশ কিছু বিদ্যমান আইনের উল্লেখ করে শাস্তির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে:
১. পূর্বানুমতি আবশ্যক: ‘The Building Construction Act, 1952’ অনুযায়ী উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো পুকুর খনন বা পুনঃখনন করা যাবে না।
২. অপসারণ ও ভরাট নির্দেশ: সড়কের ক্ষতি বা জনগণের অসুবিধা সৃষ্টি করলে কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত পুকুর বা নালা ভরাট বা খনন বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবেন।
৩. কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড: যদি কেউ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী আদালত দোষী ব্যক্তিকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন।
৪. দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম: ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ১৯৯৬’ অনুযায়ী, পুকুর বা জলাশয় সরকারি রাস্তার সীমানা হতে কমপক্ষে ১০ ফুট দূরে এবং ৪৫ ডিগ্রি স্লোপ (ঢাল) বজায় রেখে খনন করতে হবে।
৫. ফৌজদারি অপরাধ: দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৩১ ধারা অনুযায়ী সরকারি রাস্তার ক্ষতিসাধন একটি ফৌজদারি অপরাধ। এর জন্য ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
৬. অবৈধ দখল উদ্ধার: সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জমি দখল করে পুকুর বা নালা খনন করলে জেলা প্রশাসক ৩০ দিন (জরুরি ক্ষেত্রে ৭ দিন) এর মধ্যে তা অপসারণের নির্দেশ দিতে পারেন। অমান্য করলে আদালত কারাদণ্ড বা জরিমানা করতে পারেন।
পরিপত্রের নির্দেশনা: মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, গ্রামীণ সড়কের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যারা আইন লঙ্ঘন করে সড়কের পাশে খনন কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নির্দেশনার অনুলিপি প্রধান প্রকৌশলী (এলজিইডি), বিভাগীয় কমিশনার এবং সকল জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রামীণ জনপদের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে জনগণকে নিয়ম মেনে চলার এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এই পরিপত্রে।

রাস্তা ঘেষে পুকুর করলে কি শাস্তি?
গ্রামীণ রাস্তার ধার ঘেঁষে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুকুর বা জলাশয় খনন করলে বেশ কয়েক ধরনের কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে:
-
২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড: ‘The Building Construction Act, 1952’ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে রাস্তার পাশে পুকুর খনন করলে আদালত দোষী ব্যক্তিকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দিতে পারেন।
-
৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড: দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৩১ ধারা অনুযায়ী, সরকারি রাস্তার ক্ষতিসাধন একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
-
জরিমানা ও উচ্ছেদ: ‘সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ ১৯৭০’ অনুযায়ী, অবৈধভাবে পুকুর খনন করলে জেলা প্রশাসক তা ৩০ দিনের মধ্যে (বিশেষ ক্ষেত্রে ৭ দিন) অপসারণ বা ভরাট করার নির্দেশ দিতে পারেন। নির্দেশ অমান্য করলে জেল বা জরিমানা হতে পারে।
-
বাধ্যতামূলক ভরাট: কর্তৃপক্ষ চাইলে ১৫ দিনের নোটিশে ওই পুকুর বা নালা নিজ খরচে ভরাট বা বন্ধ করার আদেশ দিতে পারেন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (১৯৯৬) অনুযায়ী, সরকারি রাস্তার সীমানা থেকে কমপক্ষে ১০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে এবং ৪৫ ডিগ্রি স্লোপ (ঢাল) রেখে পুকুর খনন করতে হয়। এই নিয়ম না মানলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

