২ ধাপে নয়, একবারে মূল বেতন কার্যকরের পথে সরকার: গ্রেডভেদে বাড়তে পারে ৬০ থেকে ১০০% পর্যন্ত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো (৯ম জাতীয় পে স্কেল) দুই ধাপে নয়, বরং একবারে (১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত একসঙ্গে) বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। মূলত সরকারের অনলাইন বেতন নির্ধারণী প্রক্রিয়া বা আইবাস (iBAS++) সিস্টেমে প্রযুক্তিগত সমন্বয় জটিলতা এড়াতে এবং মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ রোধ করতে এই বিকল্প ভাবা হচ্ছে।
একবারে মূল বেতন কার্যকর করা হলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় কমিশনের মূল সুপারিশের চেয়ে বেতনের হার কিছুটা কমানো হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
কেন দুই ধাপের পরিবর্তে একবারে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত?
অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও কারিগরি ও মনস্তাত্ত্বিক কিছু কারণে অর্থ বিভাগ এককালীন বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে এর প্রধান কারণগুলো হলো:
-
আইবাস (iBAS++) সিস্টেমের জটিলতা: দুই ধাপে মূল বেতন নির্ধারণ ও তা অনলাইনে সমন্বয় করতে গেলে সিস্টেমের ভেতরে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেবে।
-
অতিরিক্ত ব্যয়: দুই বারে ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করার প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তুলনামূলক টাকা খরচ বেশি হবে।
-
কর্মচারী অসন্তোষ: প্রথম ধাপে আংশিক সুবিধা পেলে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা চাকরিজীবীদের মাঝে অসন্তোষ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে মূল বেতন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু (১ জুলাই ২০২৬) থেকে একবারে দেওয়া হলেও যাতায়াত, চিকিৎসা, বাড়িভাড়াসহ যাবতীয় নতুন ভাতার অংশটি দ্বিতীয় ধাপে (২০২৭-২৮ অর্থবছর) কার্যকর করা হবে।
গ্রেডভেদে কেমন বাড়ছে বেতনের হার?
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কমানোর বিষয়টি মাথায় রেখে দুই স্তরে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের রূপরেখা তৈরি হয়েছে:
| গ্রেড বিন্যাস | সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির হার |
| ১ম থেকে ৯ম গ্রেড (কর্মকর্তা পর্যায়) | ৬০% থেকে ৭০% |
| ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (কর্মচারী পর্যায়) | ৯০% থেকে ১০০% |
উল্লেখ্য: জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা (প্রায় ১৪২% বৃদ্ধি) এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত স্ক্রুটিনিতে সামগ্রিক অর্থনীতির চাপ সামলাতে এই হার কিছুটা পরিমার্জন করা হচ্ছে।
পর্যালোচন কমিটির চূড়ান্ত বৈঠক আজ
এদিকে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মন্ত্রিপর্ষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি আজকের বৈঠকে আইবাস সিস্টেমের সক্ষমতা, সরকারের আর্থিক সংশ্লেষ এবং বেতন হ্রাসের চূড়ান্ত হার নিয়ে দিকনির্দেশনা ঠিক করবে।
কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ নবম জাতীয় পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

