৯ম পে স্কেল নিউজ

অনতিবিলম্বে ৯ম পে-স্কেলের রূপরেখা ও গেজেটের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের রাজপথে কড়া হুশিয়ারি: সেপ্টেম্বরের আল্টিমেটাম

দীর্ঘ প্রায় এক দশক (২০১৫ সালের পর) জাতীয় বেতন কাঠামোর কোনো বড় পরিবর্তন না হওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের চরম উর্ধ্বগতির মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল আন্দোলন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ৯ম জাতীয় পে-কমিশনের দীর্ঘ পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ের যৌথ সংগ্রাম শেষে এবার চূড়ান্ত ফয়সালার দাবি তুলেছেন কর্মচারীরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূল কর্মচারী জোটগুলোর সংগঠকদের পক্ষ থেকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের চরম আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছে।

আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

গত ৬-৭ বছর ধরে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বঞ্চনা নিরসন, ইনক্রিমেন্ট বৈষম্য দূরীকরণ এবং নতুন পে-স্কেলের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মচারীদের যুক্তিসঙ্গত দাবির মুখে ৯ম পে-কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন যে, মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্য একশ্রেণির নিষ্ক্রিয় ও নেতিবাচক মানসিকতার লোকের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

‘রাজবন্দী হতেও প্রস্তুত’ – রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ডাক

পে-স্কেলের অগ্রগতি নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ এখন তীব্র অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। আন্দোলনকারী নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনো মিষ্টি কথায় ভরসা না রেখে আগামী সেপ্টেম্বর মাসকে সিদ্ধান্তমূলক মাস ধরে মাঠে নামতে হবে। পে-স্কেল বাস্তবায়নের ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ‘রাজবন্দী’ হতেও নিজেদের প্রস্তুত ঘোষণা করেছেন সাহসী কর্মচারীরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন নীরব থাকার ফলে একটি স্বার্থান্বেষী মহল চক্রান্ত করার সুযোগ পাচ্ছে, তাই এখনই সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়াজ তোলার।

মঞ্চের ভেতরের দ্বিধা ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা

আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ করে সেই সব কর্মীদের সমালোচনা করা হচ্ছে, যারা ভাবেন— আন্দোলন না করলেও সরকার স্বতঃস্ফূর্তভাবে পে-স্কেল দেবে। মাঠপর্যায়ের নেতাদের মতে, এ ধরনের উদাসীন মানসিকতা অর্জিত অধিকার আদায়ের পথকে মন্থর করছে।

আগামীর রূপরেখা ও দাবিদাওয়া

সরকারি চাকরিজীবী ঐক্যজোট ও কর্মচারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সেপ্টেম্বরেই চূড়ান্ত সমাধান: সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পে-স্কেলের অফিশিয়াল গেজেট ও বাস্তবায়নের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে হবে।

  • তৃণমূলের ঐক্য: সকল গ্রেডের কর্মচারী ও শিক্ষকদের মতভেদ ভুলে একক প্লাটফর্মে রাজপথে নামার আহ্বান।

  • কঠোর কর্মসূচি: দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে সর্বাত্মক কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা— বেতন বৈষম্য ও মূল্যস্ফীতির কষাঘাত থেকে মুক্তি পেতে রাজপথের আন্দোলন ছাড়া বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয়, সেপ্টেম্বর মাসে কর্মচারীদের এই হুশিয়ারির পর পে-স্কেল বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *