বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের নতুন নিয়োগ বিধিমালা জারি, ৫৮ পদের নিয়োগ-পদ্ধতি ও যোগ্যতা নির্ধারণ
বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রেষণ/পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নির্ধারণ করে ‘বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৫৯(১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং সংবিধানের ১৪০(২) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় জরিপ অধিদপ্তরের ৫৮টি পদ/পদশ্রেণির জন্য নিয়োগের পদ্ধতি, সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা, পদোন্নতির যোগ্যতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কারিগরি দক্ষতা এবং বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য পদোন্নতির সুযোগ বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালার তফসিলে এসব পদের পৃথক শর্ত দেওয়া হয়েছে।
১৯৮৫ সালের নিয়োগ বিধিমালার পরিবর্তে নতুন বিধিমালা
নতুন বিধিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আগের ‘Officers and Employees of Survey of Bangladesh Recruitment Rules, 1985’-এর পরিবর্তে ২০২৬ সালের নতুন বিধিমালা কার্যকর করা। পুরোনো বিধিমালা বিলুপ্ত হলেও এর আওতায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন কার্যক্রম, গৃহীত ব্যবস্থা, প্রদত্ত আদেশ, নিয়োগ, চাকরি স্থায়ীকরণ বা পদোন্নতির ধারাবাহিকতা বহাল রাখার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো কার্যক্রম অনিষ্পন্ন থাকলে তা নতুন বিধিমালার অধীনেই নিষ্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন বিধিমালা জারির ফলে পূর্ববর্তী বিধিমালার আওতায় সম্পন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হচ্ছে না; বরং ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য স্পষ্ট সুরক্ষা রাখা হয়েছে।
তিনভাবে নিয়োগের সুযোগ
বিধিমালার ৩ নম্বর বিধিতে কোনো পদে নিয়োগের জন্য তিনটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—
- সরাসরি নিয়োগ
- পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ
- প্রেষণ/পদায়নের মাধ্যমে নিয়োগ
তবে প্রত্যেক পদের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতিতে কত শতাংশ বা কোন পর্যায়ের প্রার্থী নিয়োগ পাবেন, তা তফসিলে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক এবং সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে তফসিলে নির্ধারিত বয়সসীমার মধ্যে থাকতে হবে।
সরাসরি নিয়োগে কমিশনের সুপারিশ
নতুন বিধিমালায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়েছে। কমিশনের সুপারিশ ছাড়া কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
এ ছাড়া নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে। কোনো পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হবে কি না, সে বিষয়ে বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
কারা সরাসরি নিয়োগের জন্য অযোগ্য হবেন
বিধিমালা অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা বা ডমিসাইলধারী হতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিক নন—এমন কোনো ব্যক্তিকে বিবাহ করা বা বিবাহের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হবে না।
এ ছাড়া নিয়োগের আগে নির্বাচিত প্রার্থীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পূর্ব-কার্যকলাপ/ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্তের বিধানও রাখা হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন না করা সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেও নিয়োগের সুপারিশ না করার বিধান রয়েছে।
পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো
পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৩-১৬ গ্রেডের কোনো পদ থেকে ১০-১২ গ্রেডের কোনো পদে এবং ১০-১২ গ্রেডের কোনো পদ থেকে ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো কর্মচারীর চাকরির বৃত্তান্ত সন্তোষজনক না হলে তিনি পদোন্নতির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
শিক্ষানবিশকাল কতদিন
নতুন বিধিমালায় স্থায়ী শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য সাধারণভাবে ২ বছরের শিক্ষানবিশকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে নিয়োগের তারিখ থেকে ১ বছরের শিক্ষানবিশকাল থাকবে।
প্রয়োজনে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কারণ লিপিবদ্ধ করে শিক্ষানবিশকাল এক বা একাধিকবার বাড়াতে পারবে, তবে বর্ধিত সময়সহ মোট শিক্ষানবিশকাল ২ বছরের বেশি হতে পারবে না।
চাকরিতে স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার শর্ত রাখা হয়েছে। তবে ৫০ বছর বয়স অতিক্রমকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে বিধিমালায় বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যেভাবে নিয়োগ হবে
তফসিল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জরিপ অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকটি পদে সরাসরি নিয়োগের পরিবর্তে পদোন্নতি ও প্রেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিচালক পদে পদোন্নতিযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে প্রেষণে বদলির মাধ্যমে সমপদমর্যাদার কর্মচারী নিয়োগের বিধান রয়েছে। পরিচালক পদে ৬ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ মোট ২২ বছরের প্রথম শ্রেণির চাকরির অভিজ্ঞতার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
উপপরিচালক (জরিপ) পদে দুই-তৃতীয়াংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং এক-তৃতীয়াংশ প্রেষণের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী পরিচালক (জরিপ) পদে ৭ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং প্রেষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর পর্যায়ের কর্মকর্তা ও জরিপ অধিদপ্তরে ন্যূনতম ৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত রাখা হয়েছে। তফসিলের সংশ্লিষ্ট অংশে এসব শর্ত নির্ধারিত হয়েছে।
সহকারী পরিচালক (জরিপ) পদে ৩২ বছর বয়সসীমা
সহকারী পরিচালক (জরিপ) পদে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর। এ পদে এক-তৃতীয়াংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে, এক-তৃতীয়াংশ প্রেষণে এবং এক-তৃতীয়াংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রাখা হয়েছে।
সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে গণিত, ভূগোল বা পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা নির্দিষ্ট সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিভিন্ন বিকল্প রাখা হয়েছে।
প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োগ
প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সহকারী ম্যানেজার পদে ৩২ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে অফিস সুপারিনটেনডেন্ট বা সীটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদ থেকে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে এবং সরাসরি নিয়োগের জন্য স্নাতকোত্তর/স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণের শর্ত রাখা হয়েছে।
সহকারী ম্যানেজার পদে ৫০ শতাংশ পদ পদোন্নতি এবং ৫০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান রয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে কারিগরি সহকারী (রি-প্রডাকশন) পদে ৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে।
কারিগরি পদে পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের সমন্বয়
নতুন বিধিমালায় জরিপ অধিদপ্তরের কারিগরি জনবলের জন্য অভ্যন্তরীণ পদোন্নতি এবং সরাসরি নিয়োগ—দুই ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে।
যেমন, সাব-এসিস্ট্যান্ট পদে ৫০ শতাংশ পদ পদোন্নতি এবং ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। পদোন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রেড-১ পদে ৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে গণিতসহ স্নাতক ডিগ্রি অথবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমার পাশাপাশি কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতার শর্ত রাখা হয়েছে।
কারিগরি সহকারী (জিওডেসি), কারিগরি সহকারী (মাঠ), কারিগরি সহকারী (অঙ্কন) এবং কারিগরি সহকারী (ফটোগ্রামেট্রি) পদেও পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ এসব পদের সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা ৩২ বছর।
সার্ভেয়ার, স্টোর কিপার ও রেকর্ড কিপার পদে ধাপে ধাপে পদোন্নতি
বিধিমালায় সার্ভেয়ার/ড্রাফটসম্যান/কম্পিউটার গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৪ পর্যন্ত পদোন্নতির একটি ধারাবাহিক কাঠামো রাখা হয়েছে। গ্রেড-২, গ্রেড-৩ ও গ্রেড-৪ পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময় চাকরি করার পর পরবর্তী ধাপে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে।
একই ধরনের কাঠামো স্টোর কিপার এবং রেকর্ড কিপার পদেও রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রেডে ৩ বা ৫ বছরের চাকরি এবং বিভাগীয় প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে পরবর্তী পদে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের শর্ত রাখা হয়েছে।
অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী ও অন্যান্য পদ
নতুন বিধিমালায় অফিস ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সীটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর
- অফিস সুপারিনটেনডেন্ট
- সহকারী লাইব্রেরিয়ান
- প্রধান করণিক
- ক্যাশিয়ার
- উচ্চমান সহকারী
- হিসাব সহকারী
- অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
- ড্রাইভার
- ড্রাইভার মেকানিক
- কম্পাউন্ডার
- সহকারী ইলেকট্রিশিয়ানসহ অন্যান্য পদ।
উচ্চমান সহকারী পদে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা ৩২ বছর হলেও বিভাগীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৪০ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য করার বিধান রয়েছে।
ড্রাইভার ও কারিগরি কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট দক্ষতা
ড্রাইভার মেকানিক পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমান, অটোমোবাইলে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের সনদ, ভারী যানবাহন চালনার লাইসেন্স এবং কমপক্ষে ৩ বছরের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে।
ড্রাইভার পদে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমান এবং সংশ্লিষ্ট হালকা/ভারী যানবাহনের বৈধ লাইসেন্সের পাশাপাশি ন্যূনতম ৩ বছরের গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিম্নপদের নিয়োগেও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ
বিধিমালায় শুধু কর্মকর্তা পর্যায়ের পদ নয়, অধিদপ্তরের বিভিন্ন সহায়ক পদেও শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা প্রহরী, অফিস সহায়ক, খামাল গার্ড ও মালী পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুঠাম দেহের শর্ত রাখা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সুঠাম দেহের শর্তের পাশাপাশি মোট পদের ৮০ শতাংশ পদ জাত ও জাত হরিজন প্রার্থীদের জন্য নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ওই শ্রেণির উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট পদ সাধারণ প্রার্থীর মাধ্যমে পূরণ করা যাবে।
৫৮ পদের কাঠামোয় যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
পুরো তফসিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, নতুন বিধিমালার মূল কাঠামো তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—অভ্যন্তরীণ পদোন্নতি, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রেষণ/পদায়ন এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাগত-কারিগরি যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীর সরাসরি নিয়োগ।
উচ্চ পর্যায়ের পদগুলোতে অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মধ্য পর্যায়ের কারিগরি ও প্রশাসনিক পদে পদোন্নতি এবং সরাসরি নিয়োগের মধ্যে নির্দিষ্ট অনুপাত রাখা হয়েছে। আর নিচের বিভিন্ন কারিগরি ও সহায়ক পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তফসিলের শেষ পর্যন্ত ৫৮ নম্বর ক্রমিকে পৌঁছেছে বিধিমালার পদতালিকা।
চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য কী বোঝায়
নতুন বিধিমালা জারির ফলে জরিপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন পদে সরাসরি আবেদন করা যাবে, কোন পদে বিভাগীয় পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে, কোথায় প্রেষণ হবে এবং কোন শিক্ষাগত বা কারিগরি যোগ্যতা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট বিধিবদ্ধ কাঠামো তৈরি হলো।
তবে এই বিধিমালা জারি হওয়াই কোনো নির্দিষ্ট পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সমান নয়। কোন পদে কতটি শূন্য পদে নিয়োগ হবে এবং কখন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে—তা পৃথক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যাবে।

