Latest News

রেকর্ড উচ্চতায় স্বর্ণের দাম ২০২৬ । ভরিতে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছাড়ালো?

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, আজ বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্যে স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রথমবারের মতো ভালো মানের (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা অতিক্রম করেছে।

বাজুস নির্ধারিত বর্তমান বাজারদর

বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্বর্ণের বিশুদ্ধতা ও মান ভেদে প্রতি আনা এবং প্রতি ভরির মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

স্বর্ণের ধরনপ্রতি আনা (টাকা)প্রতি ভরি (টাকা)
২২ ক্যারেট১৬,৯০২/-২,৭০,৪৩০/-
২১ ক্যারেট১৬,১৩৩/-২,৫৮,১২৪/-
১৮ ক্যারেট১৩,৮২৯/-২,২১,২৬৬/-
সনাতন পদ্ধতি১১,২৮৯/-১,৮০,৬১৭/-

বাজার পরিস্থিতি ও বিশ্লেষণ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের উর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় বাজুস এই মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত কয়েক মাসের তুলনায় বর্তমানে স্বর্ণের দামের এই বৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণের এমন আকাশচুম্বী দাম মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বিশ্বজুড়েই বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের বাজারেও।

ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ

জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে গ্রাহকদের হলমার্ককৃত স্বর্ণ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে করে তারা সঠিক মান ও ওজন নিশ্চিত করতে পারেন। নতুন এই মূল্য পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

স্বর্ণের দাম কি আরও বাড়বে?

স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও অধিকাংশের পূর্বাভাস উর্ধ্বমুখী। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সামনের দিনগুলোর জন্য যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তা নিচে তুলে ধরা হলো:

কেন দাম আরও বাড়তে পারে?

  • আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা: বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (যেমন- ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ) ডলারের বিকল্প হিসেবে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ মজুত করছে। বড় বিনিয়োগকারীরা যখন ডলারের ওপর আস্থা হারান, তখন তারা স্বর্ণকে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ (Safe Haven) হিসেবে বেছে নেন। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিচ্ছেন গোল্ডম্যান স্যাকস (Goldman Sachs)-এর মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

  • ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইতিহাস বলে, যুদ্ধ বা বড় ধরনের সংঘাতের সময় স্বর্ণের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে।

  • স্থানীয় বাজারে সংকট: বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের ‘তেজাবি স্বর্ণ’ (বিশুদ্ধ স্বর্ণ) এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে। ডলারের সংকট বা স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের সরবরাহ কমলে বাজুস দাম বাড়াতে বাধ্য হয়।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস

  • বুলিশ (উর্ধ্বমুখী) ট্রেন্ড: ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ লাখ টাকা স্পর্শ করতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক ধারণা করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে আউন্স প্রতি মূল্য $৫,৪০০ ছাড়িয়ে গেলে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব দেখা যাবে।

  • স্বল্পমেয়াদী সমন্বয়: তবে দাম সবসময় একটানা বাড়ে না। মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের সংশোধন বা প্রফিট বুকিং হলে স্থানীয় বাজারেও দাম কিছুটা কমতে পারে (যেমনটি আমরা ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসে অনেকবার দেখেছি)।

সারসংক্ষেপ

দৃষ্টিভঙ্গিসম্ভাবনাকারণ
দীর্ঘমেয়াদীবৃদ্ধি পাবেকেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুত ও মুদ্রাস্ফীতি।
স্বল্পমেয়াদীউঠানামা করবেবাজারের চাহিদা ও ডলারের দরের পরিবর্তন।

বিনিয়োগ পরামর্শ: যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবেন, তবে স্বর্ণকে নিরাপদ ধরা হয়। তবে যেহেতু দাম এখন রেকর্ড উচ্চতায় আছে, তাই একবারে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ না করে অল্প অল্প করে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *