সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘ভালো কিছু’ হবে—মুখ্যসচিবের আশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চাইল কল্যাণ সমিতি
আলহামদুলিল্লাহ—সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি, প্রত্যাশা ও চলমান বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কর্মচারীদের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মুখ্যসচিবের এ সাক্ষাৎকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা এবং দাবি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। মুখ্যসচিবও তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কর্মচারীদের জন্য ‘ভালো কিছু হবে’ বলে আশ্বস্ত করেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এরপর সংগঠনের সভাপতি আবদুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন তুলে দেন। ফলে এখন কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা করছেন সংগঠনটির নেতারা।
মুখ্যসচিবের আশ্বাসে নতুন প্রত্যাশা
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো নতুন জাতীয় পে-স্কেল। দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর প্রত্যাশায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রস্তাব, সুপারিশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও জানিয়েছিলেন, নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে। তিনি বলেন, সরকারের এ বিষয়ে কমিটমেন্ট রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এমন একটি সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যসচিবের সাক্ষাৎ এবং ‘ভালো কিছু হবে’—এমন আশ্বাস কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি করতে পারে।
কেন এই সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, সুযোগ-সুবিধা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়—এসব বিষয় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার, সর্বনিম্ন মূল বেতন এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাত্রা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সচিব কমিটির প্রস্তাবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
ফলে মুখ্যসচিবের সঙ্গে সংগঠনটির বৈঠককে শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে না দেখে কর্মচারীদের দাবি সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন
বৈঠকের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো—প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছে। এর মাধ্যমে সংগঠনটি কর্মচারীদের দাবি ও প্রত্যাশাগুলো সরাসরি সরকারপ্রধানের কাছে তুলে ধরতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগের গুরুত্বও কম নয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ বি এম আব্দুস সাত্তার; সাম্প্রতিক সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদনটি কত দ্রুত বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং সেখানে কর্মচারীদের কোন কোন দাবি উপস্থাপন করা হবে—সেদিকেই নজর থাকবে।
পে-স্কেল ঘিরে প্রত্যাশা আরও বাড়ছে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই উদ্যোগের পেছনে নবম জাতীয় পে-স্কেল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে এরই মধ্যে সচিব কমিটির সুপারিশ, মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সচিব কমিটি পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তাব নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। একই প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কর্মচারীদের একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান বাজারদর, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সর্বনিম্ন বেতন আরও বাস্তবসম্মত পর্যায়ে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রত্যাশা তুলনামূলক বেশি।
‘ভালো কিছু হবে’—বার্তার তাৎপর্য
মুখ্যসচিবের দেওয়া আশ্বাসকে আপাতত কোনো নির্দিষ্ট বেতন বা ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে এটি কর্মচারীদের দাবিগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বসহকারে বিবেচনার সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অর্থাৎ, ‘ভালো কিছু হবে’—এই বক্তব্যের বাস্তব অর্থ কী দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো এবং সরকারের অনুমোদনের ওপর।
তাই এই মুহূর্তে কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আশ্বাসের পাশাপাশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী আসে, সর্বনিম্ন বেতন কত নির্ধারণ করা হয়, গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির হার কেমন হয় এবং গেজেটে কী ধরনের কাঠামো প্রকাশ করা হয়।
সামনে কী হতে পারে
প্রতিনিধি দলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন গ্রহণের পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর থাকবে। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে নবম জাতীয় পে-স্কেল, সর্বনিম্ন বেতন, গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন সমন্বয় এবং অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো সেখানে গুরুত্ব পেতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির এই সাক্ষাৎকে কর্মচারীদের দাবি আদায়ের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিবের ইতিবাচক আশ্বাস এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আনুষ্ঠানিক আবেদন—দুটি ঘটনাই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পাবে কি না, তার উত্তর মিলবে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদিত কাঠামো প্রকাশের পরই।

