bd Service Rules

পদোন্নতির পরও ১৬তম গ্রেডে বেতন: ১২তম গ্রেডে পে-ফিক্সেশন কীভাবে করবেন?

অনেক সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পদোন্নতি পাওয়ার পর পদবি ও গ্রেড পরিবর্তন হলেও বেতন-সংক্রান্ত রেকর্ডে আগের গ্রেডের তথ্য রয়ে গেছে। ফলে নতুন পদে যোগদান করার পরও কর্মচারী পুরোনো গ্রেড অনুযায়ী বেতন পেতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি ফেলে না রেখে দ্রুত বেতন পুনর্নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা জরুরি।

ধরা যাক, একজন কর্মচারী আগে ১৬তম গ্রেডে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত পদোন্নতি পেয়ে ১২তম গ্রেডের পদে উন্নীত হয়েছেন। কিন্তু পদোন্নতির পরও তার বেতন যদি ১৬তম গ্রেডের হিসাবেই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে প্রথম কাজ হলো—পদোন্নতির আদেশ, যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান বেতন-রেকর্ড যাচাই করা।

পদোন্নতির পর বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে?

পদোন্নতি মানেই সব ক্ষেত্রে ১২তম গ্রেডের একেবারে প্রথম ধাপের বেতন হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। পদোন্নতির সময় কর্মচারী আগের পদে যে মূল বেতন পাচ্ছিলেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়। সরকারি বেতন বিধির পদোন্নতি-সংক্রান্ত নীতিতে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে সাধারণত সংশ্লিষ্ট বেতনস্কেলের সর্বনিম্ন স্তরে বেতন নির্ধারণ করা হয়; তবে পুরোনো পদের মূল বেতন নতুন পদের সর্বনিম্ন বেতনের চেয়ে বেশি হলে, পুরোনো মূল বেতনের অব্যবহিত ওপরের স্তরে নতুন বেতন নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ, “১২তম গ্রেডে উঠেছেন, তাই শুধু ১২তম গ্রেডের প্রথম ধাপ বসিয়ে দিলেই হবে”—এটি সব ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি নয়।

৪/৫ বছর চাকরি করলে কেন বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ?

কোনো কর্মচারী যদি ১৬তম গ্রেডে কয়েক বছর চাকরি করে থাকেন, তাহলে তার বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে বর্তমান মূল বেতন ওই গ্রেডের শুরুর বেতনের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

তাই ১২তম গ্রেডে পদোন্নতির পর পে-ফিক্সেশন করার সময় তার—

  • পূর্বের নিয়োগের তথ্য
  • ১৬তম গ্রেডে মূল বেতন
  • বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হিসাব
  • পদোন্নতির কার্যকর তারিখ
  • পদোন্নতির আদেশ
  • নতুন পদে যোগদানের তারিখ
  • পূর্বের পে-ফিক্সেশন/ভেরিফিকেশন তথ্য

সবকিছু যাচাই করা প্রয়োজন।

এরপর প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ১২তম গ্রেডে তার নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

কীভাবে সমস্যাটি ঠিক করবেন?

প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর অফিসে গিয়ে পদোন্নতির পর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে। যদি না হয়ে থাকে, তাহলে ১২তম গ্রেডের পদোন্নতির ভিত্তিতে পে-ফিক্সেশন করতে হবে।

iBAS-এর সরকারি অনলাইন পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় পদোন্নতি-সংক্রান্ত বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় পদোন্নতি, বদলি, উচ্চতর গ্রেড, বেতন পুনঃনির্ধারণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনলাইনে বেতন নির্ধারণী ফরম পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে তা যাচাই/প্রতিপাদনের কথা বলা হয়েছে।

সাধারণভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে—

১. ১২তম গ্রেডে পদোন্নতির পে-ফিক্সেশন করতে হবে।

২. নির্ধারিত পে-ফিক্সেশন ফরম প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিতে হবে।

৩. পদোন্নতির অফিস আদেশের কপি সংযুক্ত করতে হবে।

৪. প্রয়োজনীয় পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

৫. এরপর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল করতে হবে।

হিসাবরক্ষণ কার্যালয় দাখিলকৃত তথ্য যাচাই করে বেতন নির্ধারণের বিষয়টি প্রতিপাদন করে।

শুধু বেতন বাড়বে—এমন নয়, বকেয়া পাওনার বিষয়ও আসতে পারে

যদি প্রমাণিত হয় যে পদোন্নতির কার্যকর তারিখ থেকেই কর্মচারীর ১২তম গ্রেড অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কথা ছিল, কিন্তু প্রশাসনিক বা হিসাবগত কারণে তিনি পুরোনো গ্রেডে বেতন পেয়েছেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের পর প্রাপ্য বেতন ও ইতোমধ্যে পরিশোধিত বেতনের পার্থক্য সমন্বয়ের বিষয়টি আসতে পারে।

তবে বকেয়া কত হবে বা কোন তারিখ থেকে হবে—তা অনুমান করে বলা ঠিক নয়। পদোন্নতির আদেশ, কার্যকর তারিখ, পে-ফিক্সেশনের নিয়ম এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাইয়ের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে যাচাই করুন

অনেক সময় কর্মচারী মনে করেন তিনি ১৬তম গ্রেডেই বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো পূর্ববর্তী উচ্চতর গ্রেড, টাইমস্কেল, বেতন সংরক্ষণ বা অন্য কোনো কারণে মূল বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।

তাই সরাসরি নতুন করে ফিক্সেশন করার আগে তার সম্পূর্ণ সার্ভিস রেকর্ড ও বেতন-রেকর্ড পরীক্ষা করা উচিত। সরকারি পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থাতেও পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে চাওয়া হয়।

সহজ ভাষায় করণীয়

যদি সত্যিই এমন হয় যে ১৬তম গ্রেড থেকে ১২তম গ্রেডে নিয়মিত পদোন্নতি হয়েছে, কিন্তু এখনো পুরোনো গ্রেড অনুযায়ী বেতন দেওয়া হচ্ছে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অফিসের হিসাব/প্রশাসন শাখায় জানিয়ে পদোন্নতির তারিখ থেকে বেতন নির্ধারণের বিষয়টি যাচাই করান।

এরপর প্রযোজ্য নিয়মে ১২তম গ্রেডের পে-ফিক্সেশন → কর্মকর্তার স্বাক্ষর → পদোন্নতির আদেশসহ হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল → হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই ও প্রতিপাদন—এই প্রক্রিয়ায় এগোনোই যুক্তিযুক্ত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ১২তম গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপ ধরে নিজে নিজে বেতন নির্ধারণ না করে ১৬তম গ্রেডে পদোন্নতির আগের সর্বশেষ মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্টের হিসাব বের করে তারপর পে-ফিক্সেশন করা। কারণ পদোন্নতির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী মূল বেতন নতুন গ্রেডে বেতন নির্ধারণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য iBAS-এর অনলাইন পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও অফিস আদেশের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে।

সুতরাং, সমস্যাটির সমাধান হলো—পদোন্নতির আদেশ হাতে নিয়ে পুরোনো বেতন-রেকর্ড যাচাই করে ১২তম গ্রেডে সঠিক নিয়মে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করা এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে তা প্রতিপাদন করানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *