সোনালী ব্যাংক ও বিকাশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি: সোনালী ই-ওয়ালেটে যুক্ত হলো অ্যাড মানি ও ফান্ড ট্রান্সফার সেবা
দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসি এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বিকাশ লিমিটেডের মধ্যে এক মাইলফলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ‘সোনালী ই-ওয়ালেট’-এর মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন থেকে সরাসরি বিকাশে ‘অ্যাড মানি’ এবং বিকাশ থেকে সোনালী ব্যাংকে ‘ফান্ড ট্রান্সফার’ করার সুবিধা পাবেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষর ও বিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
সেবার মূল সুবিধাসমূহ
এই নতুন ইন্টিগ্রেশনের ফলে উভয় প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মধ্যে একটি নির্বিঘ্ন সেতুবন্ধন উপভোগ করতে পারবেন:
-
বিকাশ অ্যাড মানি: সোনালী ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে গ্রাহকরা মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে (Add Money) পারবেন।
-
ফান্ড ট্রান্সফার: একইভাবে, বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত সহজ ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় অর্থ স্থানান্তর (Fund Transfer) করা যাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব মো. রফিকুল ইসলাম। ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন জেনারেল ম্যানেজার জনাব আকলিমা ইসলাম এবং বিকাশ লিমিটেডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন চিফ কমার্শিয়াল অফিসার জনাব আলী আহম্মেদ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
-
সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জনাব মোহাম্মদ আসলাম হোসেন।
-
বিকাশ লিমিটেডের ইভিপি এবং হেড অব ফিন্যান্স সার্ভিসেস জনাব যায়েদ আমীন।
-
উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নতুন দিগন্ত
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ক্যাশলেস সোসাইটি বিনির্মাণে এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এই যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সোনালী ই-ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা এখন যেকোনো স্থান থেকে সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা তাদের ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের মধ্যে লেনদেন পরিচালনা করতে পারবেন, যা গ্রাহকদের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে।
এই সেবাটি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য সোনালী ব্যাংকের ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং বিকাশের সুবিস্তৃত ইকোসিস্টেম ব্যবহারের পথকে আরও সহজতর করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

