ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে নতুন দিগন্ত: এখন ঘরে বসেই মিলবে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-ঋণ’

দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গতি আনতে এবং ক্যাশলেস সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বাণিজ্যিকভিত্তিতে ‘ই-ঋণ’ (e-loan) বা ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে তফশিলি ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের জন্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এই ঋণ সুবিধা প্রদান করতে পারবে। সোমবার (১১ মে, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ

নতুন এই নির্দেশনানুযায়ী, একজন গ্রাহক ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। মূলত ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপস বা ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে এই সেবা গ্রহণ করা যাবে।

সুদের হার ও খরচ

ই-ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক সুদের হার নির্ধারণ করবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (বিআরপিডি সার্কুলার-১১/২০২২ এর আওতায়) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করলে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯%। এছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সুদ ব্যতীত প্রসেসিং ফি বা অন্যান্য চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়া (End-to-End)

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই ঋণ প্রদানের পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ‘এন্ড-টু-এন্ড’ ডিজিটাল। অর্থাৎ:

  • আবেদন: গ্রাহক সরাসরি অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করবেন।

  • যাচাইকরণ: সশরীরে উপস্থিত না হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

  • স্বাক্ষর: সনাতন পদ্ধতির কাগজের স্বাক্ষরের পরিবর্তে ডিজিটাল স্বাক্ষর বা বায়োমেট্রিক সম্মতি গ্রহণ করা হবে।

  • নিরাপত্তা: পরিচয় নিশ্চিতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সিআইবি এবং খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত কঠোরতা

ঋণ প্রদানের আগে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের ঋণের তথ্য (CIB) যাচাই করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সিআইবি সিস্টেমের সাথে ব্যাংকের এপিআই (API) সংযোগ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হচ্ছে, ততক্ষণ ব্যাংকগুলো সাময়িকভাবে সিআইবি অনুসন্ধান ছাড়াই ঋণ দিতে পারলেও, পরবর্তী সময়ে দ্রুত রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি এই ডিজিটাল ঋণ সুবিধা পাবেন না।

পাইলটিং ও তদারকি

বাণিজ্যিকভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার আগে ব্যাংকগুলোকে অন্তত ৬ মাস মেয়াদী একটি পাইলট প্রকল্প পরিচালনা করতে হবে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়াও সংগৃহীত ডাটা বা তথ্য অবশ্যই বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে থাকা ডাটা সেন্টারে সংরক্ষণ করতে হবে।

আর্থিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ক্ষুদ্র ঋণের জন্য ব্যাংকে যাওয়ার চিরাচরিত ঝক্কি কমিয়ে আনবে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *