সরকারি ওয়েবপোর্টালে বড় পরিবর্তন: ‘এপিএ’ বদলে আসছে ‘জিপিএমএস’ (GPMS)
সরকারি কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও প্রযুক্তিবান্ধব করার লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর এবং মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবপোর্টালে প্রচলিত ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (APA)’ সেবা বক্সের পরিবর্তে ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি’ বা ‘Government Performance Monitoring System (GPMS)’ চালু হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট শাখা থেকে জারিকৃত এক পত্রে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের স্মারক অনুযায়ী এই নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পোর্টালে যে সকল পরিবর্তন আসবে: নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েবপোর্টালে দৃশ্যমান ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি’ বা ‘এপিএ’ শিরোনামটি পরিবর্তন করে ‘সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি (GPMS)’ নামে নামকরণ করতে হবে। একইসঙ্গে এপিএ-এর পূর্ববর্তী লোগো সরিয়ে জিপিএমএস-এর নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া পুরাতন লিংকগুলো সরিয়ে নতুন জিপিএমএস সংক্রান্ত লিংক সংযোজন করার জন্য বলা হয়েছে।
নতুন সিস্টেমে যা যা থাকছে: নতুন এই ব্যবস্থায় নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের সুবিধার্থে চারটি সুনির্দিষ্ট সেকশন বা উপ-বিভাগ যুক্ত করা হবে। সেগুলো হলো: ১. নির্দেশিকা, পরিপত্র, জিপিএমএস (GPMS) টিম ও ফোকাল পয়েন্ট; ২. সংশ্লিষ্ট অফিসের নিজস্ব জিপিএমএস ও ফলাফল; ৩. পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন; ৪. জিপিএমএস সফটওয়্যার লিংক।
পুরানো তথ্যের নিরাপত্তা: পরিবর্তন আসলেও পূর্বের রেকর্ড বা নথিপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়েবপোর্টালে আগে থেকে আপলোড করা এপিএ সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট বা দলিল অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, নতুন সিস্টেমে রূপান্তর হলেও আগের বছরের কাজের রেকর্ডগুলো সংরক্ষিত থাকবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. মো. মাহফুজুল হক স্বাক্ষরিত এই পত্রে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল দপ্তর, সংস্থা ও মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত: প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এপিএ থেকে জিপিএমএস-এ এই রূপান্তর কেবল নাম পরিবর্তন নয়, বরং এটি সরকারি কাজের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি ডিজিটাল মাইলফলক। পরিবীক্ষণ পদ্ধতি আরও শক্তিশালী হওয়ায় সরকারি প্রকল্পের কাজ তদারকি করা এবং ফলাফল মূল্যায়ন করা আগের চেয়ে সহজতর হবে। ২০২৬ সালের এই প্রশাসনিক সংস্করণ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


