গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা ২০২৬ গেজেট প্রকাশ, নিয়োগ-পদোন্নতি ও চাকরির শর্তে এলো নতুন কাঠামো
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, চাকরির স্থায়ীকরণ, ছুটি, বেতন-ভাতা ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়সমূহকে একটি সুসংহত আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে “গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২৬” জারি করেছে সরকার। গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় বিধিমালাটি প্রকাশিত হয়।
নতুন বিধিমালায় কর্পোরেশনের কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, শিক্ষানবিশকাল, পদোন্নতির যোগ্যতা, বেতন নির্ধারণ, জ্যেষ্ঠতা এবং বিভিন্ন ধরনের ছুটির বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কর্পোরেশনের জনবল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিয়োগ হবে চার পদ্ধতিতে
বিধিমালা অনুযায়ী কর্পোরেশনের শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে চারটি পদ্ধতিতে—সরাসরি নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রেষণ (ডেপুটেশন) এবং পদায়নের মাধ্যমে। কোনো পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় পত্রিকা ও অন্যান্য মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং নির্ধারিত শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগের আগে স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা ও চরিত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
শিক্ষানবিশকাল ও স্থায়ীকরণের বিধান
নতুন বিধিমালায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য দুই বছর এবং পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এক বছরের শিক্ষানবিশকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ এ সময়সীমা বাড়াতে পারবে, যদিও বর্ধিত মেয়াদ দুই বছরের বেশি হবে না।
শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করতে পারলে কর্মচারীকে স্থায়ী করা হবে। অন্যদিকে কর্মদক্ষতা বা আচরণ সন্তোষজনক না হলে চাকরি অবসান বা পূর্ববর্তী পদে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পদোন্নতিতে মেধা ও কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন
বিধিমালায় বলা হয়েছে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধু জ্যেষ্ঠতা নয়, বরং কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন এবং নির্ধারিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের জন্য পৃথক তালিকা সংরক্ষণ এবং নিয়মিত হালনাগাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেতন-ভাতা ও চাকরির সুবিধা
বিধিমালায় কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং পদোন্নতির পর নতুন বেতন নির্ধারণের বিষয়ও স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকার সময়ে সময় যে বেতন কাঠামো ও ভাতা অনুমোদন করবে, কর্পোরেশনের কর্মচারীরাও সে সুবিধা পাবেন।
ছুটির ক্ষেত্রে বিস্তৃত সুযোগ
কর্মচারীদের জন্য অর্জিত ছুটি, অর্ধবেতন ছুটি, অসাধারণ ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, অধ্যয়ন ছুটি এবং অন্যান্য বিশেষ ছুটির বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব ছুটি ভোগ করা যাবে বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন পর প্রণীত এই বিধিমালা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক করবে। নিয়োগ থেকে অবসর পর্যন্ত কর্মজীবনের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার ও দায়িত্ব আরও স্পষ্ট হবে।
গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিধিমালাটি কার্যকর হওয়ায় ভবিষ্যতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জনবল ব্যবস্থাপনায় একক নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২৬ (বাংলাদেশ গেজেট)।

