সরকারি আপডেট নিউজ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-প্রহরীদের উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা নিয়ে তদন্ত শুরু

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কর্মরত দপ্তরি-কাম-প্রহরীদের সেবামূল্য, উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে অর্থ বিভাগের কাছে তথ্য চেয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে।


পটভূমি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ও অডিট শাখা থেকে জারিকৃত স্মারক নং-৩৮.০০.০০০০.০০০.০০৬.০২.০০০১.২৫-১৮৮ মোতাবেক জানানো হয়েছে যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কর্মরত দপ্তরি-কাম-প্রহরীদের সেবামূল্য, উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা প্রদানের জন্য ইতোপূর্বে অর্থ বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে বেশ কিছু অনিয়ম ও প্রশ্নের উদ্ভব হওয়ায় অর্থ বিভাগ থেকে বিস্তারিত তথ্যাদি চাওয়া হয়েছে।

এই চিঠিটি দুটি সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা হয়েছে। প্রথমত, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং-৩৮.০১.০০০০.৫০০.২০.১০৩.২০২২-১০৫২, তারিখ: ১২ মার্চ ২০২৬। দ্বিতীয়ত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-০৭.০০.০০০০.০০০.১৫৩.৩৯.০০০১.১৪.৪১৬, তারিখ: ০৮ জুন ২০২৬।


অর্থ বিভাগের পাঁচটি মূল জিজ্ঞাসা

অর্থ বিভাগ এই চিঠিতে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য চেয়েছে:

প্রথমত — আউটসোর্সিং নীতিমালা প্রণয়নে অর্থ বিভাগের সাথে পরামর্শ:
১৬/০৯/২০১৯ তারিখে জারিকৃত “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক জনবল সংগ্রহের সংশোধিত নীতিমালা” প্রণয়নের পূর্বে অর্থ বিভাগের সাথে Rules of Business, 1996 অনুযায়ী পরামর্শ করা হয়েছিল কিনা — সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব চাওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত — নিয়োজিত দপ্তরি-কাম-প্রহরীর সংখ্যা ও নিয়োগকাল:
উক্ত নীতিমালার আলোকে বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট কতজন দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োজিত আছেন এবং তাঁদের কখন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত — অর্থ বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণ:
আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ৩ এর উপ-অনুচ্ছেদ (২) অনুযায়ী, সেবা ক্রয়কারী কর্তৃক সেবাসমূহ সম্পাদনের জন্য অর্থ বিভাগের সম্মতিক্রমে ও নীতিমালা অনুসরণপূর্বক সেবা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োগের পূর্বে অর্থ বিভাগের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কিনা এবং না নেওয়া হলে তার কারণ কী — তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

চতুর্থত — পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ:
আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০১৮-এর অনুচ্ছেদ ৩ এর উপ-অনুচ্ছেদ (৭) অনুযায়ী, সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি নির্বাচনের শর্ত রয়েছে। দপ্তরি-কাম-প্রহরী নিয়োগে এই শর্ত পালন করা হয়েছে কিনা, না হলে কারণ কী — তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

পঞ্চমত — সাকুল্য বেতন কোড ও আউটসোর্সিং যৌক্তিকতা:
সাকুল্য বেতন (কোড-৩২১১১০৯) সরকারি কর্মচারী ব্যতীত প্রকল্পে নিয়োজিতদের সাকুল্য বেতন বাবদ ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোড (কোড নং-৩২১১১৩১) থাকা সত্ত্বেও সাকুল্য বেতন কোড থেকে দপ্তরি-কাম-প্রহরীদের সেবামূল্য প্রদানের আউটসোর্সিং যৌক্তিকতা কতটুকু — এবং আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুসরণ না করা সত্ত্বেও উক্ত নীতিমালা অনুযায়ী প্রহরীদের সেবামূল্য পরিশোধ করার যৌক্তিকতা কী — সে বিষয়েও জবাব চাওয়া হয়েছে।


পরবর্তী করণীয়

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপর্যুক্ত বিষয়াবলির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগের চাহিত তথ্যাদি প্রেরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে সংযুক্তি হিসেবে এক পাতার একটি দলিল উল্লেখ রয়েছে।


স্বাক্ষরকারী কর্মকর্তা

চিঠিটি স্বাক্ষর করেছেন মোঃ জাকির হোসেন খান, সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজ্ঞ), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফোন: ০২-৫৫১০৩১৭। ই-মেইল: sasba1@mopme.gov.bd

চিঠিটি প্রেরণ করা হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মিরপুর-২, ঢাকা বরাবর।


বিশ্লেষণ

এই চিঠি থেকে স্পষ্ট যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগকৃত দপ্তরি-কাম-প্রহরীদের উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা প্রদান নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান নীতিমালা ও আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা এবং অর্থ বিভাগের পূর্বানুমতি ছাড়াই এত বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কিনা — সে বিষয়ে সরকার এখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাইছে। এই তদন্তের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে এই কর্মীরা উৎসব ভাতা ও নববর্ষ ভাতা পাবেন কিনা।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *