৯ম পে স্কেল নিউজ

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: নতুন বেতন-ভাতা আদেশ জারি, ১ জুলাই থেকে কার্যকর—পূর্ণ সুবিধা মিলবে ধাপে ধাপে

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এই আদেশে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব, শিক্ষা সহায়ক, টিফিন, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা এবং অনলাইনে বেতন নির্ধারণের নিয়ম বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করেছে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হয়েছে

১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনস্কেল কার্যকর

নতুন আদেশ অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে বিদ্যমান জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-এর পরিবর্তে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬-এর সমতুল্য স্কেল কার্যকর হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে।

নতুন স্কেলে—

  • ১ম গ্রেডের মূল বেতন: ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত।
  • ২য় গ্রেড: ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।
  • ৩য় গ্রেড: ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা।
  • ৪র্থ গ্রেড: ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা।
  • ৫ম গ্রেড: ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা।
  • ৬ষ্ঠ গ্রেড: ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
  • ৭ম গ্রেড: ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা।
  • ৮ম গ্রেড: ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা।
  • ৯ম গ্রেড: ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা।
  • ২০তম গ্রেড: ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পুরো বেতন একবারে নয়, ধাপে ধাপে

নতুন বেতনস্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নতুন নির্ধারিত বেতন ও ৩০ জুন ২০২৬-এর বিদ্যমান বেতনের পার্থক্যের পুরোটা একসঙ্গে কার্যকর না করে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

আদেশ অনুযায়ী—

প্রথম ধাপ:
১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত—

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বে পার্থক্যের ৪০ শতাংশ
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে পার্থক্যের ৫০ শতাংশ

বিদ্যমান বেতনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপ:
১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত—

  • ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বে পার্থক্যের ৭০ শতাংশ
  • ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে পার্থক্যের ৭৫ শতাংশ

প্রদান করা হবে।

তৃতীয় ধাপ:
১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন নির্ধারিত ১০০ শতাংশ মূল বেতন কার্যকর হবে।

অর্থাৎ নতুন বেতনস্কেলের পূর্ণ আর্থিক সুবিধা পেতে সরকারি কর্মচারীদের ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে নতুন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হয়েছে।

১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত বকেয়াও প্রাপ্য

আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মচারীরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের বেতন বকেয়া হিসেবে পাবেন। ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ আদেশ জারি হওয়ায় ১ জুলাই থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য পার্থক্য হিসাবের আওতায় আসবে।

এ কারণে নতুন বেতন নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বকেয়া অর্থ হিসাব করে পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।

বেতন নির্ধারণ হবে ‘পার্থক্য পদ্ধতিতে’

নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরাসরি নতুন স্কেলের কোনো একটি ধাপে বসিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান বেতনের সঙ্গে নতুন স্কেলের সমতুল্য প্রারম্ভিক বেতনের পার্থক্য হিসাব করার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদেশে উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। কোনো কর্মচারীর বর্তমান বেতন যদি সংশ্লিষ্ট পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ওই অতিরিক্ত অংশ নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করা হবে। যোগফল নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

৮ বছর পর উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ

নতুন আদেশে উচ্চতর গ্রেডের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে, চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে ৯ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার অধিকারী হবেন।

প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর পদোন্নতি ছাড়া চাকরি করলে ৭ম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এ সুবিধা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে প্রযোজ্য এবং পূর্ববর্তী বেতনস্কেলে একই পদে সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা গ্রহণের ইতিহাস থাকলে নতুন করে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

পেনশনেও বড় পরিবর্তন

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশে বিদ্যমান পেনশন ও গ্রাচুইটির হার বহাল রাখার কথা বলা হলেও নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন অনুযায়ী বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে—

বিদ্যমান নিট পেনশন বৃদ্ধির হার
সর্বনিম্ন–৯,০০০ টাকা ১০০%
৯,০০১–২০,০০০ টাকা ৭৫%
২০,০০১–৩০,০০০ টাকা ৬৫%
৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা ৬০%
৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব ৫৫%

এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ নিট পেনশনের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।

পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত শতাংশ এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে নতুন নিট পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা: ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা

নতুন আদেশে চিকিৎসা ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে—

  • ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত: মাসিক ৩,০০০ টাকা
  • ৫০ বছর ১ দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত: মাসিক ৪,০০০ টাকা

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা আরও ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার, ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে মাসিক ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাড়িভাড়া ভাতা: নতুন হার কার্যকর ২০২৮ সালে

নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। তার আগে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬-এ প্রচলিত হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

২০২৮ সাল থেকে গ্রেড ও কর্মস্থলের এলাকার ভিত্তিতে বাড়িভাড়া ভাতার হার হবে—

  • গ্রেড ২০ থেকে ১৬: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০%, নির্ধারিত অন্যান্য এলাকায় ৫০%, অন্যান্য স্থানে ৪৫%
  • গ্রেড ১৫ থেকে ১০: ঢাকায় ৫০%, অন্যান্য নির্ধারিত বড় শহরে ৪০%, অন্যান্য স্থানে ৩৫%
  • গ্রেড ৯ থেকে ৫: ঢাকায় ৪৫%, অন্যান্য নির্ধারিত বড় শহরে ৩৫%, অন্যান্য স্থানে ৩০%
  • গ্রেড ৪ থেকে ১: ঢাকায় ৪০%, অন্যান্য নির্ধারিত বড় শহরে ৩০%, অন্যান্য স্থানে ২৫%

সরকারি বাসস্থানে বসবাসকারী কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না।

উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা

নতুন আদেশে বার্ষিক উৎসব ভাতা ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বছরে দুইটি উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও বহাল রয়েছে।

অন্যদিকে সকল কর্মচারীর জন্য বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা সহায়ক ভাতা বাড়েনি

নতুন আদেশে শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১,০০০ টাকা রাখা হয়েছে। ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের জন্য নির্ধারিত শর্তে এ ভাতা প্রাপ্য হবে।

অর্থাৎ নতুন জাতীয় বেতনস্কেল জারি হলেও শিক্ষা সহায়ক ভাতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেওয়া হয়নি।

টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থায় টিফিন সুবিধা রয়েছে, সেখানে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা

সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোবাইল ভাতা হিসেবে—

  • ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: ৫০০ টাকা
  • ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: ১৫০ টাকা

মাসিক মোবাইল ভাতা প্রাপ্য হবে।

পাহাড়ি ও হাওড়/দ্বীপচর ভাতা

পার্বত্য জেলাগুলোর জেলা সদর ও সদর উপজেলায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় একই হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যাবে।

হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষ ভাতা পাওয়া কয়েকটি শ্রেণিতে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ

এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মচারীদের বিদ্যমান বিশেষ ভাতা, বিশেষ গার্ড ভাতা, ক্ষতিপূরণ ভাতা বা ঝুঁকি ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এ সুবিধা নতুন মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে গণনা করা হবে না; ৩০ জুন ২০২৬-এ যে টাকার অঙ্কে সংশ্লিষ্ট ভাতা পাওয়া যেত, সেই অঙ্কের ওপর ২০ শতাংশ যোগ হবে।

অনলাইনেই হবে বেতন নির্ধারণ

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল বাস্তবায়নে অনলাইন বেতন নির্ধারণ পদ্ধতিও বাধ্যতামূলক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেমে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে বেতন নির্ধারণী বিবরণী দাখিল করতে হবে।

গেজেটেড কর্মচারীরা নির্ধারিত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড এবং নন-গেজেটেড কর্মচারীরা এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও ওটিপির মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশ করবেন। তথ্য সাবমিটের পর ডিডিও যাচাই করে হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন এবং অনুমোদনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে।

কম-বেশি বেতন পরিশোধ হলে সমন্বয় হবে

অনলাইনে চূড়ান্তভাবে প্রতিপাদিত বেতন নির্ধারণী বিবরণের ভিত্তিতেই বেতন পরিশোধ করা হবে। কোনো ক্ষেত্রে কম বা বেশি বেতন পরিশোধ হলে পরবর্তী সময়ে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।

এতে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সময় ভুল হিসাব হলে তা সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

২০১৫ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশ রহিত

‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ নতুন আদেশের মাধ্যমে রহিত করা হয়েছে। তবে পুরোনো আদেশের যেসব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিধান নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বহাল থাকবে বলে নতুন আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক নজরে নতুন বেতন ও ভাতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বিষয় নতুন আদেশের বিধান
কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬
সর্বোচ্চ মূল বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা
সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা
গ্রেড ২০টি
১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পার্থক্যের ৪০%/৫০%
১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭ পার্থক্যের ৭০%/৭৫%
১ জুলাই ২০২৭ পূর্ণ ১০০% নতুন বেতন
টিফিন ভাতা ১১–২০ গ্রেডে ৫০০ টাকা
শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তানপ্রতি ৫০০, সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা
চিকিৎসা ভাতা ৩,০০০–৪,০০০ টাকা
বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫%
যাতায়াত ভাতা ১১–২০ গ্রেডে ৬০০ টাকা
মোবাইল ভাতা ১৫০–৫০০ টাকা
নতুন বাড়িভাড়া হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে
পূর্ণ নতুন পেনশন ১ জুলাই ২০২৭ থেকে
বেতন নির্ধারণ অনলাইন পদ্ধতিতে

সার্বিকভাবে, ১৭ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া এই আদেশে শুধু নতুন বেতনস্কেল নির্ধারণ করা হয়নি; বরং বেতন নির্ধারণ, বেতনবৃদ্ধি, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, ভাতা, বকেয়া এবং অনলাইন পে-ফিক্সেশন—সবকিছুর জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও এর আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে দেওয়া হবে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। ভাতার বড় অংশের নতুন হার আবার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬

সরকারি চাকুরি (বেতন ও ভাতিদি) আদেশ, ২০২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *