৯ম পে স্কেল নিউজ

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: গেজেট জারি, ১ জুলাই থেকে কার্যকর—বেতন বাড়বে ধাপে, পূর্ণ সুবিধা মিলবে পর্যায়ক্রমে

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও একাধিক ধাপের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬–এর পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা ১৯ পৃষ্ঠার এই প্রজ্ঞাপনে শুধু নতুন মূল বেতন নয়, বরং বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল ও বিভিন্ন বিশেষ ভাতার বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করে। অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছিল, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য

নতুন প্রজ্ঞাপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশ হয়েছে সেপ্টেম্বরে হলেও নতুন বেতনস্কেলের কার্যকারিতা পিছিয়ে দেওয়া হয়নি।

তবে কার্যকর তারিখ এবং বাস্তবে পুরো নতুন বেতন হাতে পাওয়ার সময় এক নয়। প্রজ্ঞাপনে নতুন মূল বেতনের পার্থক্য পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে ১ জুলাই থেকে নতুন স্কেলের অধিকার সৃষ্টি হলেও পুরো বর্ধিত মূল বেতন একবারে কার্যকর হচ্ছে না।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে নতুন মূল বেতন

নতুন বেতনস্কেলের আর্থিক প্রভাব একসঙ্গে সরকারের ওপর না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের কাঠামো অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম ধাপে ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্ধারিত বেতন ও বিদ্যমান বেতনের পার্থক্যের নির্দিষ্ট অংশ কার্যকর হবে।

এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ দ্বিতীয় ধাপে আরও বেশি অংশ কার্যকর হবে।

সবশেষে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন মূল বেতন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া পরিবর্তনটি ২০২৭ সালের জুলাইয়ে গিয়ে পূর্ণ কাঠামোয় পৌঁছাবে।

সরকারের আগের অনুমোদন-সংক্রান্ত ঘোষণাতেও বলা হয়েছিল, মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বিভিন্ন ভাতা পরবর্তী সময়ে কার্যকর হবে।

২০ গ্রেডই থাকছে, বদলাচ্ছে মূল বেতন

নতুন পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বেতন হলো—

গ্রেড নতুন প্রারম্ভিক/নির্ধারিত মূল বেতন
১ম ১,৫৬,০০০ টাকা
২য় ১,৩২,০০০ টাকা
৩য় ১,১৩,০০০ টাকা
৪র্থ ১,০০,০০০ টাকা
৫ম ৮৬,০০০ টাকা
৬ষ্ঠ ৭১,০০০ টাকা
৭ম ৫৮,০০০ টাকা
৮ম ৪৬,০০০ টাকা
৯ম ৪৪,০০০ টাকা
১০ম ৩২,০০০ টাকা
১১তম ২৫,০০০ টাকা
২০তম ২০,০০০ টাকা

প্রজ্ঞাপনের বেতনস্কেল সংক্রান্ত সারণিতে ২০টি গ্রেডের নতুন ধাপ ও সংশ্লিষ্ট বেতনক্রম বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সময়ও সরকার জানিয়েছিল, ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। সর্বনিম্ন গ্রেডে বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।

বেতন ফিক্সেশন কীভাবে হবে

নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ হবে নতুন বেতন নির্ধারণ বা Pay Fixation

প্রজ্ঞাপনে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কর্মচারীর বিদ্যমান মূল বেতন বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেলে সংশ্লিষ্ট বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মচারীর পুরোনো স্কেলের বেতন নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সঙ্গে সরাসরি না মিললে নির্ধারিত নিয়মে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

এর ফলে একই গ্রেডের সব কর্মচারীর বেতন শুধু প্রারম্ভিক বেতন দিয়ে নির্ধারিত হবে না; ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কার কত মূল বেতন ছিল, সেটিও নতুন বেতন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৮ বছর পর উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ

নতুন প্রজ্ঞাপনে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে।

কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে নির্দিষ্ট শর্তে ৮ বছর পূর্ণ করলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপরও পদোন্নতি না হলে নির্দিষ্ট সময় পর আরও একটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে আগের বেতনস্কেলে একই পদে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা গ্রহণের ইতিহাস থাকলে নতুন সুবিধা নির্ধারণে পৃথক বিধান প্রযোজ্য হবে।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের তারিখও নির্ধারিত

নতুন কাঠামোতে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির বিষয়েও সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। যোগ্যতা পূরণকারী কর্মচারীদের ১ জুলাই তারিখে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হিসাবও নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে।

পেনশনেও বড় পরিবর্তন

নতুন বেতনস্কেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পেনশন পুনর্নির্ধারণ

মন্ত্রিসভার অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কম নিট পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তদের জন্য তুলনামূলক বেশি হারে পেনশন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন স্ল্যাবে ৭৫, ৬৫, ৬০ ও ৫৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনেও পেনশন ও অবসর-পরবর্তী সুবিধা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কাঠামো রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা ও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা

নতুন বেতন কাঠামোয় চিকিৎসা ভাতার হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বয়সভেদে কর্মরত ও পেনশনভোগীদের জন্য পৃথক চিকিৎসা ভাতার কাঠামো রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো সন্তানপ্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট অংশেও প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য নির্ধারিত ভাতার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ল

নতুন পে-স্কেলে মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে।

আগের কাঠামোয় সীমিতসংখ্যক গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেলেও নতুন সিদ্ধান্তে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে গ্রেডভেদে মোবাইল ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট সারণিতে মোবাইল, টিফিন ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতার পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।

১১ থেকে ২০ গ্রেডে টিফিন ও যাতায়াত ভাতা

নতুন কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য কয়েকটি বিশেষ সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা মাসে ৫০০ টাকা করার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত এলাকায় কর্মরত এসব গ্রেডের কর্মচারীদের মাসিক যাতায়াত ভাতা ৬০০ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এর ফলে নতুন পে-স্কেল শুধু মূল বেতন বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; অপেক্ষাকৃত কম বেতনের কর্মচারীদের জন্য আলাদা কয়েকটি সহায়ক সুবিধাও যুক্ত হচ্ছে।

বাংলা নববর্ষ ভাতা থাকবে ১৫ শতাংশ

নতুন প্রজ্ঞাপনে বাংলা নববর্ষ ভাতাও বহাল রাখা হয়েছে। কর্মচারীরা আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

বাড়িভাড়া ভাতায় পরিবর্তন—তবে পরে

নতুন পে-স্কেলের আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো বাড়িভাড়া ভাতা।

প্রজ্ঞাপনের কাঠামো অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন হারে বাড়িভাড়া কার্যকর না করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদ্যমান হার বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে।

ঢাকা ও অন্যান্য সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য গ্রেডভেদে আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ কারণে নতুন পে-স্কেলের বাস্তব আর্থিক সুবিধা হিসাব করার সময় শুধু নতুন মূল বেতন দেখলেই হবে না; কোন ভাতা কোন তারিখে কার্যকর হচ্ছে—সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত, নতুন কাঠামো কার্যকর

নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রজ্ঞাপনে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পূর্বের বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো কর্মচারীর বর্তমান মোট বেতন ও নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী সম্ভাব্য মোট প্রাপ্য হিসাব করার ক্ষেত্রে শুধু মূল বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক যোগ করলে প্রকৃত পার্থক্য পাওয়া যাবে না। কোন পুরোনো সুবিধা বন্ধ হচ্ছে এবং কোন নতুন ভাতা কোন সময়ে চালু হচ্ছে—সেটিও হিসাবের অংশ হবে।

iBAS++-এ অনলাইনে বেতন ফিক্সেশন

নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়নে iBAS++ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রজ্ঞাপনে অনলাইনে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মচারীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য দিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে যাচাই ও অনুমোদনের পর বেতন ফিক্সেশনের ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে।

ফলে আগামী ধাপে কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—নতুন স্কেলে নিজের বেতন কোন ধাপে নির্ধারিত হচ্ছে, Pay Fixation-এ তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না এবং ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে কি না—তা যাচাই করা।

বকেয়া বেতনও গুরুত্বপূর্ণ

যেহেতু নতুন বেতনস্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর, অথচ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে সেপ্টেম্বরে, তাই ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশের মধ্যবর্তী সময়ের প্রাপ্য অর্থ হিসাবের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রজ্ঞাপনে কার্যকর তারিখ ও পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের কাঠামো থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং প্রাপ্য পার্থক্য হিসাব করে পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

এক নজরে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬

বিষয় নতুন সিদ্ধান্ত
কার্যকর তারিখ ১ জুলাই ২০২৬
মোট গ্রেড ২০টি
সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১,৫৬,০০০ টাকা
মূল বেতন বাস্তবায়ন ৩ ধাপে
পূর্ণ নতুন মূল বেতন ১ জুলাই ২০২৭
নতুন বাড়িভাড়া কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৮
প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা সন্তানপ্রতি ৩,০০০ টাকা
টিফিন ভাতা ১১–২০ গ্রেডে ৫০০ টাকা
যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা
বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ১৫%
মোবাইল ভাতা সব গ্রেডের আওতায়
উচ্চতর গ্রেড নির্ধারিত চাকরিকাল ও শর্তসাপেক্ষে
বেতন ফিক্সেশন iBAS++ অনলাইনে

শেষ কথা

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রায় এক দশক পর নতুন বেতন কাঠামোর আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি স্পষ্ট হলো। তবে গেজেট প্রকাশের পরই সব সুবিধা একসঙ্গে হাতে আসছে না। মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন, ভাতা পরবর্তী সময়ে কার্যকর এবং iBAS++-এ নতুন করে বেতন ফিক্সেশনের কারণে সামনে রয়েছে আরও কয়েকটি বাস্তবায়ন ধাপ।

সরকারের অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছিল।

অতএব, ১ জুলাই ২০২৬ কার্যকর তারিখ হলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরজুড়ে ধাপে ধাপে বেতন সমন্বয় এবং পরবর্তী সময়ে ভাতা কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়েই জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে। প্রজ্ঞাপনের ১৯ পৃষ্ঠায় বেতন থেকে শুরু করে পেনশন ও ভাতা পর্যন্ত যে বিস্তারিত কাঠামো দেওয়া হয়েছে, এখন তার বাস্তব প্রয়োগই হবে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *