আবগারি শুল্ক: ডিসেম্বরেই কাটছে অর্থ! ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ওপর নির্ভর করছে কর্তনের পরিমাণ - Technical Alamin
ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ

আবগারি শুল্ক: ডিসেম্বরেই কাটছে অর্থ! ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ওপর নির্ভর করছে কর্তনের পরিমাণ

প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের শেষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) বাবদ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়। এই শুল্কের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় অ্যাকাউন্টধারীর জানুয়ারি ১ থেকে ডিসেম্বর ৩১ তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ভিত্তিতে। গ্রাহকের সর্বোচ্চ বার্ষিক ব্যালেন্সের স্ল্যাব অনুযায়ী এই শুল্কের হার ভিন্ন হয়।

চলতি ডিসেম্বর মাসেও অ্যাকাউন্টধারীদের কাছ থেকে এই শুল্ক কর্তন করা হবে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য শুল্কের হার নিচে দেওয়া হলো:

সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের পরিমাণ (জানুয়ারি ১ – ডিসেম্বর ৩১)আবগারি শুল্কের পরিমাণ (টাকা)
০ থেকে ৩,০০,০০০০ টাকা
৩,০০,০০১ থেকে ৫,০০,০০০১৫০ টাকা
৫,০০,০০১ থেকে ১০,০০,০০০৫০০ টাকা
১০,০০,০০১ থেকে ৫০,০০,০০০৩,০০০ টাকা
৫০,০০,০০১ থেকে ১,০০,০০,০০০৫,০০০ টাকা
১,০০,০০,০০১ থেকে ২,০০,০০,০০০১০,০০০ টাকা
২,০০,০০,০০১ থেকে ৫,০০,০০,০০০২০,০০০ টাকা
৫,০০,০০,০০১ থেকে তদূর্ধ্ব৫০,০০০ টাকা

🔥 গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

  • কখন কাটা হবে? সাধারণত ডিসেম্বর মাসের শেষ কার্যদিবসে ব্যাংকগুলো এই অর্থ কর্তন করে থাকে।

  • কীভাবে নির্ধারিত হয়? এই শুল্ক ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের ব্যালেন্সের উপর নয়, বরং সারা বছরের (জানু-১ থেকে ডিসে-৩১) মধ্যে যে কোনো এক সময় অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ অর্থ ছিল, তার উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে বছরের কোনো এক সময় সর্বোচ্চ ১১ লক্ষ টাকা থাকে (১০,০০,০০১ – ৫০,০০,০০০ স্ল্যাবে), তবে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৩,০০০ টাকা আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হবে, যদিও বর্তমানে তার অ্যাকাউন্টে ৫ লক্ষ টাকা থাকতে পারে।

  • গ্রাহকদের নিজেদের সর্বোচ্চ বার্ষিক ব্যালেন্স সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং সেই অনুযায়ী আবগারি শুল্কের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অ্যাকাউন্টে নিশ্চিত রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টাকাটা ব্যাংক নাকি সরকার নেয়?

এই টাকাটি কেটে নেয় ব্যাংক, কিন্তু তা সরাসরি জমা হয় সরকারের কোষাগারে

বিষয়টি সহজভাবে নিচে তুলে ধরা হলো:

আবগারি শুল্ক (Excise Duty): টাকা যায় কোথায়?

  • কর্তনকারী (Collector): আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাটি ব্যাংক কেটে নেয়।

  • চূড়ান্ত প্রাপক (Recipient): ব্যাংক এই সংগৃহীত শুল্কের সম্পূর্ণ অর্থ সরকারকে (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা NBR-কে) জমা দিয়ে দেয়।

সহজ কথায়:

ব্যাঙ্ক আপনার হয়ে সরকারের রাজস্ব বা করের অংশ হিসাবে এই অর্থ কেটে নেয় এবং সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। ব্যাংক এখানে সরকারের পক্ষে একটি সংগ্রাহক (Collector) বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

এটি একটি পরোক্ষ কর (Indirect Tax) যা সরকার ব্যাংক আমানতের উপর আরোপ করে।

টাকা কাটার মত ব্যালেন্স ডিসেম্বরে না থাকলে?

যদি আপনার অ্যাকাউন্টে আবগারি শুল্ক কাটার জন্য পর্যাপ্ত ব্যালেন্স ডিসেম্বরে না থাকে, তবে নিম্নলিখিত ঘটনাগুলো ঘটতে পারে:

🚨 যা হতে পারে:

  • ঋণাত্মক ব্যালেন্স (Negative Balance): ব্যাংক আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে আবগারি শুল্কের সম্পূর্ণ পরিমাণ কেটে নেবে। এর ফলে আপনার অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স শূন্যের নিচে (নেগেটিভ) চলে যেতে পারে।

  • ভবিষ্যতে কর্তন: পরবর্তী সময়ে যখনই আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে, ব্যাংক সবার আগে সেই নেগেটিভ ব্যালেন্স বা বকেয়া আবগারি শুল্কের টাকাটি কেটে নেবে।

  • পরিষেবা স্থগিত: কিছু ক্ষেত্রে, যতক্ষণ না আপনি বকেয়া শুল্ক পরিশোধ করছেন, ততক্ষণ আপনার অ্যাকাউন্টের কিছু পরিষেবা (যেমন এটিএম কার্ড বা অনলাইন লেনদেন) সাময়িকভাবে স্থগিত থাকতে পারে, যদিও এটি ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আবগারি শুল্ক একটি সরকারি বাধ্যবাধকতা। এর পরিমাণ নির্ধারিত হয় সারা বছরের সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে। ডিসেম্বর মাসে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলেও ব্যাংক এই টাকাটি কেটে নিতে বাধ্য এবং বকেয়া হিসেবে গণ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *