Pay Fixation ফিক্সেশন

iBAS++ পে-ফিক্সেশনে বড় বাধা! পদবি ও কর্মস্থলের নাম নেই, ‘POST UNKNOWN’ ও NID ত্রুটিতে বিপাকে সরকারি চাকরিজীবীরা

সরকারি চাকরিজীবীদের পে-ফিকেশন কার্যক্রমে iBAS++ পোর্টাল ব্যবহার করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কর্মচারী বর্তমান কর্মস্থলের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না, কারও পদবি ড্রপডাউন মেনুতে নেই, আবার কারও প্রোফাইলে ‘POST UNKNOWN’ দেখাচ্ছে। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর ও জন্মতারিখ সঠিকভাবে দেওয়ার পরও কেউ কেউ পাচ্ছেন ‘NID and Date of Birth Not Matching’ বার্তা। ফলে নতুন বেতন নির্ধারণের আবেদন সঠিকভাবে সম্পন্ন করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মচারী, মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মীদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সমস্যার ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কোথাও বিদ্যালয়ের নাম পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও সহকারী রেজিস্ট্রার, কিউরেটর, প্রশিক্ষক, সহকারী প্রশিক্ষক কিংবা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মতো পদবির অপশন দেখা যাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঠিক পদবির পরিবর্তে ভিন্ন নাম প্রদর্শিত হচ্ছে।

চাকরিজীবীদের উদ্বেগ, পে-ফিকেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় তথ্যই যদি পোর্টালে না থাকে, তাহলে তাঁরা কীভাবে আবেদন সম্পন্ন করবেন? ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে পরবর্তী সময়ে যাচাই ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

iBAS++ পে-ফিকেশনে সমস্যার মূল জায়গা কোথায়?

পে-ফিকেশন প্রক্রিয়ায় কর্মচারীর পরিচিতি, পদবি, গ্রেড, বর্তমান কর্মস্থল, পূর্ববর্তী চাকরির ইতিহাস এবং প্রাসঙ্গিক বেতনসংক্রান্ত তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে আবেদন সম্পন্ন করা বা পরবর্তী পর্যায়ে যাচাই করার সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে পোর্টালে কোনো তথ্য না পাওয়া মানেই যে কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে তথ্য নেই, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ভুল অফিস নির্বাচন, অসম্পূর্ণ কর্মচারী প্রোফাইল, তথ্যের ম্যাপিংয়ের অসংগতি, ব্যবহারকারীর ইনপুট কিংবা সাময়িক কারিগরি সমস্যাও সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

তাই প্রতিটি সমস্যার ক্ষেত্রে ত্রুটির ধরন শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি।

১. প্রাথমিক শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের নাম ড্রপডাউনে আসছে না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক পে-ফিকেশন ফরমের ‘৩.২ বর্তমান অফিসের তথ্য: মাঠ পর্যায়ে অফিস/অপারেশনাল ইউনিট’ অংশে তাঁদের কর্মরত বিদ্যালয়ের নাম না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের নাম না থাকলে সঠিক কর্মস্থল নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কোনো শিক্ষক যদি নিজের বিদ্যালয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে বাধ্য হন, তাহলে পরবর্তী সময়ে তথ্যের অসংগতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

করণীয়: সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে প্রথমে নিজের বিদ্যালয়ের নাম, EMIS কোড এবং কর্মচারীর প্রোফাইলে সংরক্ষিত কর্মস্থলের তথ্য যাচাই করতে হবে। এরপর উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট DDO-কে বিষয়টি জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অফিস কোড ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই বা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

বিদ্যালয়ের নাম তালিকায় না থাকলে অনুমান করে অন্য বিদ্যালয় নির্বাচন না করাই নিরাপদ।

২. সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদবি নেই

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক জানিয়েছেন, পে-ফিকেশন করতে গিয়ে তাঁরা ‘সিনিয়র শিক্ষক’ পদবির অপশন পাচ্ছেন না। আবার একই ধরনের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে এই পদবি পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বর্তমান পদবি, পদকোড, কর্মস্থলের তথ্য এবং প্রোফাইলে সংরক্ষিত রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।

পদবি তালিকায় না থাকলে সংশ্লিষ্ট DDO, প্রশাসনিক শাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করা যেতে পারে। কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন হলে অনুমোদিত চ্যানেলে তথ্য সংশোধনের অনুরোধ জানাতে হবে।

৩. ‘POST UNKNOWN’ দেখালে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে?

iBAS++-এর Employee Report-এ কর্মচারীর পদের নামের জায়গায় ‘POST UNKNOWN’ দেখানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর স্ট্যাটাস Active এবং তিনি নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন—তারপরও পদনামের ঘরে এমন তথ্য দেখালে সেটি যাচাই করা জরুরি।

কারণ, নিয়মিত বেতন পাওয়া এবং কর্মচারীর সব পদসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকা দুটি আলাদা বিষয়।

পদবি বা পদকোডের তথ্যের সঙ্গে অসংগতি থাকলে পে-ফিকেশন যাচাইয়ের সময় অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে ‘POST UNKNOWN’ দেখালেই আবেদন বাতিল হবে বা পে-ফিকেশন নিশ্চিতভাবে আটকে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

করণীয়: DDO বা সংশ্লিষ্ট হিসাব শাখার মাধ্যমে কর্মচারীর পদনাম, পদকোড, গ্রেড এবং সার্ভিস রেকর্ড যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।

৪. ক্যাশিয়ারের জায়গায় ‘কোষাধ্যক্ষ’ দেখাচ্ছে

কোনো কর্মচারীর নিয়োগপত্রে পদবি ‘ক্যাশিয়ার’ লেখা থাকলেও পোর্টালে ‘কোষাধ্যক্ষ’ প্রদর্শিত হলে সেটি যাচাই করা প্রয়োজন।

পদবির বাংলা ও ইংরেজি নামের ভিন্নতা কখনো অনুবাদজনিত বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু শুধু নামের মিল দেখে দুটি পদকে একই হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।

নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক এবং অনুমোদিত পদকোডের সঙ্গে পোর্টালের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। পদনাম বা কোডে অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশোধনের অনুরোধ জানানো উচিত।

৫. বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারসহ বিভিন্ন পদের অপশন নেই

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, সহকারী প্রশিক্ষক, সহকারী রেজিস্ট্রার এবং মেডিকেল কলেজের কিউরেটরসহ কয়েকটি পদবির অপশন পাওয়া যাচ্ছে না।

কোনো কোনো কর্মচারীর প্রথম যোগদানের পদবি কিংবা সাবস্ট্যানটিভ পদের তথ্যও তালিকায় অনুপস্থিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, সংশ্লিষ্ট পদবি সঠিক অফিস ও কর্মচারী প্রোফাইলের অধীনে খোঁজা হচ্ছে কি না। এরপর নিয়োগপত্র, পদোন্নতির আদেশ এবং সার্ভিস বুকের তথ্যের সঙ্গে পোর্টালে প্রদর্শিত রেকর্ড মিলিয়ে নিতে হবে।

পদবি সত্যিই অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, DDO এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

৬. সঠিক NID ও জন্মতারিখ দিয়েও লগইন ব্যর্থ

‘NID and Date of Birth Not Matching’ বার্তাটি দেখলে প্রথমে তথ্যের অমিলের সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে।

সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে NID নম্বরে ভুল, জন্মতারিখের ফরম্যাটের অমিল, কর্মচারীর প্রোফাইলে পুরোনো তথ্য কিংবা যাচাই ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটি।

সমাধানের জন্য—

  • NID নম্বর ও জন্মতারিখ পুনরায় মিলিয়ে দেখতে হবে।
  • পোর্টালে নির্ধারিত ফরম্যাট অনুসরণ করতে হবে।
  • সার্ভিস বুক ও কর্মচারীর প্রোফাইলে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করতে হবে।
  • প্রয়োজনে অন্য ব্রাউজার বা ইনকগনিটো উইন্ডো ব্যবহার করে পুনরায় চেষ্টা করা যেতে পারে।
  • একই সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট DDO বা অনুমোদিত কারিগরি সহায়তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

অন্য কোনো সরকারি ওয়েবসাইটে NID-এর তথ্য সঠিক দেখালেই iBAS++-এর রেকর্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।

৭. প্রথম যোগদানের পদবি না থাকলে কী করবেন?

পে-ফিকেশনে চাকরির ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম যোগদানের পদবি, পরবর্তী পদোন্নতি এবং বর্তমান পদবির মধ্যে তথ্যগত সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

প্রথম যোগদানের পদবি তালিকায় না থাকলে নিজের অনুমান অনুযায়ী অন্য পদ নির্বাচন করা উচিত নয়। এতে চাকরির ইতিহাস ও পে-ফিকেশন রেকর্ডের মধ্যে অসংগতি থেকে যেতে পারে।

এক্ষেত্রে নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, পদোন্নতির আদেশ ও সার্ভিস বুক যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পদবি সংযুক্ত বা সংশোধনের অনুরোধ জানাতে হবে।

৮. পারিবারিক তথ্য সংরক্ষণ হচ্ছে না

কর্মচারীর প্রোফাইলে পারিবারিক তথ্য সংরক্ষণ বা সংশোধন করতে না পারার অভিযোগও রয়েছে।

প্রথমে পরিবারের সদস্যদের নাম, সম্পর্ক, জন্মতারিখ এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না দেখতে হবে। কোনো ঘর ফাঁকা থাকা বা তথ্যের ফরম্যাট ভুল হওয়ার কারণে সংরক্ষণ ব্যর্থ হতে পারে।

সব তথ্য সঠিক থাকার পরও সমস্যা হলে ত্রুটির স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জানানো উচিত। প্রয়োজন হলে কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে সমস্যাটি পরীক্ষা করাতে হবে।

৯. বদলি ও যোগদানের তারিখে ভুল হলে

নিয়োগ, বদলি, অব্যাহতি ও যোগদানের তারিখ পে-ফিকেশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এন্ট্রি করার সময় তারিখের ক্রমে অসংগতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট আদেশপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।

পূর্ববর্তী কর্মস্থল থেকে অব্যাহতির তারিখ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ আলাদা ঘটনা। তাই পোর্টাল কোনো তারিখ গ্রহণ না করলে প্রকৃত তারিখ পরিবর্তন করে দেওয়ার পরিবর্তে সমস্যার কারণ যাচাই করা প্রয়োজন।

১০. আবেদন সাবমিট করার পর সংশোধন করা যাবে কি?

অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রথমবার পে-ফিকেশন করতে গিয়ে ভুল তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশোধনের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আবেদন সাবমিট হয়ে DDO পর্যায়ে চলে গেলে সংশোধনের পদ্ধতি নির্ভর করতে পারে আবেদনের বর্তমান অবস্থা এবং পোর্টালে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর জন্য থাকা অপশনের ওপর।

আবেদনটি DDO-কে জানিয়ে অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় ফেরত নেওয়া বা সংশোধনের সুযোগ আছে কি না নিশ্চিত করতে হবে। Send Back, Reject কিংবা Cancel অপশন সব পর্যায়ে একইভাবে কাজ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়ে গেলে নিজে থেকে তথ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

১১. PRL-এ থাকা কর্মচারীদের পে-ফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন

অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের পে-ফিকেশন কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে অবসরের তারিখ, চাকরির অবস্থা এবং প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ।

সব PRL কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট DDO ও হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে প্রযোজ্য বিধান এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

১২. মোবাইল নম্বর পরিবর্তন ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা

iBAS++-এ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। চাকরিজীবীদের একটি অংশ মনে করেন, পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা বজায় রেখেও এ ধরনের কাজ আরও সহজ করা সম্ভব।

তবে মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের জন্য কোন পর্যায়ে অনুমোদন প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট পোর্টালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে।

একটি কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও নির্দিষ্ট সহায়তা কেন্দ্র থাকলে একই ধরনের সমস্যায় কর্মচারীদের বারবার বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করার প্রয়োজন কমতে পারে।

পে-ফিকেশনে ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

বিভিন্ন সমস্যার ধরন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, শুধু ব্যবহারকারীদের নির্দেশনা দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন তথ্যের নির্ভুলতা, দপ্তরভিত্তিক সমন্বয় এবং কার্যকর কারিগরি সহায়তা।

এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে—

১. বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদিত পদবি ও অফিস কোডের তথ্য যাচাই করা।

২. কর্মচারীর প্রোফাইল এবং সার্ভিস রেকর্ডের অসংগতি শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা।

৩. পদবি বা কর্মস্থলের নাম না এলে অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা তৈরি করা।

৪. আবেদন ফেরত নেওয়া ও সংশোধনের নিয়ম স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা।

৫. সাধারণ সমস্যার জন্য ব্যবহারকারীবান্ধব নির্দেশিকা তৈরি করা।

৬. অভিযোগ নিষ্পত্তির অগ্রগতি সম্পর্কে আবেদনকারীকে জানানো।

৭. ভুল তথ্যের কারণে আবেদন আটকে গেলে সংশোধনের অনুমোদিত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পে-ফিকেশন প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি পরামর্শ

পে-ফিকেশন করতে গিয়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে নিজের তথ্য যাচাই করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট DDO, প্রশাসনিক শাখা বা হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তা নিন। পদবি বা কর্মস্থলের নাম না পেলে অনুমানভিত্তিক বিকল্প নির্বাচন করবেন না।

ত্রুটির স্ক্রিনশট, কর্মচারীর পরিচিতি নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বা পদোন্নতির আদেশ প্রস্তুত রাখলে সমস্যাটি বুঝিয়ে বলতে সুবিধা হবে। তবে পাসওয়ার্ড, OTP কিংবা সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য অননুমোদিত কারও সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

শেষ কথা

সরকারি চাকরিজীবীদের পে-ফিকেশন কেবল একটি অনলাইন ফরম পূরণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে বেতন নির্ধারণ, চাকরির রেকর্ড এবং প্রশাসনিক যাচাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে। তাই পোর্টালে পদবি না পাওয়া, অফিসের নাম না আসা, ‘POST UNKNOWN’ দেখানো কিংবা NID যাচাই ব্যর্থ হওয়ার মতো সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করা প্রয়োজন।

চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যাগুলোর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে পে-ফিকেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও ব্যবহারবান্ধব সুবিধা বাড়ানো হবে, যাতে সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি তৈরি না হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন চাকরিজীবীদের উত্থাপিত সমস্যা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত। নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণ, পে-ফিকেশনে তার প্রভাব এবং সংশোধনের আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও কর্মচারীর রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *