‘আমার পে-স্কেল, আমার অধিকার’: অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন
সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন কাঠামোর দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠছে রাজপথ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক মিলনায়তনে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন (চট্টগ্রাম জেলা শাখা) এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তাদের মূল স্লোগান ছিল— “আমার পে-স্কেল, আমার অধিকার; অবিলম্বে পে-স্কেল দিয়ে দাও।”
৫ দফা দাবি উপস্থাপন
সংবাদ সম্মেলনে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়:
-
অবিলম্বে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ৯ম পে-স্কেল দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
-
দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন: বর্তমান লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের বাজারে টিকে থাকার মতো সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা।
-
বৈষম্য দূরীকরণ: সকল গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসন করা।
-
যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস: জাতীয় বেতন কাঠামোর যৌক্তিক ও সময়োপযোগী সংস্কার।
-
মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতকরণ: সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত অধিকার সুরক্ষা।
বক্তাদের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, “৫ম পে-স্কেল থেকে পরবর্তী ধাপগুলোতে যাওয়ার যে সময়সীমা ছিল, তা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ কর্মচারীদের পরিবার নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”
তারা আরও যোগ করেন, সরকারি কর্মচারীরা দেশের চাকা সচল রাখে, অথচ তাদেরই আজ নিজেদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে। যদি অবিলম্বে এই দাবি মানা না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উপস্থিতি
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম জেলা শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীরা এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি সংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন।

