প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যবদলে সরকারের বড় উদ্যোগ : ১০টি পেশায় প্রশিক্ষণ ও ২৮,০০০ টাকার অনুদান
দেশের প্রান্তিক ও ঐতিহ্যবাহী পেশার সাথে জড়িত মানুষদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে এক মহতী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০টি সুনির্দিষ্ট পেশার মানুষদের আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং এককালীন নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর এখন দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তথ্যটি শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার পরিচিত প্রান্তিক পেশাজীবীদের এই দারুণ সুযোগটি সম্পর্কে জানাতে পারেন।
নিচে প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
মোট সহায়তার পরিমাণ ও সুবিধা
নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীরা কোর্স চলাকালীন এবং কোর্স শেষে মোট ২৮,০০০ টাকা আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর বিভাজন নিম্নরূপ:
-
প্রশিক্ষণ ভাতা: ১০,০০০ টাকা।
-
এককালীন অনুদান: ১৮,০০০ টাকা (পেশার টেকসই উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির জন্য নগদ সহায়তা)।
-
অন্যান্য সুবিধা: আধুনিক ও টেকসই পণ্য উৎপাদন, পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার এবং বিপণন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১০ দিনের বিশেষ ‘সফট স্কিলস’ প্রশিক্ষণ।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনা
সারাদেশে অনলাইন সনাক্তকরণ জরিপের মাধ্যমে প্রায় ৪.২৭ লক্ষ প্রান্তিক আদি পেশাজীবীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে:
-
দেশের ৮টি বিভাগের ৫৭টি জেলার ১৫০টি উপজেলার প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ১২,০০০ জন যোগ্য পেশাজীবীকে এই ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
-
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সমসংখ্যক (১২,০০০ জন) সদস্যকে প্রশিক্ষণ শেষে এককালীন ১৮,০০০ টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।
-
দেশের ৮টি বিভাগে ৮টি প্রান্তিক শিল্প প্রদর্শনী ও বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পেশাজীবীদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় করে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও প্রচারণা চালানো হবে।
যে ১০টি পেশার মানুষ এই সুবিধা পাবেন
প্রকল্পটি মূলত আমাদের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী ১০টি প্রান্তিক পেশাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে: ১. কামার ২. কুমার ৩. হেয়ার ড্রেসিং ও বিউটিফিকেশন (নাপিত) ৪. বাঁশ ও বেতপণ্য প্রস্তুতকারক ৫. কাঁসা ও পিতলপণ্য প্রস্তুতকারক ৬. জুতা মেরামত ও প্রস্তুতকারী ৭. লোকজযন্ত্র প্রস্তুতকারক (একতারা, দোতারা, বাঁশি, মন্দিরা ইত্যাদি) ও লোকজ শিল্পী (বাউল, গম্ভীরা, কীর্তন, ঢপ, ভাষান/জারি ইত্যাদি) ৮. নকশী কাঁথা শিল্প ৯. শীতল পাটি ১০. শতরঞ্জি
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে দেশের ১০২টি উপজেলায় সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে (যার মধ্যে কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জ জেলার সকল উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল)। প্রথম ধাপের সফলতার পর এখন দ্বিতীয় ধাপের কাজ চলছে। এই পর্যায়টি সফলভাবে সম্পন্ন হলে পরবর্তী সময়ে তৃতীয় ধাপ শুরু হবে, যেখানে আরও নতুন নতুন উপজেলা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার চাইলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনা করে এই কার্যক্রমকে নিয়মিত রূপ দিতে পারে।
বিশেষ অনুরোধ: আপনার একটি শেয়ারে হয়তো কোনো সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক কারিগর বা শিল্পী এই অনুদান ও প্রশিক্ষণের খোঁজ পেতে পারেন। তাই তথ্যটি প্রচুর শেয়ার করুন এবং আপনার এলাকার যোগ্য ব্যক্তিদের এটি সম্পর্কে জানিয়ে উপকৃত করুন।

