শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি, জাতীয় সেবা, ভাতা ও চাকরি তথ্যের নির্ভরযোগ্য সাইট

সর্বশেষ
বিদ্যুৎ সাশ্রয় থেকে দুর্নীতি দমন, সরকারি কাজে গতি আনতে ২৩ দফা নির্দেশনা সরকারি সেবা পেতে কমবে ভোগান্তি? সেবা সহজীকরণ নির্দেশিকা–২০২৬-এ প্রক্রিয়া পুনর্বিন্যাসের গুরুত্ব সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল তৈরিতে নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ, তথ্য দিলেই স্বয়ংক্রিয় হিসাব ও PDF ০৩ মাসের বকেয়া বিলের হিসাব অটো : মূল বেতন থেকে বকেয়া নিরূপণ, এক ক্যালকুলেটরেই মিলবে মাসওয়ারি হিসাব আইবাস++-এ জিপিএফ ত্রুটিতে বেতন বিল দাখিলে জটিলতা, ডিডিও অপশনে সংশোধনের পরামর্শ টিন আছে, রিটার্ন নেই: ই-রিটার্নে জরিমানার অঙ্ক দেখে ঘাবড়াবেন না, আইনে আছে মওকুফের পথ এইচএসসি ফল প্রকাশ শনিবার: অনলাইনে ও এসএমএসে ফল জানার নিয়ম, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ অনুদানের নতুন হার নির্ধারণ, চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা নতুন বেসিকে অক্টোবরের বেতন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি, পে-ফিকেশন অনুমোদনে যেসব বিষয় জানা জরুরি এমপিও শিক্ষকদের অবসর ভাতার হিসাব: ১০ থেকে ২৫ বছর চাকরিতে কত টাকা, জেনে নিন নিয়ম

শতাংশ, কাঠা নাকি বিঘা—জমি কেনাবেচায় বিভ্রান্তি এড়াতে সচেতন হওয়ার আহ্বান

জমি কেনাবেচায় বিভ্রান্তি এড়াতে সচেতন হওয়ার আহ্বান
শতাংশ, কাঠা নাকি বিঘা—জমি কেনাবেচায় বিভ্রান্তি এড়াতে সচেতন হওয়ার আহ্বান ছবি: টেকনিক্যাল আলামিন

জমি কেনা বা বিক্রির সময় ‘শতাংশ’, ‘কাঠা’ ও ‘বিঘা’—এই তিনটি পরিমাপের একক নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন অনেকেই। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ বিঘার পরিমাণ একেক রকম হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি, আর্থিক ক্ষতি এমনকি আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জমির সঠিক হিসাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি তথ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক বার্তা প্রকাশ করেছে Bhumi (ভূমি)।

সচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়েছে, জমির পরিমাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একক হলো শতাংশ (Decimal)। কারণ এটি সারাদেশে একই মানে ব্যবহৃত হলেও ‘কাঠা’ ও ‘বিঘা’ অনেক এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপে প্রচলিত রয়েছে।

প্রচলিত হিসাব কী?

তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অনেক এলাকায় প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী—

  • ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট
  • ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট (প্রায় ১.৬৫ শতাংশ)
  • ২০ কাঠা = ১ বিঘা = ৬০ শতাংশ

তবে এটি সব এলাকার জন্য প্রযোজ্য নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে।

‘বিঘা’র পরিমাণ এলাকায় ভেদে ভিন্ন

তথ্যচিত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিঘা’ একটি স্থানীয় বা আঞ্চলিক পরিমাপ হওয়ায় এর আয়তন দেশের বিভিন্ন জেলায় ভিন্ন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে—

  • ঢাকার অনেক এলাকায় ১ বিঘা ≈ ৩৩ শতাংশ
  • রাজশাহীর অনেক এলাকায় ১ বিঘা ≈ ২০ শতাংশ
  • সিলেটের অনেক এলাকায় ১ বিঘা ≈ ৫২ শতাংশ

এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিঘার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। তাই কেবল ‘বিঘা’ বা ‘কাঠা’ শুনে জমির পরিমাণ নির্ধারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

জমি কেনাবেচার আগে যা যাচাই করবেন

ভূমি বিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তায় জমি লেনদেনের আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—

  • জমির দলিল পরীক্ষা করা।
  • খতিয়ান মিলিয়ে দেখা।
  • জমির পরিমাণ শতাংশ বা ডেসিমাল হিসেবে নিশ্চিত করা।
  • দাগ নম্বর যাচাই করা।
  • প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে জমির অবস্থান ও সীমানা নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ভূমি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে জমির দলিল, খতিয়ান ও সরকারি রেকর্ডে সাধারণত শতাংশ বা ডেসিমাল একক ব্যবহার করা হয়। তাই জমির মূল্য নির্ধারণ বা ক্রয়-বিক্রয়ের সময় কাঠা বা বিঘার পরিবর্তে শতাংশ অনুযায়ী হিসাব করাই নিরাপদ। এতে পরবর্তীতে পরিমাপজনিত বিরোধের আশঙ্কা কমে।

এছাড়া জমি কেনার আগে প্রয়োজন হলে একজন লাইসেন্সধারী সার্ভেয়ার বা সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সচেতনতার বার্তা

তথ্যচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে—

“কাঠা-বিঘা শুনে নয়, কাগজে উল্লেখ থাকা শতাংশ দেখে সিদ্ধান্ত নিন।”

ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি কেনাবেচায় সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই দলিল ও সরকারি রেকর্ডে উল্লেখিত শতাংশ বা ডেসিমাল হিসাব যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য প্রকাশের আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।