জিমেইলের এই ৭টি সিক্রেট ফিচার আপনার দৈনন্দিন কাজকে করবে আরও সহজ ও নিরাপদ
যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ জিমেইল (Gmail) ব্যবহার করছেন। তবে অনেকেই জিমেইলকে শুধু ই-মেইল পাঠানো এবং গ্রহণের একটি সাধারণ মাধ্যম হিসেবেই চেনেন। আসলে এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এমন কিছু চমৎকার ফিচার, যা আপনার দৈনন্দিন ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজকে আমূল বদলে দিতে পারে। জিমেইলের ভেতরের কিছু দুর্দান্ত সেটিংস জানা থাকলে আপনার ইনবক্স সামলানো যেমন সহজ হবে, তেমনি তথ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে শতভাগ।
চলুন জেনে নেওয়া যাক জিমেইলের ৭টি দারুণ কার্যকারী ফিচার সম্পর্কে, যা আপনার ইনবক্সকে করে তুলবে আরও স্মার্ট ও গোছানো:
১. গুরুত্বপূর্ণ মেইল পরে দেখার জন্য ‘Snooze’ সুবিধা
ব্যস্ততার মাঝে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কোনো মেইল এলে আমরা তা দেখেও উত্তর দেওয়ার সময় পাই না। পরবর্তীতে কাজের চাপে তা ইনবক্সের নিচে তলিয়ে যায় এবং আমরা ভুলে যাই। এই সমস্যার চমৎকার সমাধান হলো Snooze ফিচার। এর মাধ্যমে আপনি যেকোনো মেইলকে সাময়িকভাবে ইনবক্স থেকে সরিয়ে রাখতে পারেন এবং একটি নির্দিষ্ট দিন বা সময় সেট করে দিতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে মেইলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার আপনার ইনবক্সের একদম ওপরে চলে আসবে, যেন একটি রিমাইন্ডার!
২. ‘Multiple Inbox’ দিয়ে সাজিয়ে রাখুন কাজের ক্ষেত্র
প্রতিদিন ইনবক্সে শত শত মেইল জমা হলে প্রয়োজনীয় বার্তাটি খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই ঝক্কি থেকে মুক্তি দিতে জিমেইলে রয়েছে Multiple Inbox সুবিধা। এর সাহায্যে আপনি আপনার প্রধান ইনবক্সকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিতে পারেন। যেমন:
-
না পড়া মেইল (Unread)
-
গুরুত্বপূর্ণ বা স্টার দেওয়া মেইল (Starred)
-
খসড়া বার্তা (Draft)
-
নির্দিষ্ট লেবেল বা ক্যাটাগরির মেইল
এর ফলে পুরো ইনবক্স চোখের নিমিষেই গোছানো দেখাবে।
৩. তথ্যের শতভাগ নিরাপত্তায় ‘Confidential Mode’
অফিসের অত্যন্ত সংবেদনশীল বা গোপন কোনো তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে জিমেইলের Confidential Mode একটি যুগান্তকারী ফিচার। এই মোড ব্যবহার করে মেইল পাঠালে আপনি মেইলের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ (Expiry Date) নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই প্রাপকের ইনবক্স থেকে মেইলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে। এছাড়া, প্রাপকের পরিচয় নিশ্চিত করতে এর সাথে ‘SMS Passcode’ যুক্ত করার সুবিধাও রয়েছে, যার ফলে সঠিক কোড ছাড়া মেইলটি খোলাই যাবে না।
৪. ‘Email Alias’—এক অ্যাকাউন্টে একাধিক পরিচয়
আপনার মূল ই-মেইল ঠিকানার সাথে একটি প্লাস (+) চিহ্ন এবং নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে একাধিক ভিন্ন ভার্চুয়াল ঠিকানা তৈরি করতে পারেন।
-
উদাহরণ: আপনার মেইল যদি হয়
yourname@gmail.com, তবে আপনি কেনাকাটার ওয়েবসাইটের জন্যyourname+shopping@gmail.comবা নিউজলেটারের জন্যyourname+newsletters@gmail.comব্যবহার করতে পারেন।সব মেইল আপনার মূল ইনবক্সেই আসবে, তবে আলাদা ফিল্টার ব্যবহার করে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কোন মেইল কোথা থেকে আসছে। এটি স্প্যাম মেইল শনাক্ত করতেও দারুণ কার্যকর।
৫. ইন্টারনেট ছাড়াই জিমেইল: ‘Offline Mode’
অনেকেরই ধারণা ইন্টারনেট ছাড়া ই-মেইল দেখা বা ড্রাফট করা সম্ভব নয়। কিন্তু জিমেইলের Offline Mode এই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এই ফিচারটি চালু থাকলে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও আপনি পুরোনো মেইল পড়তে পারবেন, যেকোনো মেইল সার্চ করতে পারবেন এবং নতুন মেইলের ড্রাফটও তৈরি করে রাখতে পারবেন। পরবর্তীতে যখনই আপনার ডিভাইসটি ইন্টারনেটের সংস্পর্শে আসবে, আপনার করা সব পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট ও সিনক্রোনাইজ হয়ে যাবে।
৬. ‘Advanced Search’—কয়েক সেকেন্ডে পুরোনো মেইল উদ্ধার
হাজারো মেইলের ভিড়ে মাসের বা বছরের পুরোনো কোনো মেইল খুঁজে পাওয়া খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতোই কঠিন। তবে জিমেইলের Advanced Search ফিল্টার ব্যবহার করে চোখের পলকেই তা সম্ভব। এই ফিচারের মাধ্যমে আপনি:
-
প্রেরকের নাম (Sender)
-
নির্দিষ্ট সময়সীমা (Date range)
-
ফাইলের ধরন বা আকার (File type and size)
-
মেইলের ভেতরের নির্দিষ্ট কোনো শব্দ
ইত্যাদি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে নিমেষেই কাঙ্ক্ষিত মেইলটি খুঁজে বের করতে পারবেন।
৭. ভুল শুধরে নেওয়ার শেষ সুযোগ ‘Undo Send’
তাড়াহুড়ো করে মেইল পাঠাতে গিয়ে প্রাপকের নাম ভুল হওয়া, ফাইল অ্যাটাচ করতে ভুলে যাওয়া কিংবা টাইপিংয়ে ভুল থাকা খুবই সাধারণ বিষয়। মেইলটি চলে যাওয়ার পর আফসোস করার দিন শেষ। জিমেইলের Undo Send ফিচার চালু থাকলে মেইল পাঠানোর পর স্ক্রিনের নিচে কয়েক সেকেন্ডের জন্য একটি ‘Undo’ অপশন পপ-আপ করে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্লিক করলে মেইলটি পাঠানো বাতিল হয়ে যায় এবং পুনরায় সংশোধন করে পাঠানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
সারকথা
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, জিমেইল কেবল বার্তা আদান-প্রদানের কোনো সাধারণ মাধ্যম নয়; বরং এটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের যোগাযোগকে আরও গতিশীল, সুরক্ষিত এবং সুশৃঙ্খল করার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। ওপরের এই ৭টি স্মার্ট ফিচার ব্যবহার করে আপনিও আপনার জিমেইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে নিয়ে যেতে পারেন এক নতুন উচ্চতায়।

