প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈমিত্তিক ছুটির নতুন নিয়ম: শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ক্লাস নেবেন কে, তা আবেদনেই উল্লেখ করার নির্দেশ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave) গ্রহণের ক্ষেত্রে এক নতুন ও যুগান্তকারী নিয়ম বা সংশোধিত ফরমের ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন থেকে কোনো শিক্ষক নৈমিত্তিক ছুটি নিতে চাইলে তার অনুপস্থিতিতে কোন সহকর্মী বা বিকল্প শিক্ষক উক্ত ক্লাসের দায়িত্ব পালন করবেন, তা ছুটির আবেদন ফরমেই সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত নৈমিত্তিক ছুটির একটি সংশোধিত আবেদন ফরমের নমুনা থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নতুন এই সংশোধিত ফরমে দেখা যাচ্ছে, প্রধান শিক্ষকের নিকট করা ২ (দুই) দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদনের মূল বিবরণের ঠিক নিচেই একটি বিশেষ শর্ত ও ছক জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আবেদন ফরমে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: “উল্লেখ্য থাকে যে, উক্ত দিনগুলোতে আমার অনুপস্থিতিতে ক্লাস পরিচালনা করবেন ……….. স্যার।”
শুধু তাই নয়, বিকল্প হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী উক্ত শিক্ষকের সম্মতি ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ফরমে একটি বিশেষ টেবিল যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের নাম, পদবি এবং স্বাক্ষর প্রদানের জন্য আলাদা কলাম রাখা হয়েছে।
কেন এই নতুন পরিবর্তন? সংশ্লিষ্ট শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে শিক্ষকেরা নৈমিত্তিক ছুটিতে গেলে অনেক সময় বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হতো এবং সংশ্লিষ্ট শ্রেণিকক্ষগুলো শিক্ষকশূন্য অবস্থায় পড়ে থাকত। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে এক ধরনের সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। এই প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যেই মূলত নৈমিত্তিক ছুটির এই আবেদন ফরমটি সংশোধন করা হয়েছে।
উদ্যোগের সুফল: নতুন এই নিয়মের ফলে কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকাকালীন সময়েও বিদ্যালয়ের রুটিনমাফিক ক্লাস বা পাঠদান সচল থাকবে। ছুটির আবেদনকারী শিক্ষক পূর্বেই তার একজন সহকর্মীকে ক্লাসের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকও স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষকদের পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানও কোনো বাধা ছাড়াই সম্পন্ন হবে।
সহকারী শিক্ষকদের পদবি সংবলিত এই নতুন ফরমটি ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবহারের জন্য নমুনা হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা সচেতন মহল এবং অভিভাবকেরা এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এক নতুন জবাবদিহিতার পরিবেশ তৈরি হবে।


