সরকারি আপডেট নিউজ

বিধবা ভাতার পরিধি ও হার বাড়ছে: নতুন যুক্ত হচ্ছেন ১ লাখ নারী, জুলাই থেকে পাবেন ৭০০ টাকা

দেশের দুস্থ, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিধবা ভাতার পরিধি এবং মাসিক ভাতার হার—উভয়ই বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন অর্থবছর থেকে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের মাসিক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৭০০ টাকা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরও ১ লক্ষ সুবিধাভোগী নারীকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপকারভোগী ৩০ লাখে উন্নীত

সামাজিক নিরাপত্তা খাতের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যা বর্তমানের ২৯ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে সরাসরি ৩০ লাখে উন্নীত হবে। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া ১ লক্ষ অসচ্ছল নারী সরাসরি সরকারি এই সহায়তার আওতায় আসবেন, যা গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বাড়ছে মাসিক ভাতার হার

বর্তমানে (২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত) তালিকাভুক্ত নারীরা প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করে সরকার এই ভাতার পরিমাণ ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছর থেকেই এই বর্ধিত হার কার্যকর হবে।

যেভাবে মিলবে ভাতার টাকা

বরাবরের মতোই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সরাসরি G2P (Government to Person) পদ্ধতিতে এই ভাতার টাকা বিতরণ করা হবে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই উপকারভোগী নারীদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব (যেমন: বিকাশ বা নগদ) অথবা এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রতি তিন মাস পর পর এক কিস্তিতে এই অর্থ পৌঁছে যাবে।

বাজেট ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বিকেলে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বৈষম্য হ্রাসের লক্ষ্যে এই কল্যাণমুখী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত ও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে নতুন ১ লক্ষ সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া ও মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *