জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: ১ জুলাই থেকে কার্যকর নতুন কাঠামো ডেমো পিডিএফ, তিন ধাপে শতভাগ বেতন—বাড়িভাড়া ও ভাতায়ও বড় পরিবর্তন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশিত হয়েছে। অর্থ বিভাগের জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ সরকারি কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন, বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক, টিফিন, যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতার বিস্তারিত বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। নথিতে আদেশটি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশের তথ্য রয়েছে এবং নতুন কাঠামোর কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন বেতনস্কেলের আর্থিক সুবিধা একদিনে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়ন করা হবে এবং ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন বেতনের পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হবে। অন্যদিকে বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে আরও পরে—১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকেই নতুন পে স্কেল কার্যকর
গেজেটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশের তারিখ সেপ্টেম্বর হলেও বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা পিছিয়ে যাবে না।
এ কারণে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত যে বেতন পার্থক্য সৃষ্টি হবে, তা বিধি অনুযায়ী বকেয়া হিসেবে প্রাপ্য হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে দেওয়া বিশেষ সুবিধার অর্থ নতুন বেতনস্কেলের সঙ্গে সমন্বয়ের বিধান রাখা হয়েছে।
তিন ধাপে নতুন বেতন বাস্তবায়ন
নতুন পে স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পর্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়ন।
প্রথম ধাপ: ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
নতুন নির্ধারিত মূল বেতন এবং ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনের পার্থক্যের—
- ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: ৪০ শতাংশ
- ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: ৫০ শতাংশ
বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে যোগ হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭
এ পর্যায়ে পার্থক্যের—
- ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব: ৭০ শতাংশ
- ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: ৭৫ শতাংশ
হারে বেতন সুবিধা দেওয়া হবে।
তৃতীয় ধাপ: ১ জুলাই ২০২৭ থেকে
নতুন বেতনস্কেলের পূর্ণ ১০০ শতাংশ সুবিধা কার্যকর হবে এবং বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিও নতুন কাঠামো অনুযায়ী চলবে।
অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হলেও কর্মচারীদের হাতে পুরো নতুন মূল বেতন পৌঁছানোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত।
২০টি গ্রেড বহাল, পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে মূল বেতন
নতুন কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেটের সারণি অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন হলো—
| গ্রেড | নতুন বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতন |
|---|---|
| গ্রেড-১ | ৭৮,০০০ টাকা |
| গ্রেড-২ | ৬৬,০০০ টাকা |
| গ্রেড-৩ | ৫৬,৫০০ টাকা |
| গ্রেড-৪ | ৫০,০০০ টাকা |
| গ্রেড-৫ | ৪৩,০০০ টাকা |
| গ্রেড-৬ | ৩৫,৫০০ টাকা |
| গ্রেড-৭ | ২৯,০০০ টাকা |
| গ্রেড-৮ | ২৫,০০০ টাকা |
| গ্রেড-৯ | ২২,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১০ | ২০,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১১ | ১৬,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১২ | ১৫,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১৩ | ১৪,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১৪ | ১৩,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১৫ | ১২,৫০০ টাকা |
| গ্রেড-১৬ | ১১,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১৭ | ১০,০০০ টাকা |
| গ্রেড-১৮ | ৯,৫০০ টাকা |
| গ্রেড-১৯ | ৯,০০০ টাকা |
| গ্রেড-২০ | ৮,২৫০ টাকা |
তবে এখানে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন: গেজেটের পৃষ্ঠা ৪–৫-এর সারণিতে পুরোনো ও নতুন স্কেলের অনুরূপ স্কেল পাশাপাশি রয়েছে; তাই সংবাদ প্রকাশের সময় ‘প্রারম্ভিক বেতন’, ‘সর্বোচ্চ বেতন’ এবং ‘ধাপভিত্তিক বেতন’ আলাদা করে উল্লেখ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট স্কেল সারণি গেজেটের ৪ ও ৫ নম্বর পৃষ্ঠায় দেওয়া হয়েছে।
[সম্পাদকীয় নোট: মূল নথির সারণির ক্ষুদ্র অক্ষরের কারণে অনলাইনে প্রকাশের আগে নির্দিষ্ট গ্রেডভিত্তিক অঙ্ক পৃষ্ঠা ৪–৫-এর মূল কপি মিলিয়ে নেওয়া নিরাপদ।]
বেতন নির্ধারণে কী হবে?
নতুন পে স্কেলে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য আলাদা নিয়ম দেওয়া হয়েছে।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কেউ সংশ্লিষ্ট পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেলে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
আর কেউ যদি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে প্রারম্ভিক বেতন থেকে তাঁর বিদ্যমান মূল বেতনের পার্থক্য নির্ণয় করে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে। সেই অঙ্কের সঙ্গে সরাসরি কোনো ধাপ না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে।
ফলে একই গ্রেডের দুই কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন ভিন্ন হলে ১ জুলাই ২০২৬-এর নতুন বেতনও একই অঙ্কে নাও হতে পারে।
৮ বছর পর উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ
নতুন আদেশে দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মচারীদের জন্য উচ্চতর গ্রেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে, চাকরি সন্তোষজনক থাকা সাপেক্ষে ৯ম বছরে সংশ্লিষ্ট পদের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন।
এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর পূর্ণ হলে নির্দিষ্ট শর্তে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে এই সুবিধা সাধারণভাবে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য এবং একই পদে দুইবারের বেশি উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
পদোন্নতির সুযোগ নেই এমন নির্দিষ্ট ‘ব্লকড’ পদের কর্মচারীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে তৃতীয় উচ্চতর গ্রেডের বিধানও রয়েছে।
সবার ইনক্রিমেন্টের তারিখ ১ জুলাই
নতুন আদেশে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের একীকরণ করা হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই, হবে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ।
নতুন বেতনস্কেলে বেতন নির্ধারণের পর নির্ধারিত শর্তে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের ইনক্রিমেন্ট বিবেচনা করা হবে।
তবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম যোগ্য চাকরিকাল পূরণের বিধান রয়েছে।
নতুন নিয়োগে অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট
নতুন বেতনস্কেলের আওতায় ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট পদের নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ করা হবে।
তবে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন পদের ক্ষেত্রে অগ্রিম ইনক্রিমেন্টের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মেডিকেল, প্রকৌশল, স্থাপত্যসহ নির্দিষ্ট পেশাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এক বা দুইটি অগ্রিম ইনক্রিমেন্টের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য অতিরিক্ত অগ্রিম ইনক্রিমেন্টের বিধানও গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেনশনেও পরিবর্তন
নতুন পে স্কেলের প্রভাব শুধু কর্মরত কর্মচারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রচলিত নিট পেনশনের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্ল্যাবে আলাদা বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেটের সারণিতে—
- ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ১০০ শতাংশ
- ৯,০০১–২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ
- ২০,০০১–৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ
- ৩০,০০১–৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ
- ৪০,০০১ টাকা ও তদূর্ধ্বে ৫৫ শতাংশ
হারে পুনর্নির্ধারণের কাঠামো দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্তরের জন্য সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ নতুন নিট পেনশনের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেনশনেও পর্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়ন রাখা হয়েছে। ফলে নতুন পেনশনের পূর্ণ সুবিধা একবারে নয়, ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালে
নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি বাড়িভাড়া ভাতা।
তবে গেজেট অনুযায়ী, নতুন বাড়িভাড়া হার ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর হচ্ছে না।
৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত কর্মচারীরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বাড়িভাড়া ভাতা পেতেন, সেই হারেই তা পাবেন।
এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে।
নতুন কাঠামোয় গ্রেড ও কর্মস্থলের এলাকার ভিত্তিতে বাড়িভাড়া ভাতার হার আলাদা করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকা, অন্যান্য সিটি করপোরেশন/নির্ধারিত এলাকা এবং অন্যান্য এলাকার জন্য পৃথক হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের মূল বেতন ২০২৬ সালে কার্যকর হলেও বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের কার্যকর তারিখ ২০২৮—এটি কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চিকিৎসা ভাতায় বয়সভিত্তিক কাঠামো
নতুন আদেশে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও বয়সভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কর্মরত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সে আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ভাতার হার বাড়ানোর বিধান রয়েছে।
এতে অবসর-পরবর্তী বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা সহায়ক, টিফিন, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতায় পরিবর্তন
নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভাতারও নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- বাংলা নববর্ষ ভাতা
- শিক্ষা সহায়ক ভাতা
- টিফিন ভাতা
- যাতায়াত ভাতা
- মোবাইল ভাতা
- কার্যভার ভাতা
- ধোলাই ভাতা
- প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা।
শিক্ষা সহায়ক ভাতার ক্ষেত্রে সন্তানসংখ্যা ও বয়সের শর্ত রয়েছে। প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য পৃথক ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সুবিধা
নতুন আদেশে কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বিশেষ ভাতার ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।
নির্দিষ্ট সংস্থা, নিরাপত্তা ও বিশেষ দায়িত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান এবং কিছু বন বিভাগের কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধার আওতায় আসবেন।
IBAS++-এ হবে অনলাইন পে-ফিক্সেশন
নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনগুলোর একটি হলো অনলাইনে বেতন নির্ধারণ ও যাচাই।
গেজেটে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের জন্য সরকারি কর্মচারীদের IBAS++ সিস্টেমের Pay Fixation অপশন ব্যবহার করতে হবে।
গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য আলাদা লগইন পদ্ধতি রয়েছে। তথ্য পূরণ ও সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট DDO তা যাচাই করবেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে যাচাই সম্পন্ন হবে।
যাচাই শেষে Verification Number তৈরি হবে। এই যাচাইকৃত বেতন নির্ধারণী বিবরণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়নে শুধু গেজেট প্রকাশই শেষ ধাপ নয়; বরং পে-ফিক্সেশন → DDO যাচাই → হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই → Verification Number → বেতন পরিশোধ—এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ।
পুরোনো পে স্কেল আদেশ রহিত
নতুন আদেশের মাধ্যমে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ রহিত করা হয়েছে। তবে আগের আদেশের কিছু ভাতা ও সুবিধা নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বহাল রাখার বিধান রয়েছে।
এক নজরে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা
| সময় | কী হবে |
|---|---|
| ১ জুলাই ২০২৬ | নতুন বেতনস্কেলের কার্যকারিতা |
| ১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ | প্রথম ধাপের বেতন পার্থক্য |
| ১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭ | দ্বিতীয় ধাপের বেতন পার্থক্য |
| ১ জুলাই ২০২৭ | নতুন বেতনের পূর্ণ ১০০% সুবিধা |
| ১ জুলাই ২০২৭ | নতুন কাঠামো অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট |
| ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত | পুরোনো হারে বাড়িভাড়া |
| ১ জানুয়ারি ২০২৮ | নতুন বাড়িভাড়া হার কার্যকর |
শেষ কথা
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি কেবল মূল বেতন বৃদ্ধির একটি আদেশ নয়; বরং সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণ থেকে শুরু করে ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল এবং অনলাইন পে-ফিক্সেশন—পুরো আর্থিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজিয়েছে।
বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকারিতা, তিন ধাপে বেতন বাস্তবায়ন, ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ সুবিধা এবং ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন বাড়িভাড়া কাঠামো—এই চারটি তারিখ সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আর বাস্তবে কে কত টাকা পাবেন, তা নির্ধারণ করতে শুধু নতুন গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন দেখলেই হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, বর্তমান ধাপ, নতুন স্কেলের ধাপ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড এবং প্রযোজ্য ভাতা—সবকিছু একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। গেজেটের ৪–১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় এ সংক্রান্ত বেতনসারণি, ভাতা, পেনশন এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল; পরবর্তী সময়ে আপনার দেওয়া গেজেটের নথিতে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক আদেশের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

