পে স্কেল অনুমোদন: কার বেতন কত হতে পারে, বাড়িভাড়া-চিকিৎসাসহ ভাতায় কী পরিবর্তন আসছে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে মোট চার ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হতে পারে। এরপর অবশিষ্ট অংশ আরও তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সর্বনিম্ন ১৬,৫০০, সর্বোচ্চ ১,২৪,০০০ টাকা
প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—
সর্বনিম্ন মূল বেতন: ১৬ হাজার ৫০০ টাকা
সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা
বর্তমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম বেতন পাওয়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমানোর বিষয়টি নতুন কাঠামোতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১ জুলাই থেকে শুরু প্রথম ধাপ
প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল কার্যকরের প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে ১ জুলাই থেকে।
প্রথম ধাপে নতুন নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির ৩০ শতাংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মূল বেতন যে পরিমাণ বাড়বে, তার সম্পূর্ণ অংশ শুরুতেই কার্যকর না করে প্রথম পর্যায়ে বর্ধিত অংশের ৩০ শতাংশ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর ফলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
বাকি অংশ আরও তিন ধাপে
প্রথম ধাপে ৩০ শতাংশ বাস্তবায়নের পর নতুন বেতন কাঠামোর অবশিষ্ট অংশ আরও তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, পুরো নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে মোট চারটি ধাপে।
সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কাঠামো হতে পারে—
প্রথম ধাপ
কার্যকর ধরা হচ্ছে: ১ জুলাই থেকে
বাস্তবায়ন: নতুন বেতন বৃদ্ধির ৩০ শতাংশ
দ্বিতীয় ধাপ
প্রথম ধাপের পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বর্ধিত বেতনের পরবর্তী অংশ কার্যকর করা হবে।
তৃতীয় ধাপ
এরপর নতুন মূল বেতনের আরও একটি অংশ বাস্তবায়ন করা হবে।
চতুর্থ ধাপ
সবশেষ ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর অবশিষ্ট অংশসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধাগুলো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রতিটি ধাপে কত শতাংশ করে বেতন বাড়বে এবং কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত জানানো হবে।
কেন চার ধাপে বাস্তবায়ন?
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, উৎসবসহ বিভিন্ন ভাতা এবং পেনশন-সংক্রান্ত ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর করলে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও সরকার নতুন বেতন কাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেতন বাড়লেও ভাতার কী হবে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ভাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল বেতন এবং ভাতার কাঠামো একই সময়ে পুরোপুরি কার্যকর হবে, নাকি ভিন্ন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—এ বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট আলোচনায় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি রয়েছে। তবে কোন ভাতা কত বাড়বে, তার নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের প্রত্যাশা বেশি
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা রয়েছে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং শিক্ষাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সর্বনিম্ন বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কর্মচারীদের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা, শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি করলেই হবে না; বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা
প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য মূল বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্বিন্যাস এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য আনা।
তবে গ্রেডভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বেতন তালিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে—কোন গ্রেডে মূল বেতন কত থেকে শুরু হবে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কী হবে এবং সর্বোচ্চ ধাপ কত নির্ধারণ করা হয়েছে।
১ জুলাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে আগ্রহ
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
কারণ, চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন পরে জারি হলেও কার্যকারিতার তারিখ ১ জুলাই ধরা হলে বকেয়া বা এরিয়ার পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থ দেওয়া হবে কি না, কীভাবে দেওয়া হবে এবং কত সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত বাস্তবায়ন আদেশেই স্পষ্ট হবে।
এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের তথ্য সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে।
এর সঙ্গে ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করে পরবর্তী তিন ধাপসহ মোট চার ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ সামনে এনেছে।
তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে গ্রেডভিত্তিক বেতন, ভাতা, বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং প্রতিটি ধাপের হার পরিবর্তিত হতে পারে।
এখন সবার নজর সরকারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে—কোন গ্রেডে কত বেতন, কত ভাতা এবং চার ধাপের কোন পর্যায়ে কত টাকা করে বাড়বে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে মোট চার ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করা হতে পারে। এরপর অবশিষ্ট অংশ আরও তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সর্বনিম্ন ১৬,৫০০, সর্বোচ্চ ১,২৪,০০০ টাকা
প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৈষম্য, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—
সর্বনিম্ন মূল বেতন: ১৬ হাজার ৫০০ টাকা
সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা
বর্তমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম বেতন পাওয়া নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমানোর বিষয়টি নতুন কাঠামোতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১ জুলাই থেকে শুরু প্রথম ধাপ
প্রস্তাবিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল কার্যকরের প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে ১ জুলাই থেকে।
প্রথম ধাপে নতুন নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির ৩০ শতাংশ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মূল বেতন যে পরিমাণ বাড়বে, তার সম্পূর্ণ অংশ শুরুতেই কার্যকর না করে প্রথম পর্যায়ে বর্ধিত অংশের ৩০ শতাংশ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর ফলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
বাকি অংশ আরও তিন ধাপে
প্রথম ধাপে ৩০ শতাংশ বাস্তবায়নের পর নতুন বেতন কাঠামোর অবশিষ্ট অংশ আরও তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, পুরো নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে মোট চারটি ধাপে।
সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কাঠামো হতে পারে—
প্রথম ধাপ
কার্যকর ধরা হচ্ছে: ১ জুলাই থেকে
বাস্তবায়ন: নতুন বেতন বৃদ্ধির ৩০ শতাংশ
দ্বিতীয় ধাপ
প্রথম ধাপের পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বর্ধিত বেতনের পরবর্তী অংশ কার্যকর করা হবে।
তৃতীয় ধাপ
এরপর নতুন মূল বেতনের আরও একটি অংশ বাস্তবায়ন করা হবে।
চতুর্থ ধাপ
সবশেষ ধাপে নতুন বেতন কাঠামোর অবশিষ্ট অংশসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধাগুলো কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে প্রতিটি ধাপে কত শতাংশ করে বেতন বাড়বে এবং কোন তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত জানানো হবে।
কেন চার ধাপে বাস্তবায়ন?
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ার পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, উৎসবসহ বিভিন্ন ভাতা এবং পেনশন-সংক্রান্ত ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর করলে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও সরকার নতুন বেতন কাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেতন বাড়লেও ভাতার কী হবে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং অন্যান্য ভাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল বেতন এবং ভাতার কাঠামো একই সময়ে পুরোপুরি কার্যকর হবে, নাকি ভিন্ন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—এ বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট আলোচনায় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি রয়েছে। তবে কোন ভাতা কত বাড়বে, তার নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের প্রত্যাশা বেশি
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা রয়েছে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা এবং শিক্ষাসহ জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সর্বনিম্ন বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থায় কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কর্মচারীদের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা, শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি করলেই হবে না; বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা
প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য মূল বেতন ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্বিন্যাস এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোর সামঞ্জস্য আনা।
তবে গ্রেডভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বেতন তালিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে—কোন গ্রেডে মূল বেতন কত থেকে শুরু হবে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার কী হবে এবং সর্বোচ্চ ধাপ কত নির্ধারণ করা হয়েছে।
১ জুলাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে আগ্রহ
নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
কারণ, চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন পরে জারি হলেও কার্যকারিতার তারিখ ১ জুলাই ধরা হলে বকেয়া বা এরিয়ার পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থ দেওয়া হবে কি না, কীভাবে দেওয়া হবে এবং কত সময়ের মধ্যে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয় চূড়ান্ত বাস্তবায়ন আদেশেই স্পষ্ট হবে।
এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের তথ্য সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে।
এর সঙ্গে ১ জুলাই থেকে বর্ধিত বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর করে পরবর্তী তিন ধাপসহ মোট চার ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের একটি সম্ভাব্য রোডম্যাপ সামনে এনেছে।
তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে গ্রেডভিত্তিক বেতন, ভাতা, বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং প্রতিটি ধাপের হার পরিবর্তিত হতে পারে।
এখন সবার নজর সরকারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে—কোন গ্রেডে কত বেতন, কত ভাতা এবং চার ধাপের কোন পর্যায়ে কত টাকা করে বাড়বে।

