লটারিতে হবে প্রাথমিকের নতুন সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন: স্বচ্ছতা ফেরাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ সরকারের
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নে এক যুগান্তকারী ও বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে নতুন শিক্ষকদের পদায়নে কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবিরের সুযোগ থাকছে না; সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘লটারি পদ্ধতি’। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ অধিশাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন নিয়মের কথা জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।
নিচে নতুন এই পদায়ন নীতিমালার বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ
অতীতে শিক্ষক নিয়োগের পর কাঙ্ক্ষিত বা সুবিধাজনক বিদ্যালয়ে পদায়ন নিয়ে নানামুখী তদবির, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠত। অনেক ক্ষেত্রে দুর্গম অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলো শিক্ষকশূন্য থাকত, আবার শহরের কাছের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হতো। সরকারের এই নতুন লটারি পদ্ধতির ফলে পদায়ন প্রক্রিয়ায় মানবিক হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে শূন্যপদের বিপরীতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে শিক্ষকদের দায়িত্ব বণ্টন করা সম্ভব হবে।
জেলা কমিটির হাতে পদায়নের দায়িত্ব
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের মূল দায়িত্ব পালন করবে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘জেলা কমিটি’। এই কমিটিতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির গঠন কাঠামো নিম্নরূপ:
-
সভাপতি: সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি)।
-
সদস্য-সচিব: জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও)।
-
সদস্য: জেলা শিক্ষা অফিসার (ডিইও) এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত ২ জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের এই যৌথ কমিটির মাধ্যমে লটারি প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না।
নিয়মিত জবাবদিহিতা ও কঠোর তদারকি
এই কমিটি শুধু লটারির মাধ্যমে পদায়ন করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করবে না, বরং শিক্ষকদের বদলি ও সার্বিক পদায়ন ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখবে।
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা: কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একবার বাধ্যতামূলকভাবে সভায় বসতে হবে। এই সভায় জেলার শিক্ষক পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত চলমান বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনার পর একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন তৈরি করে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট উচ্চতর দফতরে (মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর) পাঠাতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে নতুন শিক্ষকরা কোনো ধরনের বৈষম্য বা মানসিক চাপ ছাড়াই তাদের শিক্ষকতা জীবন শুরু করতে পারবেন। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও অবহেলিত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকের যে ঘাটতি থাকে, লটারির মাধ্যমে সুষম বণ্টন হওয়ায় সেই সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বড় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

