Screenshot
৯ম পে স্কেল নিউজ

প্রতীক্ষার প্রহর কি এবার শেষ? আজ দুপুরে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জোর সম্ভাবনা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সময় নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে। আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হতে পারে—সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে একাধিক গণমাধ্যম। তবে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত না হওয়ায় এটিকে সম্ভাবনা হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে। 

সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাতেও এখন মূল প্রশ্ন—‘আজই কি শেষ হচ্ছে অপেক্ষা?’ বিশেষ করে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে থাকার খবর এবং আজ বিজি প্রেসে মুদ্রণ কার্যক্রম চলার তথ্যের পর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।

আজ দুপুরের দিকে কী ঘটতে পারে?

১৯ সেপ্টেম্বর সকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে এবং শনিবার দুপুরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে। 

আরেকটি প্রতিবেদনে সরাসরি বলা হয়েছে, আজ পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে এবং ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে। 

তবে ‘হতে পারে’ এবং ‘প্রকাশ হয়েছে’—এই দুটি অবস্থার মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আজ দুপুরের সম্ভাবনাকে চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কেন নতুন করে আশাবাদ?

নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সামনে আসে। ওই দিন নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেটিংয়ের অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছিল। 

অর্থাৎ, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর যে প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপগুলো বাকি ছিল, সেগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এগিয়ে যায়।

এরপর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্যই এখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল ৩১ আগস্ট ২০২৬।

ওই দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। 

এরপর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হবে। কিন্তু অনুমোদনের পরও আইনগত যাচাই, নথি প্রস্তুতি এবং মুদ্রণ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার কারণে প্রকাশে সময় লাগে।

বিজি প্রেসে পৌঁছানোই কি শেষ ধাপ?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছিল এবং পরে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ভেটিং শেষ হওয়ার পর এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া এগোনোর কথা জানানো হয়েছিল। 

আজকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে আবার বলা হচ্ছে, বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপন ছাপার কাজ চলছে। ফলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে মুদ্রণ কার্যক্রমের যোগসূত্রটি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। 

তবে কোনো নথি মুদ্রণের পর্যায়ে পৌঁছানো এবং সেটি সরকারি গেজেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ—একই বিষয় নয়। চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের কপি বা সরকারি গেজেট রেকর্ডই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।

১৭ সেপ্টেম্বরের সরকারি গেজেট তালিকায় কী আছে?

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের অনলাইন সেপ্টেম্বর ২০২৬ অতিরিক্ত সংখ্যা গেজেট তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বরের বেশ কিছু সরকারি প্রজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে এসআরও নং ৩৪৬-আইন/২০২৬ এবং এসআরও নং ৩৪৫-আইন/২০২৬ রয়েছে। কিন্তু ওই তালিকায় জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনকে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। 

এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য তৈরি করে।

অর্থাৎ, ১৭ সেপ্টেম্বর পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছিল, কিন্তু সরকারি গেজেটের দৃশ্যমান তালিকা অনুযায়ী ওই দিনই চূড়ান্ত পে-স্কেল গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।

আজকের আলোচনার কেন্দ্রে তাই ‘দুপুর’

আজকের নতুন খবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘দুপুরের পর’ সময়টি।

The Daily Campus-এর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শনিবার দুপুরের পর প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে পারে। 

রূপালী বাংলাদেশের প্রতিবেদনেও আজ প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। 

কালের আলোও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র অনুযায়ী শনিবার দুপুরের পর নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে। 

তিনটি প্রতিবেদনের সময় ও ভাষায় কিছু পার্থক্য থাকলেও মূল বিষয়টি একই—১৯ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে কী থাকছে?

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত কাঠামো সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—

  • ২০তম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করার কথা;
  • ১ম গ্রেডের বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার কথা;
  • নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

তবে ভাতা, ইনক্রিমেন্ট, বেতন নির্ধারণ, কার্যকর তারিখ এবং বকেয়া পরিশোধের সুনির্দিষ্ট বিধান জানতে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই প্রয়োজন।

পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হলে পরবর্তী ধাপ কী?

প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে কাজ শেষ হয়ে যাবে না। এরপর শুরু হবে বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম।

এর মধ্যে থাকতে পারে—

১. নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ
২. গ্রেড ও মূল বেতনের তথ্য হালনাগাদ
৩. ইনক্রিমেন্ট সমন্বয়
৪. ভাতা পুনর্নির্ধারণ
৫. আইবিএএস++-এ নতুন বেতন কাঠামো সংযুক্ত করা
৬. বেতন বিল প্রস্তুত ও পরিশোধ
৭. কার্যকর তারিখ অনুযায়ী বকেয়া/অ্যারিয়ার হিসাব
৮. পেনশন ও অবসর সুবিধার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমন্বয়

অর্থাৎ গেজেট হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কিন্তু গেজেটের পরও বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কাজ থাকবে।

১ জুলাই থেকে কার্যকর হলে বকেয়ার প্রশ্ন

নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে আজ গেজেট প্রকাশের বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের অন্যতম বড় প্রশ্ন হবে—জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর আর্থিক সুবিধা কীভাবে হিসাব হবে এবং বকেয়া কবে পাওয়া যাবে?

এ বিষয়ে চূড়ান্ত উত্তর দেওয়ার জন্য প্রজ্ঞাপনের বাস্তবায়ন নির্দেশনা দেখতে হবে। কারণ কার্যকর তারিখ, বেতন নির্ধারণের নিয়ম, অ্যারিয়ার এবং অর্থ ছাড়ের সময়সূচি—এসব বিষয় সরকারি আদেশেই স্পষ্ট হওয়ার কথা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন এত উত্তেজনা?

গত কয়েক দিনে পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য, সম্ভাব্য সময়সূচি এবং নথির ছবি ছড়িয়েছে। কোথাও বলা হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে গেজেট হবে, কোথাও আবার দাবি করা হচ্ছে নথি প্রস্তুত হয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে আজকের তথ্যের সঙ্গে আগের তথ্যের পার্থক্য হলো—এবার একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই দিনে বিজি প্রেসে মুদ্রণ ও দুপুরের পর প্রকাশের সম্ভাবনার কথা এসেছে। 

তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত কপি প্রকাশিত না হচ্ছে, ততক্ষণ সম্ভাবনা ও নিশ্চিত ঘোষণাকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

তাহলে কি প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে?

বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ হলো—নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর প্রকাশের সম্ভাবনার কথা একাধিক প্রতিবেদনে এসেছে। 

কিন্তু ‘আজ দুপুরে প্রকাশ হবে’—এটি এখনো সম্ভাবনা; ‘প্রকাশ হয়েছে’—এটি সরকারি নথি প্রকাশের পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

তাই হাজারো সরকারি চাকরিজীবীর জন্য আজকের অপেক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় ও সরকারি গেজেটের প্রকাশনা।

মন্ত্রিসভার অনুমোদন হয়েছে ৩১ আগস্ট। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের খসড়া ভেটিংয়ের পর্যায়ে যাওয়ার খবর এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিজি প্রেসে মুদ্রণ এবং দুপুরের পর প্রকাশের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। 

সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ ধাপটি এখন দৃশ্যমান হলেও চূড়ান্ত মুহূর্তটি হবে সেই সময়, যখন সরকারি গেজেটের পাতায় নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে।

আজ দুপুরের পর সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত আসে কি না—এখন সেটিই সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *