bd Service Rules

সরকারি কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা ২০২৬: নন-গেজেটেড কর্মচারী কি গেজেটেড কর্মকর্তা হতে পারবেন?

সরকারি চাকরিতে কর্মরত নন-গেজেটেড কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন—চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হলে বা উচ্চতর গ্রেড পেলে কি কর্মকর্তা হওয়া যায়? বিশেষ করে ২০২৬ সালের নতুন বেতন কাঠামো, উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে একই পদে ৮ বছর পূর্তির পর কয়েকজন কর্মকর্তাকে ৯ম গ্রেডে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এই প্রজ্ঞাপনকে ঘিরে অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, নন-গেজেটেড কর্মচারী দীর্ঘদিন চাকরি করলে তিনি কি গেজেটেড কর্মকর্তা হয়ে যেতে পারবেন?

আইন ও সরকারি নিয়োগবিধির কাঠামো বিশ্লেষণ করলে এর উত্তর হলো—হ্যাঁ, নন-গেজেটেড কর্মচারী থেকে গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া সম্ভব; তবে শুধু চাকরির বয়স বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার কারণে নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধিতে পদোন্নতির সুযোগ থাকতে হবে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া পূরণ করতে হবে।

৮ বছর চাকরি করলেই কি কর্মকর্তা হওয়া যায়?

না। এখানেই সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ রয়েছে।

ব্যবহারকারীর দেওয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করার পর পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড অর্থাৎ ৯ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন।

এর অর্থ হলো—তারা একই পদে থেকেই উচ্চতর বেতন গ্রেডের সুবিধা পেয়েছেন।

অর্থাৎ,

৮ বছর চাকরি → উচ্চতর গ্রেড

এবং

নিম্ন পদ → পদোন্নতি → উচ্চ পদ

এক বিষয় নয়।

কোনো কর্মচারী একই পদে থেকে উচ্চতর গ্রেড পেলেই তার পদনাম, দায়িত্ব কিংবা গেজেটেড মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয় না।

সরকারি চাকরি আইনে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে

বর্তমান সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৮ ধারায় স্থায়ী সরকারি কর্মচারীর পদোন্নতির বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সেখানে সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ ও সন্তোষজনক চাকরি বিবেচনায় পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পদোন্নতির বিষয় ও শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ একজন কর্মচারীর পদোন্নতির ক্ষেত্রে শুধু চাকরির বয়স নয়—সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি এবং পদোন্নতির নির্ধারিত শর্তই মূল বিষয়।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৬ সালে সরকারি চাকরি আইন সংশোধিত হলেও সংশোধনটি মূলত আচরণ ও দণ্ডসংক্রান্ত বিশেষ বিধান যুক্ত করেছে; পদোন্নতির মূল কাঠামো ৮ ধারাতেই রয়েছে।

নন-গেজেটেড কর্মচারী থেকে গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়ার বাস্তব উদাহরণ আছে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি শুধু তাত্ত্বিক সম্ভাবনা নয়, সরকারি নথিতে এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪-এর আওতায় নন-গেজেটেড কর্মচারীদের নির্দিষ্ট পদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যেও এই নিয়োগবিধিমালার ২০২০ সালের সংশোধনের উল্লেখ রয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি নোটিশে ২০১৪ সালের ওই নিয়োগবিধি অনুসারে ১১ জন কর্মচারীকে ১০ম গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ নন-গেজেটেড কর্মচারী থেকে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মকর্তা পদে যাওয়ার বাস্তব সরকারি নজির রয়েছে।

অফিস সহায়ক থেকেও পদোন্নতির পথ থাকতে পারে

এখানে অফিস সহায়কসহ নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সরকারি নোটিশে বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪ এবং সংশোধনী ২০২০-এর অধীনে দপ্তরী ও অফিস সহায়ক পদে কর্মরত যোগ্য প্রার্থীদের ফটোকপি অপারেটর, গ্রেড-১৮ পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদাহরণ। কারণ এতে বোঝা যায়, নির্দিষ্ট নিয়োগবিধির আওতায় নিচের স্তরের কর্মচারীদের জন্যও ধাপে ধাপে পদোন্নতির সুযোগ রাখা যেতে পারে।

তবে অফিস সহায়ক থেকে সরাসরি ৯ম বা ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম নেই। কোন পদে কত বছর চাকরি করতে হবে, কী শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে এবং কোন পদে পদোন্নতি পাওয়া যাবে—এসব সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধিতে নির্ধারিত।

১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা পদে যাওয়ার নজির

নন-গেজেটেড কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা হওয়ার সবচেয়ে পরিষ্কার উদাহরণ পাওয়া যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নথিতে।

২০২৩ সালের সরকারি নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সচিবালয় (ক্যাডার বহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১ জন কর্মচারীকে ১০ম গ্রেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ একজন নন-গেজেটেড কর্মচারীর ক্যারিয়ার সেখানেই থেমে থাকবে—এমন নয়। যদি নিয়োগবিধিতে পথ থাকে, তাহলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মকর্তা পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

এমনকি ২০২৪ সালের বাংলাদেশ গেজেটেও একই নিয়োগবিধি অনুসরণ করে একজন কর্মচারীকে গ্রেড-১০-এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেওয়ার সরকারি উদাহরণ পাওয়া যায়। ওই আদেশে পদোন্নতির পর এক বছর শিক্ষানবিশ থাকার শর্তও উল্লেখ রয়েছে।

তাহলে ‘উচ্চতর গ্রেড’ আর ‘পদোন্নতি’—পার্থক্য কী?

বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে একটি উদাহরণ দেখা যাক।

উচ্চতর গ্রেড

একজন কর্মচারী একটি নির্দিষ্ট পদে দীর্ঘদিন চাকরি করলেন। নিয়োগবিধি বা প্রযোজ্য সরকারি আদেশ অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্য হলেন।

তখন—

পদ একই থাকবে → দায়িত্ব একই থাকবে → কিন্তু বেতন গ্রেড বাড়তে পারে।

এটি উচ্চতর গ্রেড।

পদোন্নতি

অন্যদিকে একজন কর্মচারী যদি নিয়োগবিধি অনুযায়ী উচ্চতর কোনো পদে পদোন্নতি পান, তখন—

পুরোনো পদ → পদোন্নতি → নতুন পদ

এ ক্ষেত্রে পদনাম, দায়িত্ব ও পদমর্যাদা পরিবর্তিত হয়।

গেজেটেড কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি

যদি নতুন পদটি সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী গেজেটেড কর্মকর্তা পদ হয় এবং কর্মচারী বৈধ প্রক্রিয়ায় সেই পদে পদোন্নতি পান, তাহলে তিনি সেই পদে গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শুধু গ্রেড-১০ বা গ্রেড-৯ পেলেই কি গেজেটেড কর্মকর্তা?

না।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রেড-৯ বা গ্রেড-১০ হলো বেতন গ্রেড। আর গেজেটেড কর্মকর্তা হলো পদের আইনগত শ্রেণি/মর্যাদার বিষয়।

একজন ব্যক্তি গ্রেড-৯ পেতে পারেন, কিন্তু তিনি যে পদে আছেন সেটি কী—সেটি আলাদাভাবে দেখতে হবে।

তাই—

গ্রেড = বেতন কাঠামো

আর

পদ = চাকরির দায়িত্ব ও পদমর্যাদা

এ দুটিকে এক করে দেখলে ভুল সিদ্ধান্ত হতে পারে।

২০২৬ সালের নতুন বেতন ব্যবস্থায় বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

২০২৬ সালে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পে-ফিক্সেশন, উচ্চতর গ্রেড, পদোন্নতি ও বেতন নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

এ কারণে অনেক কর্মচারী মনে করতে পারেন, নতুন বেতন কাঠামোয় কোনো কর্মচারী যদি উচ্চতর গ্রেডে উঠে যান, তাহলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মকর্তা হয়ে যাবেন।

বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।

নতুন বেতন গ্রেডে বেতন নির্ধারণ এক বিষয় এবং চাকরির পদোন্নতি আরেক বিষয়।

পে-ফিকেশনের মাধ্যমে বেতন নির্ধারণ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদ পরিবর্তন না হলে সেটিকে পদোন্নতি বলা যাবে না।

নন-গেজেটেড থেকে কর্মকর্তা হতে কী কী প্রয়োজন হতে পারে?

সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি অনুযায়ী সাধারণত কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে—

১. পদোন্নতির সুযোগ থাকতে হবে
প্রথমেই দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট পদের নিয়োগবিধিতে ওপরের পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা আছে কি না।

২. নির্ধারিত চাকরিকাল পূরণ করতে হবে
কিছু পদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বছর চাকরি করার শর্ত থাকে।

৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে
উচ্চতর পদে পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত থাকতে পারে।

৪. শূন্য পদ থাকতে হবে
পদোন্নতি সাধারণত অনুমোদিত ও শূন্য পদের বিপরীতে করা হয়।

৫. জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা বিবেচিত হবে
সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী পদোন্নতিতে সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ ও সন্তোষজনক চাকরিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচ্য।

৬. যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন
পদোন্নতি নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হয়।

একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে

বাংলাদেশ সরকারের সব দপ্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির নিয়ম এক নয়।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের জন্য যেমন ক্যাডারবহির্ভূত গেজেটেড কর্মকর্তা ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা রয়েছে, তেমনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ কিংবা অন্যান্য দপ্তরের জন্য আলাদা নিয়োগবিধি থাকতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকাতেও বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি কর্মচারী ও বিভিন্ন দপ্তরের জন্য পৃথক বিধিমালার উল্লেখ রয়েছে।

সুতরাং বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিয়ম দেখে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা অন্য কোনো দপ্তরের কর্মচারীর পদোন্নতির নিয়ম নির্ধারণ করা যাবে না।

গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়ার সম্ভাব্য ক্যারিয়ার পথ

যেখানে নিয়োগবিধিতে ধারাবাহিক পদোন্নতির ব্যবস্থা আছে, সেখানে ক্যারিয়ারটি অনেকটা এমন হতে পারে—

অফিস সহায়ক/নন-গেজেটেড পদ
↓
নির্ধারিত শর্ত পূরণ
↓
উচ্চতর নন-গেজেটেড পদ
↓
আরও উচ্চ পদে পদোন্নতি
↓
নিয়োগবিধিতে নির্ধারিত গেজেটেড পদ
↓
পদোন্নতি পেলে গেজেটেড কর্মকর্তা

তবে এটি একটি সাধারণ কাঠামো। প্রত্যেক দপ্তরে একই ধাপ থাকবে—এমন নয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে কী বোঝা গেল?

আপনার দেওয়া প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়টি হলো—নির্দিষ্ট কর্মকর্তারা একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করার পর পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন।

অতএব ওই প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে যে বিষয়টি পরিষ্কার হয় তা হলো—

৮ বছর পূর্ণ করা → উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ হতে পারে।

কিন্তু—

৮ বছর পূর্ণ করা → স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি নয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে—

উচ্চতর গ্রেড পাওয়া → স্বয়ংক্রিয়ভাবে গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া নয়।

২০২৬ সালে নন-গেজেটেড কর্মচারীদের জন্য মূল বার্তা

সরকারি চাকরিতে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজ নিজ পদের নিয়োগবিধি জানা।

একজন কর্মচারী যদি জানতে চান তিনি ভবিষ্যতে কর্মকর্তা হতে পারবেন কি না, তাহলে শুধু নিজের বর্তমান গ্রেড দেখলে হবে না। তাকে দেখতে হবে—

  • তার বর্তমান পদের নাম;
  • কোন নিয়োগবিধির অধীনে পদটি পরিচালিত;
  • ওই বিধিতে পদোন্নতির পদগুলো কী;
  • পরবর্তী পদের গ্রেড কত;
  • কত বছর চাকরি প্রয়োজন;
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা কী;
  • শূন্য পদের শর্ত আছে কি না;
  • পদটি গেজেটেড কি না;
  • পদোন্নতির জন্য বিভাগীয়/প্রশাসনিক কোনো শর্ত রয়েছে কি না।

চূড়ান্ত কথা

নন-গেজেটেড কর্মচারী থেকে গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া সম্ভব। কিন্তু এটি কোনো স্বয়ংক্রিয় সুবিধা নয় এবং শুধু ৮ বছর চাকরি বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার মাধ্যমে তা হয় না।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ পদোন্নতির একটি সাধারণ আইনগত কাঠামো দিয়েছে এবং পদোন্নতির বিস্তারিত শর্ত সংশ্লিষ্ট বিধির ওপর নির্ভর করে।

অন্যদিকে সরকারি নথিতে বাংলাদেশ সচিবালয়ের নন-গেজেটেড কর্মচারীদের গ্রেড-১০ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির বাস্তব নজির রয়েছে।  এমনকি অফিস সহায়ক ও দপ্তরী পদে কর্মরত যোগ্য কর্মচারীদের গ্রেড-১৮ ফটোকপি অপারেটর পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন আহ্বানের সরকারি নোটিশও রয়েছে।

তাই ২০২৬ সালের জন্য সবচেয়ে সঠিক ব্যাখ্যা হলো—

“নন-গেজেটেড কর্মচারী কখনোই গেজেটেড কর্মকর্তা হতে পারবেন না”—এটি ভুল। আবার “৮ বছর চাকরি করলেই গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়া যাবে”—এটিও ভুল।

সঠিক নিয়ম হলো, সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধিতে গেজেটেড পদে পদোন্নতির পথ থাকতে হবে এবং কর্মচারীকে সেই পদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও সব শর্ত পূরণ করে বিধিসম্মত পদোন্নতি পেতে হবে।

এই কারণে কোনো কর্মচারী নিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইলে বর্তমান পদ, দপ্তর এবং প্রযোজ্য নিয়োগবিধি—এই তিনটি তথ্য মিলিয়ে দেখা সবচেয়ে জরুরি।

সোর্স ফাইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *