জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনে সরকারের নতুন পরিপত্র জারি: ৩ শ্রেণিতে ভাগ, বিশেষ বরাদ্দ ও অনুষ্ঠান আয়োজনে কড়াকড়ি
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন ও পালনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বিভিন্ন দিবসকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে উদযাপনের ধরন, সরকারি ব্যয়, অনুষ্ঠান আয়োজনের সময়সীমা এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন, কিছু দিবস সীমিত পরিসরে উদযাপন এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় পরিহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পাঁচ পৃষ্ঠার পরিপত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন বা পালনের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও উৎসব যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করতে হবে। তবে সব দিবসের জন্য একই ধরনের আয়োজন বা বিশেষ অর্থ বরাদ্দ থাকবে না। দিবসের গুরুত্ব ও প্রকৃতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও ব্যয় কমানো এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিন শ্রেণিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলোকে মূলত তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন বা পালনের জন্য নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও উৎসব। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে ঐতিহ্যগতভাবে পালিত এবং পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে সম্পর্কিত দিবস। তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছে বিভিন্ন খাতের প্রতীকী দিবস, যেগুলো সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে প্রথম শ্রেণিতে ১৮টি এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে যথাক্রমে ৩৯টি ও ৩৫টি দিবসের তালিকা রয়েছে। তবে কিছু দিবসের নাম বা উপলক্ষ একাধিক শ্রেণির তালিকায় উল্লেখ থাকায় এগুলোকে পৃথক ৯২টি দিবস হিসেবে গণনা করা ঠিক হবে না।
জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে ১৮টি দিবস ও উৎসব
পরিপত্রের প্রথম শ্রেণিতে দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন, জাতীয় ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসবের মধ্যে রয়েছে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতীয় বীমা দিবস, গণহত্যা দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, মে দিবস, বৌদ্ধ পূর্ণিমা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং বিজয় দিবস।
এ ছাড়া বড়দিন, বাংলা নববর্ষ, রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এবং দুর্গাপূজাও এ শ্রেণিতে রয়েছে।
পরিপত্রে এসব দিবস ও উৎসবের নির্ধারিত তারিখ বা পালনের সময় উল্লেখ করা হয়েছে।
| দিবস বা উৎসব | তারিখ |
|---|---|
| শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস | ২১ ফেব্রুয়ারি |
| জাতীয় বীমা দিবস | ১ মার্চ |
| গণহত্যা দিবস | ২৫ মার্চ |
| স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস | ২৬ মার্চ |
| মে দিবস | ১ মে |
| জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস | ৫ আগস্ট |
| লালন সাঁই-তিরোধান দিবস | ১৭ অক্টোবর |
| জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস | ৭ নভেম্বর |
| বিজয় দিবস | ১৬ ডিসেম্বর |
| বড়দিন | ২৫ ডিসেম্বর |
| বাংলা নববর্ষ | ১ বৈশাখ |
| রবীন্দ্রজয়ন্তী | ২৫ বৈশাখ |
| নজরুলজয়ন্তী | ১১ জ্যৈষ্ঠ |
ধর্মীয় উৎসবগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পঞ্জিকা অনুযায়ী তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণির দিবসে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিশেষ শর্ত
পরিপত্রের দ্বিতীয় শ্রেণিতে এমন দিবস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়ে আসছে অথবা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এসব দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে।
তবে পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, এ ধরনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়েও বিশেষ শর্ত অনুসরণ করতে হবে।
এ শ্রেণির দিবসগুলোর অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৫০ হাজার টাকা কোনো বাধ্যতামূলক বরাদ্দ নয়; বরং সংশ্লিষ্ট শ্রেণির অনুষ্ঠানে সরকারি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে—এমন ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।
দ্বিতীয় শ্রেণির তালিকায় জাতীয় সমাজসেবা দিবস, জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস, জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস, জাতীয় ভোটার দিবস, জাতীয় পাট দিবস, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, মুজিবনগর দিবস, বিশ্ব পরিবেশ দিবস, জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস, জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসসহ বিভিন্ন দিবস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণির দিবস পালনে বিশেষ বরাদ্দ নয়
নতুন পরিপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, বিশেষ বিশেষ খাতের প্রতীকী দিবসগুলো সীমিত পরিসরে পালন করতে হবে।
তৃতীয় শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
এ শ্রেণিতে রয়েছে বার্ষিক পরিকল্পনা দিবস, জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস, জাতীয় ক্যানসার দিবস, জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস, বিশ্ব পানি দিবস, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস, বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, বিশ্ব শিক্ষক দিবস, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবসসহ বিভিন্ন দিবস।
সরকারের এ নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যমান জনবল ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সীমিত কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
তবে বিশেষ বরাদ্দ না থাকার অর্থ এই নয় যে, এসব দিবস পালন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বরং পরিপত্রে সীমিত পরিসরে পালনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
দিবস পালনের নামে সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না
পরিপত্রে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ করে আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা অন্যান্য অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কর্মদিবসের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে হবে।
এর ফলে কোনো দিবস পালনের কর্মসূচির কারণে সরকারি সেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষ যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
এ নির্দেশনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা প্রশাসন, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরের অনুষ্ঠান পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক।
সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান সাধারণত তিন দিনের মধ্যে সীমিত
নতুন নির্দেশনায় কোনো সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, পুলিশ সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ এবং অন্যান্য বিশেষ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়ে থাকে।
এসব আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তবে পরিপত্রে বিশেষ সপ্তাহগুলোর জন্য পৃথক অনুমোদন ও নির্দেশনার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সপ্তাহের কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
নগদ অর্থ ও উপহারসামগ্রী বিতরণে ব্যয়সংযম
পরিপত্রে নগদ অর্থ কিংবা উপহারসামগ্রী বাবদ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি দিবস বা সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠানে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী, স্মারক বা উপহার বিতরণ করা হয়। নতুন নির্দেশনার আলোকে এসব ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে।
সরকারি অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানগুলোকে অর্থবহ ও কার্যকর রাখাই এ নির্দেশনার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হয়।
জেলা থেকে কর্মকর্তাদের ঢাকায় আনার ক্ষেত্রে সতর্কতা
দিবস বা সপ্তাহ পালনের উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে থেকে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, এ ধরনের যাতায়াত যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।
এর ফলে সরকারি অর্থ ও কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখা সহজ হতে পারে।
তবে নির্দেশনাটি সব ধরনের সরকারি সফর নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নয়। এটি দিবস ও সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠান উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমানোর নির্দেশনা।
একই দিনে একাধিক দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে
সরকারি ব্যয় কমানো এবং অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানোর জন্য একই দিনে একাধিক দিবসের কর্মসূচি একত্রে আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারবে।
এ ছাড়া দিবস ও সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে।
বিশেষ করে একই ধরনের উদ্দেশ্যসম্পন্ন একাধিক অনুষ্ঠান পৃথকভাবে আয়োজনের পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারি ব্যয় ও সময় কমানো সম্ভব হতে পারে।
শিক্ষা সপ্তাহসহ বিশেষ কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব
পরিপত্রে শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, বিশ্ব শিশু সপ্তাহ, পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ ও সমবায় সপ্তাহসহ বিভিন্ন বিশেষ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে।
ফলে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসূচি নির্ধারণের আগে প্রযোজ্য সরকারি অনুমোদন ও নির্দেশনা যাচাই করতে হবে।
আগের ১১ মার্চের পরিপত্র বাতিল
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পরিপত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে।
এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন বা পালনসংক্রান্ত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সরকারি দপ্তরগুলোকে দিবস ও সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে নতুন পরিপত্রের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
পরিপত্রটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কী করতে হবে?
নতুন পরিপত্র কার্যকর হওয়ার পর সরকারি দপ্তরগুলোর অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
প্রথমত, সংশ্লিষ্ট দিবসটি কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দিবসের শ্রেণি অনুযায়ী অনুষ্ঠানের ধরন ও ব্যয়সংক্রান্ত নির্দেশনা আলাদা।
দ্বিতীয়ত, দ্বিতীয় শ্রেণির দিবসে সরকারি ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করতে হবে। তৃতীয় শ্রেণির প্রতীকী দিবস পালনের জন্য বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা নেই।
তৃতীয়ত, দিবস বা সপ্তাহ পালনের কর্মসূচির কারণে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না।
চতুর্থত, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত, নগদ অর্থ বা উপহারসামগ্রী বাবদ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবর্তে প্রয়োজনভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
পঞ্চমত, কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
দিবস পালন মানেই কি সরকারি ছুটি?
নতুন পরিপত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন বা পালনের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এতে তালিকাভুক্ত সব দিবসকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়নি।
কোনো দিবস জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের জন্য নির্ধারিত হলেই সেদিন সব সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে—এমন সিদ্ধান্ত এই পরিপত্র থেকে পাওয়া যায় না।
সরকারি ছুটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পৃথক ছুটির প্রজ্ঞাপন ও সরকারি ছুটির তালিকা অনুসরণ করতে হবে।
একইভাবে, কোনো দিবস সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশ থাকলেও সেটি সরকারি ছুটি বাতিলের নির্দেশনা হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
নতুন নির্দেশনার প্রভাব কী হতে পারে?
নতুন পরিপত্রের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে দিবসের গুরুত্ব অনুযায়ী অনুষ্ঠান আয়োজন, সরকারি অর্থের যৌক্তিক ব্যবহার এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরগুলোতে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারি অর্থের সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমানো এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা যায়।
তবে নির্দেশনার বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও মাঠপ্রশাসনের যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর।
শেষ কথা
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন এবং পালনের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন পরিপত্র সরকারি প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনামূলক দলিল।
এতে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন, ঐতিহ্যগত ও সচেতনতামূলক দিবসের অনুষ্ঠানে ব্যয়সীমা অনুসরণ এবং প্রতীকী দিবস সীমিত পরিসরে পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব বজায় রাখা এবং অনুষ্ঠান আয়োজনে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করলে দিবস ও সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠান আরও পরিকল্পিত, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর হতে পারে।
তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন/পালন সংক্রান্ত পরিপত্র, ১১ অক্টোবর ২০২৬ (৫ পৃষ্ঠা)।

