bd Service Rules

সরকারি অফিসে স্যুট-টাই পরার নিয়ম কী? গরমের পোশাক নিয়ে পুরোনো পরিপত্রে যা বলা হয়েছিল

সরকারি অফিসে কর্মকর্তাদের পোশাক পরিধান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জারি করা সরকারি পরিপত্রে দাপ্তরিক শালীনতা, আবহাওয়ার উপযোগিতা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গরমের সময়ে স্যুট-টাইয়ের পরিবর্তে প্যান্ট ও শার্ট পরিধান এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের তাপমাত্রা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক নির্দেশনার তথ্য পাওয়া যায়। এসব পরিপত্র নতুন করে আলোচনায় আসায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে পোশাকসংক্রান্ত বিধান সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সরবরাহ করা সরকারি নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছরে অফিসে পোশাক পরিধানসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি, পুনরায় অনুসরণের তাগিদ এবং সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এসব পুরোনো নথির সব নির্দেশনা বর্তমানে অপরিবর্তিতভাবে কার্যকর রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সর্বশেষ সরকারি আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।

মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ জুন ২০১২ তারিখের একটি পরিপত্রে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের পুরুষ কর্মকর্তাদের অফিসে পোশাক পরিধান সম্পর্কে নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে। এতে মার্চ থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলে স্যুট-টাই পরিধান না করে প্যান্ট ও শার্ট পরিধানের কথা বলা হয়েছে।

নথিতে অর্ধহাতা অথবা পূর্ণহাতা শার্ট পরিধানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গরমের সময়ে দাপ্তরিক পরিবেশ ও শালীনতা বজায় রেখে তুলনামূলক আরামদায়ক পোশাক ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।

তবে নির্দেশনায় আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা রয়েছে। ফলে কোনো দাপ্তরিক অনুষ্ঠান, বিশেষ দায়িত্ব বা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাকবিধি থাকলে সংশ্লিষ্ট বিধান যাচাই করা জরুরি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এয়ারকন্ডিশনারের তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস

পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনার পাশাপাশি সরকারি নথিতে বিদ্যুতের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের তাপমাত্রা নিয়েও নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য ছিল অফিসে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা। অর্থাৎ, শুধু পোশাকের বিষয় নয়, বরং অফিস পরিচালনায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও একই নীতিগত প্রেক্ষাপটে বিবেচিত হয়েছিল।

তবে এয়ারকন্ডিশনারের তাপমাত্রা ও পোশাক পরিধানের নির্দেশনা দুটি পৃথক বিষয়। একটি নির্দেশনার উল্লেখ থাকলেই অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত বা বাতিল হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

২০১৩ সালে আগের নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব

সরবরাহ করা নথির মধ্যে ১৩ মে ২০১৩ তারিখে জারি করা আরেকটি পরিপত্রও রয়েছে। এতে বিদ্যুতের সাশ্রয় এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অফিসের পোশাক পরিধানসংক্রান্ত আগের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নথিতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, নির্দেশনা জারির পাশাপাশি তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো এবং বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২০১৭ সালে সংশোধন ও স্পষ্টীকরণ নিয়ে মতামত চাওয়া হয়

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখের একটি পত্রে কর্মকর্তাদের অফিসে পোশাক পরিধানসংক্রান্ত নির্দেশনা সংশোধন, স্পষ্টীকরণ অথবা সময়সীমা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মতামত চাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এ ধরনের পত্র থেকে বোঝা যায়, পূর্ববর্তী নির্দেশনা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে পর্যালোচনা বা মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে মতামত চাওয়া এবং চূড়ান্তভাবে কোনো বিধান সংশোধন করা এক বিষয় নয়।

তাই ২০১৭ সালের পত্রের ভিত্তিতে পোশাকসংক্রান্ত আগের নির্দেশনা বাতিল হয়েছে কিংবা নতুন কোনো নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে—এমন দাবি করা যাবে না। এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পরবর্তী চূড়ান্ত পরিপত্র বা সরকারি আদেশ প্রয়োজন।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নির্দেশনা পৌঁছানোর ব্যবস্থা

সরবরাহ করা নথিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা বিভাগের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অধিশাখা ও শাখায় পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সরকারি প্রশাসনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে পৌঁছানো এবং অধীনস্থ কর্মকর্তাদের তা অবহিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানে পৃথক পোশাকবিধি বা আনুষ্ঠানিক পোশাকের বাধ্যবাধকতা থাকলে সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়।

সরকারি চাকরিজীবীদের কী জানা প্রয়োজন?

পুরোনো পরিপত্রগুলো থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে।

প্রথমত, গরমের সময় স্যুট-টাই: ২০১২ সালের পরিপত্রে মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলে স্যুট-টাই পরিহার করে প্যান্ট ও শার্ট পরিধানের নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, দাপ্তরিক শালীনতা: আরামদায়ক পোশাকের সুযোগ থাকলেও অফিসের পরিবেশ, দায়িত্ব এবং প্রযোজ্য পোশাকবিধি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, বিদ্যুৎ সাশ্রয়: এয়ারকন্ডিশনার ব্যবহারের তাপমাত্রা নিয়ে নির্দেশনাটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল।

চতুর্থত, সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই: পুরোনো পরিপত্রের পাশাপাশি পরবর্তী সংশোধনী, স্পষ্টীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান আদেশ যাচাই করা জরুরি।

বর্তমানে কি সরকারি অফিসে স্যুট-টাই বাধ্যতামূলক?

সরবরাহ করা নথি থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে বাংলাদেশের সব সরকারি অফিসে স্যুট-টাই বাধ্যতামূলক, কিংবা স্যুট-টাই পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বরং ২০১২ সালের নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলে স্যুট-টাই পরিহার করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমানে কোন নির্দেশনা কার্যকর, তা নির্ধারণ করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সর্বশেষ পরিপত্র, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আদেশ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রযোজ্য পোশাকবিধি যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পুরোনো নির্দেশনার পর কোনো সংশোধনী জারি হয়ে থাকলে সেটিই পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

উপসংহার

সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসে পোশাক পরিধানসংক্রান্ত পুরোনো পরিপত্রগুলোতে দাপ্তরিক শালীনতা, গরমের উপযোগী পোশাক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১২ সালের নির্দেশনায় মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা না থাকলে স্যুট-টাইয়ের পরিবর্তে প্যান্ট ও শার্ট পরিধানের কথা উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্দেশনা অনুসরণ এবং তা সংশোধন বা স্পষ্টীকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশাসনিক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব নথির ভিত্তিতে বর্তমান কার্যকর বিধান সম্পর্কে চূড়ান্ত দাবি করার আগে সর্বশেষ সরকারি আদেশ যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পন্থা।

সোর্স অব ইনফরর্মেশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *