ই পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য

দুবাই কনস্যুলেট জেনারেলের নির্দেশনা ২০২৫ । হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন দাখিলের নিয়ম কি?

দুবাই এবং উত্তর আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট রি-ইস্যুর জন্য আবেদন দাখিলের বিস্তারিত নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে -দুবাই কনস্যুলেট জেনারেলের নির্দেশনা ২০২৫

আবেদন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পদ্ধতি কি? আবেদন ফরম: আবেদনকারীকে অনলাইনে (www.epassport.gov.bd) পূরণকৃত ‘ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরম’ অথবা এমআরপি’র জন্য ‘রি-ইস্যু/তথ্য পরিবর্তন/সংশোধন আবেদন ফরম’ (www.passport.gov.bd) এ আবেদন করতে হবে । হারানো সনদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) পুলিশ কর্তৃক ইস্যুকৃত ‘হারানো সনদ (Lost Certificate)’ এর মূল কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক । পাসপোর্টের অনুলিপি হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টের অনুলিপি (Photocopy) দাখিল করতে হবে । অবস্থান/বসবাসের প্রমাণপত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগমন, অবস্থান বা বসবাসের প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে । এমিরেটস আইডি ‘এমিরেটস আইডি’র মূল কপি উপস্থাপন করতে হবে ।

মূল পাসপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে? হাতে লিখে পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের সুযোগ নেই । পাসপোর্ট সংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য অবশ্যই মূল পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে । সর্বত্র পাসপোর্টে প্রদত্ত স্বাক্ষরের অনুরূপ স্বাক্ষর করতে হবে এবং স্বাক্ষরের নিচে নিজের পূর্ণ নাম ও মোবাইল নম্বর লিখতে হবে । ভিসা ও ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা পরিহারের স্বার্থে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কমপক্ষে আট মাস পূর্বে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন করা যৌক্তিক । পাসপোর্ট বিষয়ক সমস্যা জটিল হলে পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করা যেতে পারে ।

আবেদনের অগ্রগতি জানা:

  • ই-পাসপোর্টের আবেদনের অগ্রগতি www.epassport.gov.bd ঠিকানা হতে জানা যায় ।
  •  

    এমআরপি আবেদনের অগ্রগতি জানতে www.passport.gov.bd ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে ।

সূত্র: পাসপোর্ট করার নিয়ম

এমআরপি (MRP) রি-ইস্যু/তথ্য পরিবর্তন/সংশোধন এর নিয়মাবলী। পাসপোর্ট নবায়ন ও রি-ইস্যুর সাধারণ নিয়ম:

  • পাসপোর্ট নবায়নের জন্য এই ফরমটি পূরণ করতে হবে এবং এর সাথে বর্তমান পাসপোর্টের ফটোকপি ও ব্যাংকে টাকা জমার রশিদ সংযুক্ত করতে হবে।
  • আবেদনপত্র জমা এবং ইস্যুকৃত পাসপোর্ট গ্রহণের সময় পুরাতন পাসপোর্টটি অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে।
  • তথ্য পরিবর্তন/সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

জরুরি সুবিধা পাওয়ার নিয়মাবলী (সাধারণ ফি জমা করে):

কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাধারণ ফি জমা করেও জরুরি সুবিধা পাওয়া যায়:

  • সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারী ও তাদের স্বামী/স্ত্রী, এবং সরকারি চাকুরীজীবীর নির্ভরশীল ১৫ বছরের কম বয়সী সন্তানরা এই সুবিধা পাবেন।
    • এক্ষেত্রে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি সনদ (NOC) ওয়েবসাইটে আপলোড পূর্বক দাখিল করতে হবে।
  • অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরীজীবী ও তাদের স্বামী/স্ত্রী এই সুবিধা পাবেন।
    • এক্ষেত্রে অবসরের সনদ জমা দিতে হবে।

তথ্য পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

বিদ্যমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (MRP) তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রি-ইস্যুর আবেদনের জন্য নিম্নরূপ কাগজপত্র প্রয়োজন:

ক্র: নংপরিবর্তনযোগ্য তথ্যপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র
১.ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, ড্রাইভার ইত্যাদি টেকনিক্যাল পেশাশিক্ষাগত/পেশাগত সনদ।
২.নিজের নাম/পিতা/মাতার নাম আংশিক পরিবর্তন(১) জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদ এর অনলাইন কপি। (২) অঙ্গীকারনামা।
৩.নিজের নাম/পিতা/মাতার নাম পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন (এরূপ ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনের পর পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে)(১) জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদ এর অনলাইন কপি। (২) অঙ্গীকারনামা।
৪.বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন/বিবাহ বিচ্ছেদনিকাহনামা/তালাকনামা (যেটি প্রযোজ্য)।
৫.জন্ম তারিখ পরিবর্তন(১) জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন সনদ এর অনলাইন কপি। (২) অঙ্গীকারনামা।
৬.স্থায়ী ঠিকানাজাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি।

আপনার প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:


পাসপোর্ট রি-ইস্যু (Re-Issue) প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী

১. আবেদন ফরম পূরণ

  • প্রথমে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.passport.gov.bd) প্রবেশ করতে হবে।
  • সেখানে গিয়ে রি-ইস্যু বা তথ্য পরিবর্তন/সংশোধনের জন্য আবেদন ফরমটি পূরণ করতে হবে।

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন জমা দেওয়ার সময় নিম্নোক্ত কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • পূরণকৃত আবেদন ফরম।
  • বর্তমান পাসপোর্টের ফটোকপি।
  • ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ।
  • তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে, তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র।
  • আবেদন জমা ও পাসপোর্ট গ্রহণের সময় আসল (মূল) পাসপোর্ট অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে এবং প্রদর্শন করতে হবে।

৩. আবেদনপত্র জমা ও বায়োমেট্রিক তথ্য গ্রহণ

  • পূরণকৃত ফরম, ফটোকপি, রশিদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মূল পাসপোর্টটি নিয়ে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।
  • আবেদন জমা দেওয়ার পর, আপনার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ, ছবি ও স্বাক্ষর) নেওয়া হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য

  • পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে যেকোনো সময় পাসপোর্ট রি-ইস্যুর জন্য আবেদন করা যায়।
  • পাসপোর্টে কোনো তথ্য (যেমন ছবি বা স্বাক্ষর) পরিবর্তন করতে চাইলে, সেই সম্পর্কিত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *