সরকারি আদেশ ও তথ্য

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাঙ্ক্ষিত বদলি নীতিমালা প্রকাশ: প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও থাকছে সুযোগ

অবশেষে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত)’ জারি করেছে। গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এবারের নীতিমালায় সাধারণ শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বদলির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নীতিমালার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বদলির সুযোগ: নতুন নীতিমালার ১.২ ধারা অনুযায়ী, ‘শিক্ষক’ বলতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক), সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান (সহকারী প্রধান শিক্ষক), প্রদর্শক এবং ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষককে বোঝানো হবে। ফলে এখন থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানরাও নীতিমালার শর্ত মেনে বদলির আবেদন করতে পারবেন।

২. আবেদনের শর্তাবলী:

  • চাকরির মেয়াদ: প্রথম যোগদানের পর কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ হলে শিক্ষকরা বদলির আবেদন করতে পারবেন।

  • পরবর্তী বদলি: একবার বদলি হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে ন্যূনতম ২ বছর কর্মরত না থাকা পর্যন্ত পুনরায় বদলির আবেদন করা যাবে না।

  • সর্বোচ্চ সুযোগ: একজন শিক্ষক তার সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ ৩ বার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।

৩. অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বদলি: একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদনকারী থাকলে বেশ কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • নারী শিক্ষক।

  • দূরত্ব (বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত জেলার দূরত্ব)।

  • স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল।

  • চাকরির জ্যেষ্ঠতা।

৪. অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে বদলির আবেদন গ্রহণ করবে। প্রতি বছর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। শিক্ষকরা তাদের নিজ জেলা বা বিভাগের শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া স্বামী/স্ত্রীর নিজ জেলা বা কর্মস্থলের জেলাতেও বদলির আবেদনের সুযোগ থাকছে।

৫. বদলির সীমাবদ্ধতা: একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষককে এক বছরে বদলির সুযোগ দেওয়া হবে না। এছাড়া কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত বা ‘স্টপ পেমেন্ট’ চালু থাকলে তিনি বদলির অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

৬. আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধাদি: বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবমুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। বদলিকৃত শিক্ষকরা কোনো প্রকার টিএ/ডিএ (ভ্রমণ ভাতা) পাবেন না। তবে বদলির ফলে তাদের ইনডেক্স নম্বর এবং চাকরির জ্যেষ্টতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

উপসংহার: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় গতিশীলতা আসবে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বদলির আওতায় আনায় প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *