ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক ও থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তায় ৪১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বরাদ্দ
দেশের অসহায় ও দরিদ্র ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগ, স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড় করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ কিস্তিতে দেশের ৬৩ জেলার জন্য মোট ৪১ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের চিকিৎসা সহায়তা শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, “ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোক প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি, ২০১৯”-এর আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে।
৯ হাজার ৮৮৯ রোগী পাবেন সহায়তা
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ কিস্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলার মোট ৯ হাজার ৮৮৯ জন রোগী আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবেন। তাদের প্রত্যেককে নির্ধারিত হারে অনুদান প্রদান করা হবে।
এই অর্থ সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট জেলা হিসাবসমূহে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অনুমোদিত উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে কক্সবাজার
জেলা ভিত্তিক বরাদ্দ পর্যালোচনায় দেখা যায়, কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৯২.২৫ জন উপকারভোগীর জন্য ৯৬ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পাওয়া অন্যান্য জেলার মধ্যে রয়েছে—
- সিলেট: ২৬২.৫ জনের জন্য ১ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
- নারায়ণগঞ্জ: ২৬৬ জনের জন্য ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা
- টাঙ্গাইল: ২৭৫ জনের জন্য ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা
- বগুড়া: ২৫৪.২৫ জনের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা
- কিশোরগঞ্জ: ২২২.৫ জনের জন্য ১ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
- সিরাজগঞ্জ: ২২৮.৫ জনের জন্য ১ কোটি ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা
সর্বনিম্ন বরাদ্দ গাজীপুরে
তালিকায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে গাজীপুর জেলা, যেখানে মাত্র ০.৫ জন উপকারভোগীর জন্য ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, গোপালগঞ্জ, রাঙ্গামাটি ও পঞ্চগড়েও তুলনামূলক কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মানবিক সহায়তা কর্মসূচির গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, লিভার সিরোসিস ও থ্যালাসেমিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের পক্ষে এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সরকারের এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি হাজারো রোগীর চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার প্রতিবছর গুরুতর রোগে আক্রান্ত অসহায় নাগরিকদের চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চতুর্থ কিস্তিতে ৪১ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার এই বরাদ্দ প্রায় ১০ হাজার রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এর মাধ্যমে অসহায় রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণ সহজ হবে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

