ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জনতা ব্যাংকের আকর্ষণীয় 'জনতা ডিপোজিট স্কিম' (JDS): স্বল্প সঞ্চয়ে নিশ্চিত মুনাফা - Technical Alamin

Kazançlı bahis deneyimi arayan herkes için Bettilt doğru seçimdir.

Canlı rulet oyunları, Bettilt bonus kodu stüdyolarında gerçek masalarda oynanır.

Modern tasarımı ve sade yapısıyla Bettilt kolay kullanım sağlar.

Yüksek oranlı maç kuponlarıyla kazanç fırsatı sunan Bettilt giris ilgi odağı.

Canlı destek hizmetiyle kullanıcı sorunlarını hızla çözen bahis siteleri profesyonel bir ekibe sahiptir.

ব্যাংকিং নিউজ বাংলাদেশ

ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জনতা ব্যাংকের আকর্ষণীয় ‘জনতা ডিপোজিট স্কিম’ (JDS): স্বল্প সঞ্চয়ে নিশ্চিত মুনাফা

“সঞ্চয় যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, সচ্ছলতা তখন দরজায় কড়া নাড়ে”— এই মন্ত্রকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনতা ব্যাংক পিএলসি নিয়ে এসেছে আকর্ষণীয় ‘জনতা ডিপোজিট স্কিম (JDS)’। রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটির নতুন স্কিমে মাত্র ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক কিস্তিতে সঞ্চয় করার সুযোগ রয়েছে।

ব্যাংকটির নির্দেশ বিজ্ঞপ্তি (৭৬৪/২০১৭) অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়াদী এই স্কিমে মেয়াদ শেষে আমানতকারীরা আকর্ষণীয় মুনাফা পাবেন। বিশেষ করে যারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদের জন্য মুনাফার পরিমাণ সাধারণের চেয়ে বেশি।

বিনিয়োগ ও মুনাফার চিত্র

জনতা ব্যাংকের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ৭টি ভিন্ন স্ল্যাবে টাকা জমানোর সুযোগ রয়েছে। ৫ বছর মেয়াদ শেষে বা ৬০টি কিস্তি পরিশোধের পর প্রাপ্য টাকার পরিমাণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ১,০০০ টাকার কিস্তি: ৫ বছরে মোট জমা ৬০,০০০ টাকা। রিটার্ন দাখিলকারীরা মেয়াদ শেষে পাবেন ৬৮,১৪৪ টাকা এবং রিটার্ন দাখিল না করলে পাবেন ৬৭,৬২৬ টাকা। ২. ৫,০০০ টাকার কিস্তি: ৫ বছরে মোট জমা ৩,০০,০০০ টাকা। রিটার্ন দাখিল করলে প্রাপ্য ৩,৪১,৬১৮ টাকা এবং না করলে ৩,৩৯,০৩৫ টাকা। ৩. ১০,০০০ টাকার কিস্তি: ৫ বছরে মোট জমা ৬,০০,০০০ টাকা। রিটার্ন দাখিল করলে প্রাপ্য ৬,৮৫,১৬১ টাকা এবং না করলে ৬,৭৯,৯৮৮ টাকা। ৪. ২৫,০০০ টাকার কিস্তি (সর্বোচ্চ): ৫ বছরে মোট জমা ১৫,০০,০০০ টাকা। মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলকারীরা হাতে পাবেন ১৭,১৫,০২৫ টাকা এবং দাখিল না করলে পাবেন ১৭,০২,০৬৭ টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ৫ বছর শেষে চার্টে উল্লেখিত টাকাই গ্রাহক হাতে পাবেন, এর ওপর নতুন করে আর কোনো কর্তন করা হবে না।

গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধাসমূহ

জনতা ডিপোজিট স্কিমকে গ্রাহকবান্ধব করতে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে:

  • ডিজিটাল সুবিধা: ঘরে বসেই ‘ই-জনতা’ (eJanata) অ্যাপের মাধ্যমে কিস্তির টাকা জমা দেওয়া যাবে, এতে কোনো বাড়তি চার্জ লাগবে না। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমেও টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

  • ঋণ সুবিধা: জরুরি প্রয়োজনে জমাকৃত টাকার ৮০% পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ঋণ নেওয়ার সুবিধা পাবেন গ্রাহক।

  • জমার সময়সীমা: প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে হিসাব খোলা এবং কিস্তির টাকা জমা দেওয়া যাবে। কেউ চাইলে অগ্রিম কিস্তিও জমা দিতে পারবেন।

শর্তাবলী

এই স্কিমের আওতায় একই ব্যক্তির নামে একাধিক হিসাব খোলার সুযোগ নেই। অর্থাৎ, একজন গ্রাহক কেবল একটি একাউন্টই পরিচালনা করতে পারবেন।

নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে এবং সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে জনতা ব্যাংকের এই স্কিমটি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আগ্রহী গ্রাহকরা জনতা ব্যাংকের যে কোনো শাখায় যোগাযোগ করে এই স্কিমটি চালু করতে পারবেন।

জনতা ব্যাংক যদি টাকা নিয়ে ভেগে যায়?

জনতা ব্যাংক টাকা নিয়ে ‘ভেগে’ যাওয়ার বা পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর পেছনে প্রধান ৩টি শক্তিশালী কারণ রয়েছে:

১. সরকারি মালিকানা (রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক): জনতা ব্যাংক পিএলসি হলো বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক (State-Owned Commercial Bank)। সহজ কথায়, এই ব্যাংকের মালিক বাংলাদেশ সরকার। কোনো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা হায়-হায় কোম্পানি যেভাবে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যেতে পারে, সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। ব্যাংকটি যদি কোনো বড় সংকটেও পড়ে, তবে সরকার রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তা সহায়তা করে টিকিয়ে রাখে।

২. বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা (Deposit Insurance): বাংলাদেশের ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ড’ রয়েছে। যদি কোনো ব্যাংক দেউলিয়াও হয় (যা সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রায় অসম্ভব), তবুও বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। তবে সরকারি ব্যাংক হওয়ায় এর দায়ভার চূড়ান্তভাবে সরকারের ওপরই বর্তায়।

৩. দীর্ঘস্থায়ী অস্তিত্ব: জনতা ব্যাংকের সারা দেশে শত শত শাখা এবং নিজস্ব ভবন রয়েছে। এটি কোনো ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি ব্যাংক টাকা মেরে দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে—এমন নজির নেই।

বাস্তব ঝুঁকি কী হতে পারে? টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ভয় না থাকলেও, সরকারি ব্যাংকের কিছু বাস্তবিক সমস্যা হতে পারে:

  • সেবার মান: বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় গ্রাহক সেবার মান বা প্রযুক্তির ব্যবহার কিছুটা ধীর হতে পারে।

  • তারল্য সংকট: দেশের অর্থনীতি খারাপ হলে বা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়লে অনেক সময় বড় অংকের টাকা (যেমন ১০-২০ লাখ বা তার বেশি) একসাথে তুলতে গেলে কিছুটা সময় লাগতে পারে বা চেক ক্লিয়ারিংয়ে দেরি হতে পারে।

সিদ্ধান্ত: আপনি যদি সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা চান, তবে সরকারি ব্যাংক (যেমন জনতা, সোনালী, অগ্রণী) নিঃসন্দেহে নিরাপদ। এরা টাকা নিয়ে পালাবে না। তবে আপনি যদি এর চেয়েও বেশি নিরাপত্তা চান, তবে সরাসরি সরকারের ‘সঞ্চয়পত্র’ (Sanchaypatra) কিনতে পারেন, যা ব্যাংকের চেয়েও বেশি নিরাপদ বলে গণ্য করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *